যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর মাটিতে অনুষ্ঠিত ৪৮ দলের ফুটবল মহাযজ্ঞ এখন শেষের পাতায়। আগামী রোববারের মহাকাব্যিক মেগা ফাইনালের আর মাত্র ২৪ ঘণ্টা বাকি, যেখানে মুখোমুখি হচ্ছে আর্জেন্টিনা ও স্পেন। ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, ম্যাচের সংখ্যা ও পরিধি বাড়ার সাথে সাথে এবার বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার পকেটেও ঢুকেছে রেকর্ড পরিমাণ অর্থ। স্বাভাবিকভাবেই দলগুলোর প্রাইজমানিতেও লেগেছে বড় অঙ্কের জোয়ার। ক্রীড়া বিষয়ক প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম 'দ্য অ্যাথলেটিক'-এর এক বিশেষ প্রতিবেদনের বরাতে স্পোর্টস ডেস্ক জানিয়েছে, এবারের আসরের জন্য রেকর্ড ৬৫ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলারের (বাংলাদেশি মুদ্রায় ৮ হাজার কোটি টাকারও বেশি) প্রাইজ ফান্ড ঘোষণা করেছে ফিফা, যা কাতার বিশ্বকাপের তুলনায় প্রায় ৫০ শতাংশ বেশি।
ফাইনাল ও সেমিফাইনালের টাকার অঙ্ক
রোববারের মেগা ফাইনালে যারা শেষ হাসি হাসবে, সেই বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দল ট্রফির পাশাপাশি প্রাইজমানি হিসেবে ঘরে তুলবে ৫ কোটি মার্কিন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ৬১৬ কোটি টাকার বেশি)। অন্যদিকে, রানার্স-আপ হয়ে সন্তুষ্ট থাকা দলটিও কম পাচ্ছে না; তারা পাবে ৩ কোটি ৩০ লাখ ডলার (প্রায় ৪০৬ কোটি টাকা)।
ফাইনালের ডামাডোলের আগে আজ শনিবারের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে মুখোমুখি হচ্ছে ফুটবল বিশ্বের দুই পরাশক্তি ফ্রান্স ও ইংল্যান্ড। এই মর্যাদার লড়াইয়ে জয়ী দল (তৃতীয় স্থান) প্রাইজমানি হিসেবে পকেটে পুরবে ২ কোটি ৯০ লাখ ডলার (প্রায় ৩৫৭ কোটি টাকা) এবং পরাজিত দল (চতুর্থ স্থান) পাবে ২ কোটি ৭০ লাখ ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ৩৩৩ কোটি টাকা)।
নকআউট ও গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নেওয়া দলগুলোর আয়
এবারের বর্ধিত আসরে নকআউটের পরিধি বাড়ায় শেষ ৩২ পর্যন্ত দলগুলো বিপুল অংকের বোনাস পাচ্ছে। নিচে দলগুলোর প্রাইজমানির তালিকা দেওয়া হলো:
কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায় (৪টি দল): মরক্কো, বেলজিয়াম, নরওয়ে ও সুইজারল্যান্ডের প্রত্যেকে পাবে ১ কোটি ৯০ লাখ ডলার করে (প্রায় ২৩৪ কোটি টাকা)।
শেষ ১৬ বা রাউন্ড অব ১৬ থেকে বিদায় (৮টি দল): বিদায়ী ৮টি দেশের প্রত্যেকে পাবে ১ কোটি ৫০ লাখ ডলার করে (প্রায় ১৮৪ কোটি টাকা)।
শেষ ৩২ বা রাউন্ড অব ৩২ থেকে বিদায় (১৬টি দল): বিদায়ী ১৬টি দলের প্রত্যেকে পাবে ১ কোটি ১০ লাখ ডলার করে (প্রায় ১৩৫ কোটি টাকা)।
গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় ও অংশগ্রহণকারী দল: টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়া ৪৮টি দলের প্রত্যেকের জন্যই অন্তত ১ কোটি ৫ লাখ ডলার নিশ্চিত ছিল। গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নেওয়া দলগুলো পাচ্ছে ৯০ লাখ ডলার এবং এর সাথে প্রস্তুতি খরচ বাবদ প্রতিটি দলকে দেওয়া হচ্ছে আরও ১৫ লাখ ডলার।
টাকার অঙ্কের এই বড় লাফের নেপথ্যে কী?
