ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ইন্দোনেশিয়ায় ২৪০ যাত্রী নিয়ে জাহাজ নিখোঁজ ঠাকুরগাঁও সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত, আটক ২ কমলা হ্যারিসের বাড়িতে অনধিকার প্রবেশের চেষ্টা, পুলিশি নিরাপত্তা জোরদার রাজধানীতে সকালের বৃষ্টিতে সড়কে ভোগান্তি, ঝোড়ো হাওয়ার পূর্বাভাস ইয়েমেনে ফের তীব্র সংঘাত, ১২৯টি হামলার দাবি হুথিদের উত্তরখানে যুবলীগের গোপন বৈঠক, পুলিশি অভিযানে গ্রেপ্তার ৮ বিচ্ছেদ গুঞ্জন উড়িয়ে ছেলের জন্মদিনে একফ্রেমে রাজ-শুভশ্রী বিয়ের আনন্দ রূপ নিল বিষাদে, সড়কে ঝরল ৪ প্রাণ ইউক্রেনজুড়ে রাশিয়ার ভয়াবহ বিমান হামলা, ৯ জনের প্রাণহানি সুইডেনে সংসদ নির্বাচন: কট্টর ডানপন্থীদের সরকারে আসার জোর সম্ভাবনা

৬৮ বছরের রেকর্ড ভেঙে সেমিফাইনালে নতুন ইতিহাস মেসির


  • আপলোড সময় : বৃহস্পতিবার ১৬ জুলাই, ২০২৬ সময় : ৮:৩২ এএম

মাঠে নামার আগেই ছিল আকাশচুম্বী চাপ, লক্ষ্য ছিল দলকে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে তোলা। আর্জেন্টাইন মহাতারকা লিওনেল মেসি সেই লক্ষ্য তো পূরণ করলেনই, সেই সঙ্গে ফুটবল ইতিহাসের পাতায় খোদাই করে নিলেন নিজের নাম। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ২০২৬ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের মঞ্চে পা রাখতেই ভেঙে চুরমার হয়ে গেল ৬৮ বছরের এক প্রাচীন রেকর্ড। কেবল রেকর্ড গড়াই নয়, থ্রিলার ম্যাচে দুই অ্যাসিস্টে দলকে জেতাতেও রাখলেন জাদুকরী ভূমিকা।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) আটলান্টায় অনুষ্ঠিত ফুটবল বিশ্বকাপের হাইভোল্টেজ সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেছে লিওনেল স্কালোনির দল। ম্যাচের শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তায় এনজো ফার্নান্দেজ এবং লাউতারো মার্তিনেজের গোলে অবিশ্বাস্য এক জয় পায় বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। আর আর্জেন্টিনার এই ঘুরে দাঁড়ানোর নেপথ্যের কারিগর ছিলেন অধিনায়ক মেসি নিজেই। দলের সমতাসূচক গোলের আগে শর্ট কর্নার থেকে এনজোকে বল বাড়িয়ে দেন তিনি। এরপর যোগ করা সময়ে লাউতারোর করা জয়সূচক হেডের সেই নিখুঁত ও জাদুকরী ক্রসটিও আসে এলএমটেনের জাদুকরী পা থেকেই।

এই ঐতিহাসিক ম্যাচে যখন মেসি মাঠে নামেন, তখন তার বয়স ৩৯ বছর ২১ দিন। আর এই বয়সে সেমিফাইনাল খেলে তিনি ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বয়স্ক আউটফিল্ড ফুটবলার হিসেবে ম্যাচ খেলার এক অনন্য কীর্তি স্থাপন করলেন।

এর আগে এই রেকর্ডটি প্রায় সাত দশক ধরে যৌথভাবে অক্ষত রেখেছিলেন জার্মানির ফ্রিৎস ভাল্টার এবং সুইডেনের গুনার গ্রেন। ১৯৫৮ সালের বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে যখন পশ্চিম জার্মানি ও সুইডেন মুখোমুখি হয়েছিল, তখন এই দুই তারকারই বয়স ছিল ঠিক ৩৭ বছর ২৩৬ দিন। দীর্ঘ ৬৮ বছর পর সেই পুরোনো ইতিহাসকে পেছনে ফেলে রেকর্ডটি একচ্ছত্রভাবে নিজের করে নিলেন আর্জেন্টাইন জাদুকর।

বিশ্বকাপের দীর্ঘ ও বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে রেকর্ড শব্দটাকে নিজের সমার্থক বানিয়ে ফেলেছেন এলএমটেন। সবচেয়ে বেশি বিশ্বকাপ ম্যাচ খেলা, টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়া, পাঁচটি ভিন্ন বিশ্বকাপে গোল ও অ্যাসিস্ট করার মতো অবিস্মরণীয় সব রেকর্ডের মুকুটে এবার যুক্ত হলো সম্পূর্ণ নতুন এই পালক।

মাঠের লড়াইয়েও ৩৯ বছর বয়সী এই তরুণ প্রথমার্ধে কিছুটা চেনা ছন্দের বাইরে থাকলেও, দ্বিতীয়ার্ধে খোলস ছেড়ে বেরিয়ে আসেন। তার পা থেকেই পরিচালিত হতে থাকে আর্জেন্টিনার একের পর এক আক্রমণ। যার চূড়ান্ত ফল হিসেবে তার জোড়া অ্যাসিস্টেই ইংল্যান্ডের মুখ থেকে জয় ছিনিয়ে এনে টানা দ্বিতীয়বারের মতো ফাইনাল নিশ্চিত করে আলবিসেলেস্তেরা।

এখন ফুটবল ঈশ্বরের সামনে সুযোগ নিজের রূপকথাকে আরও রঙিন করার। আগামী ২০ জুলাই ফাইনালে স্পেনকে হারাতে পারলে ২০২২ সালের পর টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বজয়ের স্বাদ পাবে আর্জেন্টিনা। আর ৩৯ বছর বয়সে এসে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ ট্রফি উঁচিয়ে ধরার এক অনন্য রেকর্ডের চূড়ায় বসবেন এই ফুটবল কিংবদন্তি।


এ সম্পর্কিত আরো খবর