ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ২৭ Jul ২০২৬,  ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রপ্তানি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ১৫ শতাংশ, আয় হতে পারে ৬৩.৪ বিলিয়ন ডলার রাজধানীতে ১৮ মন্ত্রী চলবেন এসকর্ট ছাড়া, বহাল থাকছে ৭ জনের সুবিধা সাতক্ষীরায় অপরিকল্পিত মৎস্য ঘের: পানিবন্দী হাজারও মানুষ, সড়ক-শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্লাবিত সাতক্ষীরার তিন হাসপাতালে হঠাৎ স্বাস্থ্যমন্ত্রী, অনুপস্থিত দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট দল ঘোষণা, নেই নাহিদ-লিটন সেনা কর্মকর্তাদের পদোন্নতি হোক মেধা ও যোগ্যতায়: প্রধানমন্ত্রী হামের উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১১৬০ জামায়াত জোট ছাড়ার গুঞ্জন নাকচ করল নেজামে ইসলাম চলনবিলে অবাধে ব্যবহার হচ্ছে নিষিদ্ধ চায়নাদুয়ারী জাল লক্ষ্মীপুরে উৎসবমুখর পরিবেশে ধারণ হলো ‘ইত্যাদি’র বিশেষ পর্ব

লংমার্চ নিয়ে শিক্ষার্থীদের অবস্থান

শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে উত্তাল সচিবালয়


  • আপলোড সময় : বুধবার ১৫ জুলাই, ২০২৬ সময় : ৫:৫০ পিএম

তীব্র বৈরী আবহাওয়া ও বন্যা পরিস্থিতির মধ্যে এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত এবং পরীক্ষার্থীদের নিয়ে ‘অবমাননাকর’ মন্তব্য করার প্রতিবাদে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে সচিবালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করছেন আন্দোলনরত এইচএসসি শিক্ষার্থীরা। আজ বুধবার (১৫ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৩টার পর রাজধানীর সায়েন্সল্যাব মোড় থেকে বিশাল এক লংমার্চ নিয়ে শিক্ষার্থীরা সচিবালয়ের ফটকের সামনে এসে জড়ো হন এবং অবস্থান নেন। আকস্মিক এই অবস্থানের কারণে সচিবালয় ও আশপাশের এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সেখানে ব্যাপক দাঙ্গা পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সতর্ক অবস্থানে রাখা হয়েছে।

এর পাশাপাশি আজ দ্বিতীয় দিনের মতো উত্তরার বিএনএস সেন্টারের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করা অপর একটি বড় অংশ শিক্ষা মন্ত্রণালয় অভিমুখে অভিন্ন দাবিতে লংমার্চ শুরু করে। আন্দোলনরত পরীক্ষার্থীরা স্পষ্ট ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, বিতর্কিত ও বিদ্রূপাত্মক মন্তব্যকারী শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগ না করা পর্যন্ত তারা রাজপথ ছাড়বেন না এবং আন্দোলন অব্যাহত রাখবেন।

এর আগে দুপুর আড়াইটার দিকে রাজধানীর সায়েন্সল্যাব মোড় অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। অবরোধের কারণে ব্যস্ততম এই সড়কের সব ধরনের যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায় এবং আশপাশের এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। সেখানে প্রায় ঘণ্টাখানেক অবস্থানের পর শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের এক দফা দাবিতে স্লোগান দিতে দিতে শিক্ষার্থীরা সায়েন্সল্যাব রাস্তা ছেড়ে সচিবালয়ের দিকে অগ্রসর হতে শুরু করেন।

অন্যদিকে, পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী আজ দুপুর দেড়টায় উত্তরার বিএনএস সেন্টারের সামনে জড়ো হন সাধারণ এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা। সেখানে তারা রাস্তা অবরোধ করে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগসহ নানা স্লোগানে রাজপথ কাঁপিয়ে তোলেন। বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, গণমাধ্যমে আপত্তিকর ও বিদ্রূপাত্মক মন্তব্য করার জন্য শিক্ষামন্ত্রী ক্ষমা চাইলেও তাদের মূল দাবিদাওয়ার বিষয়ে কোনো স্পষ্ট কথা বলেননি বা সমাধান দেননি। শিক্ষার্থীরা অবিলম্বে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় অনুষ্ঠিত হওয়া ‘পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র’ এবং ‘হিসাববিজ্ঞান প্রথম পত্র’ পরীক্ষা দুটি বাতিল করে পুনরায় নেওয়ার জোর দাবি জানান।

উল্লেখ্য, চরম বন্যা পরিস্থিতির মধ্যেই গত সোমবার জোরপূর্বক পরীক্ষা নেওয়া এবং পরীক্ষার্থীদের অবমাননা করে ‘ফার্মের মুরগি’ বলে মন্তব্য করার প্রতিবাদে গতকাল মঙ্গলবার সকাল থেকেই ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন শিক্ষাবোর্ডের সামনে এবং গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কে বিক্ষোভ শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। রাজধানী ঢাকা বোর্ডের সামনে ছাড়াও সায়েন্সল্যাব, উত্তরা, ময়মনসিংহ, বরিশাল, বগুড়া, নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে শিক্ষার্থীরা একযোগে সড়ক অবরোধ ও সমাবেশ করেন। একপর্যায়ে গতকাল বিকেলে সংসদ ভবন এলাকার সামনে দীর্ঘ সময় অবস্থান নেন সংক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীদের লাগাতার এই আন্দোলনের মুখে গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে নিজের করা মন্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করতে বাধ্য হন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। সংসদে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, “আমার ব্যক্তিগত মন্তব্য নিয়ে অনেকেই আপত্তি জানিয়েছেন। আমি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কাউকে কিছু বলিনি। তারপরও আমার বক্তব্যে কেউ যদি আহত হয়ে থাকেন, সেজন্য আমি আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি।” তবে শিক্ষামন্ত্রীর এই দুঃখ প্রকাশে শান্ত হননি শিক্ষার্থীরা। আজ বুধবার তারা পুনরায় রাজপথে নেমে আসেন এবং শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের এক দফা দাবিতে আন্দোলন আরও তীব্র করে তোলেন।


এ সম্পর্কিত আরো খবর