আর্জেন্টিনা ফুটবল দলের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করতে পাবনার বেড়ায় এক অভিনব দৃশ্যের অবতারণা হয়েছে। কোনো প্রকার পারিশ্রমিক ছাড়াই কেবল প্রিয় দলের প্রতি গভীর আবেগ থেকে চার হাজারেরও বেশি শিশু-কিশোর ও ভক্তদের মুখে এবং হাতে আর্জেন্টিনার আকাশি-সাদা পতাকা এঁকে দিয়েছেন হাসমত আলী ওরফে টোকোন (৪৮) নামের এক চিত্রশিল্পী। আজ বুধবার (১৫ জুলাই) বিশ্বকাপের মেগা সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হচ্ছে আর্জেন্টিনা। এই মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচটিকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই পাবনার বেড়া পৌর এলাকার বনগ্রাম মহল্লায় হাসমত আলীর বাড়িতে ভিড় জমাচ্ছেন শত শত ফুটবল অনুরাগী।
সরেজমিনে হাসমত আলীর বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, এক হাতে তুলি আর অন্য হাতে আকাশি-সাদা রঙের কৌটা নিয়ে অবিরাম কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। তাঁর সামনে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছে ৩০ থেকে ৪০ জন শিশু-কিশোর। কেউ হাত বাড়িয়ে দিচ্ছে, কেউবা গাল। এমনকি রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় অনেক অভিভাবক রিকশা থামিয়ে তাঁদের সন্তানদের মুখে আর্জেন্টিনার পতাকা আঁকিয়ে নিচ্ছেন। হাসমত আলীও কোনো রকম বিরক্তি ছাড়াই হাসিমুখে রিকশার পাশে গিয়ে তুলির আঁচড়ে এঁকে দিচ্ছেন প্রিয় দলের স্মারক।
পেশায় সাইনবোর্ড, ব্যানার ও বিলবোর্ড আঁকা হাসমত আলী ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপেও এভাবে বিনামূল্যে হাজারো মানুষের শরীরে পতাকা এঁকে ব্যাপক সাড়া ফেলেছিলেন। চার বছর পর সেই ভালোবাসার টান যেন আরও উৎসবে রূপ নিয়েছে। চলতি বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার বিগত ছয়টি ম্যাচকে কেন্দ্র করে তিনি প্রায় সাড়ে তিন হাজার মানুষের শরীরে পতাকা এঁকেছেন। আর আজকের হাইভোল্টেজ সেমিফাইনালকে ঘিরে সকাল থেকেই আরও ৫০০ জন ভক্তের শরীরে পতাকা এঁকে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছেন তিনি।
নিজের এই কাজের অনুভূতি প্রকাশ করে হাসমত আলী বলেন, “আর্জেন্টিনাকে মনে-প্রাণে ভালোবাসি বলেই সম্পূর্ণ ফ্রিতে এই কাজটা করি। আমার স্ত্রী ও দুই সন্তানসহ পরিবারের সবাই আর্জেন্টিনার কড়া সমর্থক। কেউ যখন ভালোবেসে আমার কাছে পতাকা আঁকাতে আসে, তখন টাকা নেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। মানুষের এই বাঁধভাঙা আনন্দের অংশ হতে পারাই আমার জীবনের বড় তৃপ্তি।” তিনি জানান, এই রঙ কিনতে নিজের পকেট থেকে এখন পর্যন্ত পাঁচ-ছয় শত টাকা খরচ হলেও এটিকে তিনি খরচ নয়, বরং পরম আনন্দ হিসেবেই দেখছেন।
স্থানীয় মনজুর কাদের মহিলা কলেজের সহকারী অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ এই উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, বিশ্বকাপ ফুটবল এখন কেবল একটি খেলার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, এটি আমাদের সামাজিক উৎসবে পরিণত হয়েছে। হাসমত আলীর মতো একজন সাধারণ মানুষের এই নিঃস্বার্থ প্রচেষ্টা শিশুদের আনন্দকে বহুলাংশে বাড়িয়ে দিয়েছে। আজ রাতের ম্যাচে আর্জেন্টিনা জয়লাভ করলে আগামীকাল ভোর থেকেই আবারও আকাশি-সাদা রঙের এই মিলনমেলা বসবে হাসমতের উঠানে।