ফিফা এই বিশাল অঙ্কের প্রাইজমানির পুরো অর্থ সরাসরি সংশ্লিষ্ট দেশের ফুটবল ফেডারেশন বা অ্যাসোসিয়েশনকে প্রদান করবে। পরবর্তীতে ফেডারেশনগুলো আলোচনা করে খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফদের বোনাসের হার ঠিক করবে এবং বাকি টাকা ব্যয় হবে দেশের তৃণমূলের ফুটবলের উন্নয়নে।
ফিফা অলাভজনক সংস্থা হলেও এই ৪৮ দলের টুর্নামেন্ট থেকে তাদের প্রক্ষেপিত রাজস্ব আয় ছিল ১ হাজার কোটি (১০ বিলিয়ন) ডলারেরও বেশি। সেই বিশাল আয়ের মাত্র ৬.৫ শতাংশ অর্থ দলগুলোকে পুরস্কার হিসেবে দেওয়া হচ্ছে। এই আয়ের ওপর ভর করে ফিফার চার বছরের চক্রের মোট আয় ঠেকেছে রেকর্ড ১ হাজার ৩০০ কোটি (১৩ বিলিয়ন) ডলারে, যা কাতারের ৭.৬ বিলিয়ন ডলারের চক্র থেকে অনেক বেশি। আর এই কারণেই ২০২২ সালে চ্যাম্পিয়ন হয়ে আর্জেন্টিনা যেখানে ৪ কোটি ২০ লাখ ডলার পেয়েছিল, এবার চ্যাম্পিয়নরা তার চেয়ে ৮০ লাখ ডলার বেশি (৫ কোটি ডলার) ঘরে তুলবে।
বিশ্বকাপের বছর ও আসরচ্যাম্পিয়ন দলের প্রাইজমানিমোট প্রাইজ ফান্ড১৯৮২ (স্পেন বিশ্বকাপ)মাত্র ২২ লাখ ডলার২ কোটি ডলার২০২২ (কাতার বিশ্বকাপ)৪ কোটি ২০ লাখ ডলার৪৪ কোটি ডলার২০২৬ (বর্তমান বিশ্বকাপ)৫ কোটি ডলার (৬১৬ কোটি+ টাকা)৬৫ কোটি ৫০ লাখ ডলার
মেডেল ও ব্যক্তিগত ট্রফির সমীকরণ
রোববারের মেগা ফাইনালে বিজয়ী দলের ২৬ জন খেলোয়াড় ও স্টাফের প্রত্যেকের গলায় উঠবে ঐতিহাসিক সোনার মেডেল। রানার্স-আপ দল পাবে রুপার মেডেল এবং আজ শনিবারের ম্যাচ জয়ী দল পাবে ব্রোঞ্জের মেডেল। ম্যাচ অফিশিয়ালদেরও ফাইনাল শেষে মেডেল দেওয়া হবে।
দলগত পুরস্কারের পাশাপাশি ফাইনাল শেষে টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় পাবেন ‘গোল্ডেন বল’ এবং সেরা গোলরক্ষক পাবেন ‘গোল্ডেন গ্লাভস’। সর্বোচ্চ গোলদাতার জন্য বরাদ্দ থাকছে ‘গোল্ডেন বুট’, যার দৌড়ে এবার মেসি, এমবাপে, বেলিংহাম ও হ্যারি কেইনদের মধ্যে চলছে রক্তক্ষয়ী লড়াই। তবে ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, ব্যক্তিগত এই ঐতিহ্যবাহী ট্রফিগুলোর সাথে কোনো বাড়তি অর্থ বা প্রাইজমানি দেওয়া হয় না।