ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ইন্দোনেশিয়ায় ২৪০ যাত্রী নিয়ে জাহাজ নিখোঁজ ঠাকুরগাঁও সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত, আটক ২ কমলা হ্যারিসের বাড়িতে অনধিকার প্রবেশের চেষ্টা, পুলিশি নিরাপত্তা জোরদার রাজধানীতে সকালের বৃষ্টিতে সড়কে ভোগান্তি, ঝোড়ো হাওয়ার পূর্বাভাস ইয়েমেনে ফের তীব্র সংঘাত, ১২৯টি হামলার দাবি হুথিদের উত্তরখানে যুবলীগের গোপন বৈঠক, পুলিশি অভিযানে গ্রেপ্তার ৮ বিচ্ছেদ গুঞ্জন উড়িয়ে ছেলের জন্মদিনে একফ্রেমে রাজ-শুভশ্রী বিয়ের আনন্দ রূপ নিল বিষাদে, সড়কে ঝরল ৪ প্রাণ ইউক্রেনজুড়ে রাশিয়ার ভয়াবহ বিমান হামলা, ৯ জনের প্রাণহানি সুইডেনে সংসদ নির্বাচন: কট্টর ডানপন্থীদের সরকারে আসার জোর সম্ভাবনা

নড়বড়ে আর্জেন্টাইন ডিফেন্স ভাঙতে কেইন-বেলিংহাম জুটিতেই ভরসা ইংল্যান্ডের


  • আপলোড সময় : বুধবার ১৫ জুলাই, ২০২৬ সময় : ৮:৪১ পিএম

চলতি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হওয়াটা ইংল্যান্ডের জন্য কেবল সাধারণ কোনো নকআউট ম্যাচ নয়। বরং ১৯৬৬ সালের সেই সোনালী ট্রফি জয়ের দীর্ঘ ৬০ বছর পর প্রথমবার বিশ্বমঞ্চের ফাইনালে ওঠার এক ঐতিহাসিক সুযোগ। ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আলবিসেলেস্তেদের হারানো নিশ্চিতভাবেই কঠিন এক চ্যালেঞ্জ, তবে অসম্ভব কোনো সমীকরণ নয়। বরং টমাস টুখেলের শিষ্যদের ফাইনালে পা রাখার পক্ষে অন্তত ৪টি অত্যন্ত জোরালো যুক্তি ও পরিসংখ্যান রয়েছে, যা ইংলিশ ফুটবল ভক্তদের মনে ৬০ বছরের আক্ষেপ মেটানোর স্বপ্ন নতুন করে বুনে দিচ্ছে।

প্রথমত, আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগের নড়বড়ে পরিস্থিতি ইংল্যান্ডের জন্য বড় সুযোগ হতে পারে। সেমিফাইনালে ওঠার দীর্ঘ পথপরিক্রমায় আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগকে কোনো ম্যাচেই খুব একটা স্বস্তিদায়ক বা জমাট মনে হয়নি। নকআউট পর্বের শেষ ৩২-এর ম্যাচে কেপ ভার্দে এবং কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডের বাধা টপকাতে লিওনেল স্কালোনির দলকে অতিরিক্ত সময় পর্যন্ত খেলতে হয়েছে। এছাড়া শেষ ষোলোর হাইভোল্টেজ ম্যাচে মিসরের বিপক্ষেও একপর্যায়ে ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়েছিল তারা। পুরো নকআউট পর্বে খেলা ৩টি ম্যাচে মোট ৫টি গোল হজম করেছে ল্যাটিন পরাশক্তিরা। চলমান টুর্নামেন্টের শেষ চারে ওঠা দলগুলোর মধ্যে গোলকিপিং ও শট সেভের দিক থেকেও সবচেয়ে পিছিয়ে (৫৭ শতাংশ) রয়েছে আর্জেন্টিনা। আগের প্রতিপক্ষগুলো যেভাবে ডিফেন্স ভেঙে সুযোগ তৈরি করেছে, ইংল্যান্ডের আক্রমণভাগ সেই দুর্বলতাকে আরও নিখুঁতভাবে কাজে লাগাতে প্রস্তুত।

