ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ২৭ Jul ২০২৬,  ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রপ্তানি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ১৫ শতাংশ, আয় হতে পারে ৬৩.৪ বিলিয়ন ডলার রাজধানীতে ১৮ মন্ত্রী চলবেন এসকর্ট ছাড়া, বহাল থাকছে ৭ জনের সুবিধা সাতক্ষীরায় অপরিকল্পিত মৎস্য ঘের: পানিবন্দী হাজারও মানুষ, সড়ক-শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্লাবিত সাতক্ষীরার তিন হাসপাতালে হঠাৎ স্বাস্থ্যমন্ত্রী, অনুপস্থিত দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট দল ঘোষণা, নেই নাহিদ-লিটন সেনা কর্মকর্তাদের পদোন্নতি হোক মেধা ও যোগ্যতায়: প্রধানমন্ত্রী হামের উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১১৬০ জামায়াত জোট ছাড়ার গুঞ্জন নাকচ করল নেজামে ইসলাম চলনবিলে অবাধে ব্যবহার হচ্ছে নিষিদ্ধ চায়নাদুয়ারী জাল লক্ষ্মীপুরে উৎসবমুখর পরিবেশে ধারণ হলো ‘ইত্যাদি’র বিশেষ পর্ব

টানা বৃষ্টিতে সাতক্ষীরা জলমগ্ন, ৬ হাজার হেক্টর আউশ ধানের ক্ষতি


  • আপলোড সময় : শনিবার ১৮ জুলাই, ২০২৬ সময় : ৭:৪০ পিএম

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি:

দুসপ্তাহের টানা বৃষ্টিতে ভয়াবহ জলাবদ্ধতার কবলে পড়েছে সাতক্ষীরা পৌরসভাসহ সদর উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা। এতে ভেঙে পড়েছে স্যানিটেশন ব্যবস্থা, ডুবে গেছে বাড়িঘর ছড়িয়ে পড়েছে পানিবাহিত রোগ। পৌরসভায় অচল হয়ে পড়া ড্রেনেজ ব্যবস্থা শহরতলীতে অপরিকল্পিতভাবে মাছের ঘের করাকে জলাবদ্ধতার কারণ বলছেন ভুক্তভোগীরা। এছাড়া অতিবর্ষণে জেলার কোটি টাকারও অধিক মাছ ভেসে গেছে। হাজার হেক্টর জমির আউশ ধান সবজি ক্ষেত তলিয়ে গেছে।

সাতক্ষীরা আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা যায়, জুলাই থেকে ১৮ জুলাই সকাল টা পর্যন্ত জেলায় মোট ৪৫৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে ১০ জুলাই সর্বোচ্চ ২২৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়।

 পৌরসভা সাতক্ষীরার কামালনগর, ইটাগাছা, মধুমল্লারডাঙ্গী, বদ্দীপুর কলোনি, মধ্যকাটিয়া, রইচপুর, রাজারবাগান, পুরাতন সাতক্ষীরাসহ সদর উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে কোমরসমান জলাবদ্ধতা। এতে বেড়েছে চরম নাগরিক দুর্ভোগ।

ডুবে যাওয়া ঘর-বাড়িতে রান্না-বান্না দুষ্কর। সাপ পোকা-মাকড়ের উপদ্রবে আতঙ্কিত জনসাধারণ। রাস্তা জলমগ্ন থাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে অনেক এলাকায়।

বিষয়ে বদ্দীপুর কলোনির ছলেমা খাতুন জানান, “আমরা যুগ ধরে অবস্থায় আছি। বৃষ্টি হলেই আমাদের এই এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। রান্না-বান্না করা সম্ভব হয় না। ছেলে-মেয়েরা স্কুল-কলেজে যেতে পারে না। প্রথম শ্রেণির পৌরসভার মধ্যে বসবাস করে আমরা ন্যূনতম নাগরিক সেবা পাই না।

রইচপুর এলাকার আবু জাফর জানান, “বৃষ্টির পানি এতটুকু সরছে না। রইচপুরের নিচের দিকে অনেকগুলো মাছের ঘের। তাই পানি সরতে পারছে না। দীর্ঘদিন জমা পানি বিষাক্ত হয়ে পড়েছে। তাই ঘরে ঘরে চর্মরোগ বেড়েছে।

