২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের মহাকাব্যিক মেগা ফাইনালের কাউন্টডাউন শুরু হয়ে গেছে। নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে রোববারের সেই চূড়ান্ত মহারণে স্পেনের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। এই হাইভোল্টেজ হাইপ তোলা ম্যাচের আগে নিউইয়র্কে আয়োজিত ফিফার এক বিশেষ অনুষ্ঠানে প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়েছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক লিওনেল মেসি। সেখানে প্রতিপক্ষ শিবিরের কিশোর বিস্ময় লামিন ইয়ামালকে প্রশংসার জোয়ারে ভাসিয়েছেন এলএমটেন। তবে একই সাথে প্রচ্ছন্ন এক হুঁশিয়ারি দিয়ে মনে করিয়ে দিয়েছেন—ফুটবল ইতিহাসে নিজের নাম স্বর্ণাক্ষরে লিখতে হলে এই স্প্যানিশ তরুণকে অন্তত আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে।
নিউইয়র্কের সেই জমকালো অনুষ্ঠানে ফুটবলের জাদুকর লিওনেল মেসির সঙ্গে মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন আর্জেন্টিনার মাস্টারমাইন্ড কোচ লিওনেল স্কালোনি এবং বিশ্বস্ত গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজ। সেখানে ক্যারিয়ারের এই সায়াহ্নে এসেও ফুটবলের প্রতি নিজের নিখাদ ভালোবাসা, ফাইনালের মতো মেগা ম্যাচের স্নায়ুচাপ সামলানোর মানসিক কৌশল এবং প্রতিপক্ষের শক্তি নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।
অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে ফুটবলবিশ্বে তোলপাড় সৃষ্টি করা স্পেনের ১৯ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড ইয়ামালকে নিয়ে মেসি বলেন, ‘ইয়ামাল নিঃসন্দেহে একজন অসাধারণ ও অবিশ্বাস্য প্রতিভাবান ফুটবলার। আমি তাকে বেশ অনেক দিন ধরেই খুব কাছ থেকে অনুসরণ করছি, কারণ সে বর্তমানে এমন একটি ক্লাবের (বার্সেলোনা) হয়ে খেলছে, যেটিকে আমি মনে-প্রাণে ভালোবাসি। মাত্র ১৯ বছর বয়সেই সে যেভাবে বিশ্ব ফুটবলের নতুন এক আইকনে পরিণত হয়েছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। সামনে তার এক দীর্ঘ ও বর্ণিল ক্যারিয়ার পড়ে আছে এবং বিশ্ব ফুটবলে নতুন ইতিহাস গড়ার দারুণ সুযোগও তার সামনে রয়েছে। তবে আর্জেন্টিনা দলের অধিনায়ক হিসেবে আমি এটুকু বলতে পারি, আমরা মাঠে আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করব যেন ইতিহাস গড়ার সেই ঘটনাটি এবার (এই ফাইনালে) না ঘটে।’
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোড়ন সৃষ্টি করা শৈশবের সেই আইকনিক ছবি—যেখানে তরুণ মেসি পরম স্নেহে শিশু ইয়ামালকে কোলে নিয়ে আছেন, সেটি নিয়েও স্মৃতিচারণ করেন আর্জেন্টিনা অধিনায়ক। মৃদু হেসে মেসি বলেন, ‘আমি যখন বার্সেলোনায় চ্যারিটি ক্যালেন্ডারের জন্য ওর সঙ্গে ওই ছবিটা তুলেছিলাম, তখন সে ছিল একদম ছোট্ট একটা অবুঝ শিশু। আর আজ প্রায় দুই দশক পর বিশ্বকাপের ফাইনালে আমি সেই শিশুর বিপক্ষে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে মাঠে নামব—এটি সত্যিই অবিশ্বাস্য ও অলৌকিক। জীবনে কখনো কখনো এমন রূপকথার মতো ঘটনাও ঘটে! তবে আজ সে আর সেই শিশুটি নেই, বর্তমানে সে বিশ্বের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়দের একজন।’
স্প্যানিশ ক্লাব বার্সেলোনার প্রতি গভীর টান থেকেই ইয়ামালের প্রতি মেসির এই প্রচ্ছন্ন স্নেহ। তবে প্রশংসার আবহ পেরিয়ে রবিবারের ফাইনালে প্রতিপক্ষকে থামানোর ইস্পাতকঠিন প্রত্যয়ও জানিয়ে রেখেছেন তিনি। মেসি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ‘ব্যক্তিগতভাবে আমি চাই ওর ভবিষ্যৎ অত্যন্ত উজ্জ্বল হোক, কারণ ওর ভালো খেলার মানে আমার প্রিয় ক্লাব বার্সেলোনারও ভালো হওয়া। কিন্তু দিনশেষে এটি বিশ্বকাপের ফাইনাল। তাই মাঠে আমাদের মূল লক্ষ্য থাকবে আমরা যেন দলগতভাবে তাকে বোতলবন্দি করে রাখতে পারি এবং সে যেন কোনোভাবেই নিজের চেনা ছন্দের সেরা খেলাটা খেলতে না পারে। যদিও কাজটা আমাদের জন্য মোটেও সহজ হবে না। বর্তমান স্পেনের স্কোয়াডে একঝাঁক দুর্দান্ত খেলোয়াড় আছে এবং তাদের আক্রমণাত্মক খেলার ধরনও বেশ দৃষ্টিনন্দন। তবে আমাদেরও নিজেদের একটা আলাদা শক্তি ও চেনা কৌশল রয়েছে, যা দিয়ে আমরা ট্রফি ধরে রাখতে লড়ব।‘
উল্লেখ্য, এবারের বিশ্বকাপের প্রথম সেমিফাইনালে মঙ্গলবার রাতে সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ফ্রান্সকে ২-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে প্রথম দল হিসেবে ফাইনালে পা রাখে স্প্যানিশ লা রোহারা। আর তার পরদিনই দ্বিতীয় সেমিফাইনালে শক্তিশালী ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বার ফাইনালে স্পেনের সঙ্গী হয় আলবিসেলেস্তেরা। যুক্তরাষ্ট্রের মেটলাইফ স্টেডিয়ামে বিশ্বসেরা হওয়ার এই চূড়ান্ত লড়াইটি অনুষ্ঠিত হবে আগামী রোববার (বাংলাদেশ সময় সোমবার রাত ১টায়)। বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীরা এই হাইভোল্টেজ ফাইনাল ম্যাচটি সরাসরি উপভোগ করতে পারবেন খেলাধুলাভিত্তিক চ্যানেল টি স্পোর্টের পর্দায়।