দ্বিতীয়ত, হ্যারি কেইন এবং জুড বেলিংহামের জুটি এখন ধ্বংসাত্মক ফর্মে রয়েছে। এবারের আসরে ইংল্যান্ডের আক্রমণভাগের মূল চালিকাশক্তি হলেন এই দুই বিশ্বমানের ফুটবলার। দুজনেই ইতোমধ্যে প্রতিপক্ষের জালে ৬টি করে বল জড়িয়ে গোল্ডেন বুটের শক্ত দাবিদার হয়ে উঠেছেন। তরুণ মিডফিল্ডার বেলিংহাম শেষ ষোলোতে মেক্সিকো এবং কোয়ার্টার ফাইনালে নরওয়ের বিপক্ষে দুর্দান্ত জোড়া গোল করেছেন। বিশ্বকাপ ফুটবলের সুদীর্ঘ ইতিহাসে টানা দুটি নকআউট ম্যাচে জোড়া গোল করার বিরল কীর্তি এর আগে কেবল ডিয়েগো ম্যারাডোনারই ছিল। অন্যদিকে, দলের অভিজ্ঞ গোলমেশিন হ্যারি কেইনও আছেন চেনা মেজাজে। শেষ ৩২-এর ম্যাচে ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে দল পিছিয়ে পড়ার পর শেষ মুহূর্তের জোড়া গোল করে তিনি দলকে উদ্ধার করেছিলেন। নকআউটের মতো কঠিন চাপের ম্যাচে এই দুই তারকার গোল করার মানসিকতা যেকোনো রক্ষণভাগের জন্যই এক আতঙ্কের নাম।

তৃতীয়ত, আক্রমণে দারুণ সব সুযোগ তৈরির ক্ষমতায় টুখেলের দল সবার চেয়ে এগিয়ে। পুরো টুর্নামেন্ট জুড়েই ইংল্যান্ড প্রতিপক্ষের ডি-বক্সে ধারাবাহিকভাবে বড় বড় গোলের সুযোগ বা 'বিগ চান্স' তৈরি করে চলেছে। কখনো চমৎকার হেড, কখনো উইং ধরে চোখ ধাঁধানো কাটব্যাক কিংবা দ্রুতগতির প্রতি-আক্রমণ—নানা উপায়ে গোলের পরিস্থিতি সাজাতে পারছে দলটি। সেমিফাইনালের চার দলের মধ্যে সর্বোচ্চ ১৮টি নিশ্চিত গোলের সুযোগ তৈরি করেছে থ্রি লায়ন্সরা। আজকের ম্যাচে আর্জেন্টিনার ডিফেন্স যদি সামান্যতম জায়গাও ফাঁকা রাখে, তবে কেইন-বেলিংহামরা তার শতভাগ ফায়দা লুটতে ভুল করবেন না।

চতুর্থত, টুর্নামেন্টে এই প্রথম সত্যিকারের কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি হতে যাচ্ছে আর্জেন্টিনা। নকআউটের বাধা পেরিয়ে সেমিফাইনাল পর্যন্ত আসতে ল্যাটিন আমেরিকার দলটিকে কেবল কেপ ভার্দে, মিসর এবং সুইজারল্যান্ডের মতো অপেক্ষাকৃত সহজ প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে লড়তে হয়েছে। এ পর্যন্ত আসতে ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ ১৫-তে থাকা কোনো দলের বিরুদ্ধেই মাঠে নামতে হয়নি মেসিদের। তাই বলা চলে, টুর্নামেন্টে ইংল্যান্ডের বিপক্ষেই প্রথম বড় অগ্নিপরীক্ষা দিতে হবে স্কালোনির শিষ্যদের। অপেক্ষাকৃত ছোট দলগুলো যদি আর্জেন্টিনাকে কঠিন পরিস্থিতিতে ফেলতে পারে, তবে বিশ্ব র‍্যাঙ্কিংয়ের ৪ নম্বর দল হিসেবে ইংল্যান্ড অবশ্যই তাদের ম্যাচ থেকে ছিটকে দেওয়ার সামর্থ্য রাখে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর