২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের মেগা ফাইনালে আর্জেন্টিনা ও স্পেনের মহারণ ঘিরে ফুটবল বিশ্বে পারদ চড়ছে। আর যখন প্রতিপক্ষ দলে লিওনেল মেসির মতো মহাতারকা থাকেন, তখন যে কোনো কোচের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়াটাই স্বাভাবিক। চলতি বিশ্বকাপে আটটি গোল এবং চারটি অ্যাসিস্ট করে অবিশ্বাস্য ফর্মে রয়েছেন ৩৯ বছর বয়সী আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। যদিও গত দুই ম্যাচে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগ তাঁকে সরাসরি গোল করা থেকে বিরত রাখতে পেরেছে, কিন্তু জাদুকরী পাসে গোল বানিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন সমান অদম্য। স্বাভাবিকভাবেই রবিবারের ফাইনালে এলএমটেনের দিকে কড়া নজর রাখবে লা রোহারা। মেগা ফাইনালের মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে এই কিংবদন্তি ফরোয়ার্ডকে আটকানোর রণকৌশল নিয়ে নিজের ভাবনার কথা খোলামেলাভাবে জানিয়েছেন স্পেনের মাস্টারমাইন্ড কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে।
অতীতে বার্সেলোনার বিপক্ষে সেভিয়ার যুব দলকে কোচিং করানোর একটি রোমাঞ্চকর স্মৃতি স্মরণ করে মেসি সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেন স্পেন কোচ। তিনি বলেন, ‘সে সময় স্প্যানিশ কাপের একটি ম্যাচে বার্সেলোনার মুখোমুখি হতে গিয়েছিলাম আমরা। খেলা শুরুর আগে মেসি নামের একটি ছোট ছেলেকে নিয়ে আমি অনেক প্রশংসা শুনেছিলাম। তাই বাড়তি সতর্কতা হিসেবে ম্যাচের শুরু থেকেই তাকে কড়া ম্যান-টু-ম্যান মার্কিংয়ে (একজন খেলোয়াড় দিয়ে নির্দিষ্টভাবে আটকে রাখা) রেখেছিলাম। আমাদের সেই কৌশল দারুণ কাজে দিচ্ছিল এবং ম্যাচের ৭০ মিনিট পর্যন্ত স্কোরলাইন শূন্য-শূন্য ছিল। কিন্তু বিপত্তি ঘটল তখনই, যখন মেসিকে মার্ক করে রাখা আমাদের সেই খেলোয়াড়টি লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়ল। এরপরের দৃশ্যটি ছিল অবিশ্বাস্য! মাত্র ১৫ মিনিটের ব্যবধানে মেসি একাই চার-চারটি গোল করে আমাদের ম্যাচ থেকে ছিটকে দিয়েছিল।’
অতীতের সেই ভয়ংকর অভিজ্ঞতার সূত্র ধরে ফাইনালের রণকৌশল নিয়ে দে লা ফুয়েন্তে স্পষ্ট করে বললেন, ‘সেই ম্যাচের পর আমি ভালো করেই জানি সে কী করতে পারে। তাহলে প্রশ্ন উঠছে, রবিবারের ফাইনালে কি আমরা তাকে আগের মতো নির্দিষ্ট কোনো খেলোয়াড় দিয়ে ম্যান-টু-ম্যান মার্ক করব? না, তা করব না। কিন্তু আমরা কি তাকে পুরো ম্যাচজুড়ে কড়া নজরে রাখতে যাচ্ছি? হ্যাঁ, অবশ্যই।’ অর্থাৎ মেসিকে এককভাবে মার্ক না করে দলগত ডিফেন্স বা জোনাল মার্কিংয়ের মাধ্যমে বোতলবন্দি করার ছক কষছে স্প্যানিশ শিবির।
এদিকে এই হাইভোল্টেজ ম্যাচের আগে ফুটবল বিশ্বজুড়ে মেসির সঙ্গে স্পেনের ১৮ বছর বয়সী বিস্ময় বালক লামিন ইয়ামালের ব্যাপক তুলনা চলছে। দুই দশকের ব্যবধানে বার্সেলোনা থেকে উঠে আসা এই দুই প্রতিভার দ্বৈরথ দেখতে মুখিয়ে আছেন সমর্থকেরা। তবে স্পেন কোচ এখনই তাঁর প্রিয় ছাত্রকে অন্য এক কিংবদন্তির বিশাল ভারে জর্জরিত বা চাপের মুখে ফেলতে চান না। দে লা ফুয়েন্তে অত্যন্ত পরিপক্বতার সাথে বললেন, ‘লিওনেল মেসি ফুটবল বিশ্বে সম্পূর্ণ অদ্বিতীয়। সে এক অনন্য ও বিশাল প্রতিভা এবং সর্বোপরি বিশ্বজুড়ে তরুণ খেলোয়াড়দের জন্য এক চিরন্তন দৃষ্টান্ত। কিন্তু লামিনেকে লামিনেই থাকতে হবে। আমি মনে করি, অতিরিক্ত তুলনা না করে আমাদের উচিত তাকে মানসিক সমর্থন দিয়ে সাহায্য করা। আমরা তাকে যেভাবে একজন প্রতিভাবান লামিনে হিসেবে চিনেছি, তাকে স্বাধীনভাবে ঠিক সেভাবেই মাঠে থাকতে দেওয়া উচিত।’