২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের মেগা ফাইনালে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে বিশ্ব ফুটবলের দুই পরাশক্তি আর্জেন্টিনা ও স্পেন। নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামের এই মহাকাব্যিক ম্যাচে জয়ী হতে পারলে আর্জেন্টিনার ড্রেসিংরুমের মাস্টারমাইন্ড লিওনেল স্কালোনি কোচ হিসেবে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বজয়ের অনন্য স্বাদ পাবেন। তবে ফাইনালে প্রতিপক্ষ দলটির নাম যখন ‘স্পেন’, তখন স্কালোনির নিজের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনে এটি এক রাজকীয় আবেগের লড়াইয়ে রূপ নিয়েছে। কারণ, স্কালোনির স্ত্রী এবং তাঁর দুই সন্তানের জন্ম ও বেড়ে ওঠা এই স্পেনে হলেও, মাঠের লড়াইয়ে তাঁরা কোন পক্ষ নেবেন—তা নিয়ে ফুটবলপ্রেমীদের মাঝে তুমুল কৌতূহল তৈরি হয়েছে। অবশেষে মেগা ফাইনালের আগে সংবাদ সম্মেলনে এসে সেই রহস্যের জট খুললেন বিশ্বজয়ী এই আর্জেন্টাইন কোচ।
পরিবারের বাকি সদস্যদের অবস্থান পরিষ্কার করে স্কালোনি মুচকি হেসে জানান, তাঁর স্ত্রী ও দুই সন্তান স্পেনের নাগরিক হলেও, রবিবারের ফাইনালে তারা সবাই স্পেনের বিপক্ষে গিয়ে আর্জেন্টিনাকেই মনে-প্রাণে সমর্থন করবে। সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে স্কালোনি বলেন, ‘আমার স্ত্রী এবং আমার ছেলেরা অবশ্যই আমাদের পক্ষে, অর্থাৎ আকাশি-সাদা শিবিরের পক্ষেই থাকবে। আমার স্ত্রী জন্মসূত্রে একজন খাঁটি স্প্যানিশ হলেও সে খুব ভালো করেই বোঝে ও জানে যে আমার ভেতরে কী চলছে এবং এই আর্জেন্টিনা দলের জন্য আমি কতটা অনুভব করি। আর আমার ছেলেদের কথা তো বলাই বাহুল্য, তারা পুরোপুরি তাদের বাবার দলেই আছে।’
ফুটবলীয় ইতিহাসের পাতা ওল্টালে জানা যায়, স্কালোনির স্ত্রী এলিসা মনতেরোর সঙ্গে তাঁর প্রথম পরিচয় হয়েছিল ২০০৮ সালে স্পেনের বিখ্যাত দ্বীপ মায়োর্কায়। সে সময় ইতালির ক্লাব লাৎসিও থেকে ধারে মায়োর্কা ক্লাবের হয়ে খেলতে গিয়েছিলেন স্কালোনি। পরবর্তীতে সেখানেই এলিসার সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন এবং স্পেনেই তাঁদের সংসার শুরু হয়। ২০১২ সালে এই দম্পতির কোল আলো করে জন্ম নেয় বড় ছেলে ইয়ান এবং ২০১৬ সালে জন্ম নেয় ছোট ছেলে নোয়া। দুই সন্তানেরই জন্ম ও বেড়ে ওঠা স্পেনের মাটিতে। তবে জন্মসূত্রে স্প্যানিশ হলেও ছোটবেলা থেকেই বাবার গভীর ফুটবলীয় প্রভাবের কারণে ইয়ান ও নোয়া কট্টর আর্জেন্টিনা ভক্ত। ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপ এবং ২০২৪ সালের কোপা আমেরিকায় আর্জেন্টিনার শিরোপা উদযাপনের সময় বাবার পাশে আকাশি-সাদা জার্সি পরে তাদের বাঁধভাঙা উল্লাস করতেও দেখেছে পুরো বিশ্ব।
তবে নিজের ঘর আর্জেন্টিনার পক্ষে থাকলেও, স্ত্রীর পৈতৃক পরিবারের সবার অবস্থান কিন্তু এক নয় বলে অকপটে স্বীকার করেছেন স্কালোনি। বিশেষ করে তাঁর শ্বশুরবাড়ির আত্মীয়দের জন্য এই ফাইনালটি হতে যাচ্ছে এক চরম মনস্তাত্ত্বিক ও আবেগের লড়াই। স্কালোনি নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, ‘মায়োর্কায় আমাদের পরিবারের অন্য যে সদস্যরা (শ্বশুরবাড়ির পক্ষ) আছেন, এই ম্যাচের কারণে তাদের হৃদয় নিশ্চয়ই দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে যাবে। তাদের জন্য এটি সত্যিই কঠিন ও অদ্ভুত একটি পরিস্থিতি, আর আমি সেটি মন থেকে বুঝতে পারি। তবে যাই হোক না কেন, ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজার পর দিনশেষে তারা কোনো না কোনোভাবে খুশিই থাকবে।’
স্কালোনির স্ত্রীর পরিবারের সবাই মায়োর্কার স্থায়ী বাসিন্দা হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই তারা চাইবেন লুইস দে লা ফুয়েন্তের স্পেনই বিশ্বকাপ জিতুক। তবে তাদের জামাতা স্কালোনির হাত ধরে যদি আর্জেন্টিনা আবারও ব্যাক-টু-ব্যাক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়, তবে পরিবারের একাংশের (স্কালোনির সন্তান ও স্ত্রী) এই বাঁধভাঙা আনন্দ দেখে তারা মনে মনে সান্ত্বনা খুঁজে পাবেন বলেই বিশ্বাস করেন আলবিসেলেস্তেদের এই সফল রণকৌশলী।