২০০৭ সালের বার্সেলোনার একটি চ্যারিটি ক্যালেন্ডারের জন্য তোলা সেই আইকনিক ছবি এখন পুরো ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয়। যেখানে তরুণ লিওনেল মেসি পরম স্নেহে গোসল করিয়ে দিচ্ছেন এক শিশু লামিন ইয়ামালকে। সময়ের পরিক্রমায় প্রায় দুই দশক পর সেই ছবির দুই প্রধান চরিত্র এখন বিশ্ব ফুটবলের দুই উজ্জ্বল নক্ষত্র এবং আগামী পরশুর মেগা ফাইনালে একে অপরের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী। কিছুদিন আগে এক সাক্ষাৎকারে এই ছবি নিয়ে ১৮ বছর বয়সী স্প্যানিশ তারকা ইয়ামাল আশা প্রকাশ করেছিলেন, ফাইনালে যেন মেসির মুখোমুখি হতে পারেন। অবশেষে তাঁর সেই স্বপ্ন সত্যি হয়েছে। আর এবার নিউইয়র্কে ফিফার এক বিশেষ অনুষ্ঠানে সেই ঐতিহাসিক ছবি নিয়ে মুখ খুললেন স্বয়ং আর্জেন্টাইন অধিনায়ক লিওনেল মেসি।
শুক্রবার নিউইয়র্কে আয়োজিত ফিফার একটি বিশেষ ইভেন্টে হাজির ছিলেন ফাইনালিস্ট দুই দলের অধিনায়ক ও কোচেরা। ইংল্যান্ডের সাবেক ফুটবল অধিনায়ক রিও ফার্দিনান্দ এবং টেনিস কিংবদন্তি নোভাক জোকোভিচের সাথে এই অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন আমেরিকান ফুটবলের মহাতারকা টম ব্র্যাডি। অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে টম ব্র্যাডি ইংরেজি ভাষায় মেসিকে ইয়ামালের সঙ্গে থাকা সেই বিখ্যাত ছবিটির ব্যাপারে প্রশ্ন করেন। মেসি সরাসরি ইংরেজি প্রশ্নটি পুরোপুরি বুঝতে না পারায় একজন দোভাষী তাঁর জন্য সেটি স্প্যানিশ ভাষায় রূপান্তর করেন। প্রশ্ন শুনেই মেসির মুখে এক চিলতে চওড়া হাসি ফুটে ওঠে এবং তিনি স্প্যানিশ ভাষায় এর উত্তর দেন, যা পরবর্তীতে দোভাষী সবার উদ্দেশ্যে ইংরেজিতে অনুবাদ করেন।
সেই অদ্ভুত সুন্দর অতীত মনে করে মেসি বলেন, ‘সত্যি কথা বলতে, এখন ফিরে তাকালে ছবিটাকে খুব অদ্ভুত মনে হয়, কারণ এটাই তো জীবন। আমি যখন একদম তরুণ ছিলাম, তখন চ্যারিটির জন্য ওই ছবিটা তোলা হয়েছিল। আর আজ প্রায় ২০ বছর পর বিশ্বকাপের ফাইনালে আমি সেই শিশুর মুখোমুখি হচ্ছি—এটি সত্যিই অবিশ্বাস্য ও রোমাঞ্চকর।’ ইয়ামালের বর্তমান ফর্মের ভূয়সী প্রশংসা করে এলএমটেন আরও যোগ করেন, ‘সে এখন বিশ্বের অন্যতম সেরা ফুটবলার। এত কম বয়সেই সে স্পেনের হয়ে ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ জিতেছে। বর্তমানে সে দুর্দান্ত খেলছে এবং ফুটবল বিশ্বে তার ভবিষ্যৎ অত্যন্ত উজ্জ্বল। তবে রবিবারের ফাইনালে আমাদের লক্ষ্য থাকবে নিজেদের সেরাটা দিয়ে এমনভাবে খেলা, যাতে সে মাঠে নিজের চেনা ছন্দ খুঁজে না পায়।’
লিওনেল মেসির ফুটবল ক্যারিয়ারের সোনালী সময় কেটেছে স্প্যানিশ ক্লাব বার্সেলোনায়। কৈশোরে আর্জেন্টিনা ছেড়ে স্পেনে পাড়ি জমানোর পর এই ক্লাবেই মূলত কিংবদন্তি হয়ে ওঠেন তিনি। আর লামিন ইয়ামালও বার্সেলোনার একাডেমি ‘লা মাসিয়া’ থেকে উঠে আসা এক বিস্ময় বালক। বার্সেলোনার এই অভিন্ন সুতোয় বাঁধা থাকার কারণেই ইয়ামালের প্রতি মেসির এক আলাদা স্নেহ কাজ করে। এই বিষয়ে মেসি বলেন, ‘বার্সেলোনা ক্লাবে আমার জীবনের অনেক দীর্ঘ ও সুন্দর সময় কেটেছে। ইয়ামালের সঙ্গেও মূলত সেই বার্সেলোনার সূত্র ধরেই আমার প্রথম পরিচয়।’ দুই দশক আগের একটি সাধারণ ছবি যে আজ বিশ্বকাপ ফাইনালের মঞ্চে দুই প্রতিপক্ষের গল্প হয়ে ফিরবে, একে ‘ভাগ্যের এক অবিশ্বাস্য চিত্রনাট্য’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন মেসি। সবশেষে মেগা ফাইনালের চাপ সামলানোর বিষয়ে ফুটবল জাদুকর অত্যন্ত পরিপক্বতার সাথে জানান, তাঁরা মাঠের সমস্ত চাপ দূরে ঠেলে স্বাভাবিক ফুটবল খেলার চেষ্টাই করবেন, কারণ দিনশেষে খেলায় হার-জিত থাকবেই।