বিষয়ে ইটাগাছা এলাকার মোকাররম বিল্লাহ জানান, “আমাদের পরিবারের সবার পায়ে ঘা-পাচড়া হয়েছে। একদিকে যেমন প্রচুর চুলকাচ্ছে, অন্যদিকে জ্বালা-যন্ত্রণা করছে।

মধ্যকাটিয়া এলাকার জাহানারা বেগম জানান, “আমাদের পুরো রাস্তা পানিতে ডুবে আছে। ছেলে-মেয়েরা স্কুল-কলেজে যেতে পারে না। তার ওপর এখন মাধ্যমিক উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা। মানুষ গ্রাম থেকে শহরে আসে ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়া যাতে ভালো হয়, তার জন্য। আর আমাদের কি কপাল! জলাবদ্ধতার কারণে ঘর থেকে বের হতে পারি না।

শহরের মধ্যে বিধিবহির্ভূত ভবন নির্মাণ করা জলাবদ্ধতার অন্যতম কারণ। এছাড়া শহরতলীতে যত্রতত্র মাছের ঘের জলাবদ্ধতার প্রধান কারণ বলে মনে করেন নাগরিক অধিকার উন্নয়ন কমিটির সহ-সভাপতি ডা. আবুল কালাম বাবলা।

তিনি বলেন, “সাতক্ষীরা পৌরসভাসহ সদর উপজেলার অধিকাংশ জায়গায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। স্কুল-কলেজগামী ছাত্র-ছাত্রীরা পড়েছে বিপাকে। রসুলপুর, কামালনগরসহ বিভিন্ন জায়গায় এই যে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে, এটা দূর করতে খালগুলো গভীর করতে হবে। এছাড়া যারা যত্রতত্র মাছ চাষ করছে, পানি আটকে রাখছেএগুলো অপসারণ করা আমাদের দাবি। এছাড়া নেট-পাটা অপসারণ করাও জরুরি।

 পৌরসভাসহ সাতক্ষীরা সদর উপজেলার জলাবদ্ধতা নিরসনে পরিকল্পনা গ্রহণ করে কাজ চলমান রয়েছে বলে জানান সাতক্ষীরা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অর্ণব দত্ত। তিনি বলেন, “বিগত সময়ের মতো এবারও কিছু পয়েন্ট করে সেখানে কেটে বা ড্রেন করে বা খাল খনন করে জলাবদ্ধতা নিরসনের প্রক্রিয়া চলছে। বিশেষ করে বদ্দীপুর কলোনিতে জলাবদ্ধতা প্রকট। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, কলু মোল্লার খালের যে অংশে চর পড়েছে, সেই অংশ খনন করে পানির প্রবাহ ঠিক রাখা। আর কামালনগর খালের বিষয়ে আমি ব্যক্তিগতভাবে যোগাযোগ করে সমাধানের চেষ্টা করব। আর সিল্টেড স্লুইস গেটগুলো, যেগুলো জলাবদ্ধতার অন্যতম কারণ, সেগুলো অপসারণের চেষ্টা করছি। এগুলো বাস্তবায়িত হলে জলাবদ্ধতা নিরসনে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সাধিত হবে।

এছাড়া অন্যান্য ক্ষয়-ক্ষতির বিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার রুহুল আমিন বলেন, “অতিবর্ষণে জেলার ৬৩টি প্রাইমারি স্কুল জলাবদ্ধতার কবলে রয়েছে। এর মধ্যে আশাশুনি উপজেলায় ২০টি, কলারোয়ায় ১০টি, তালায় ১টি, শ্যামনগরে ১২টি সাতক্ষীরা সদর উপজেলায় ২০টি স্কুল ভয়াবহ জলাবদ্ধতার কবলে পড়েছে। চেয়ার-বেঞ্চ ডুবে যাওয়ায় সেসব স্কুলগুলোতে ক্লাস চালানো খুবই কষ্টের। তবুও কোমলমতি শিশুদের কথা ভেবে কষ্ট করে হলেও ক্লাস পরিচালনা করা হচ্ছে। এর মধ্যে সদর উপজেলার বাগডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ক্লাস পরিচালনা করতে পারছেন না শিক্ষকরা।

জেলা মৎস্য অফিসার জি. এম. সেলিম জানান, “বৃষ্টির পানিতে শতাধিক মাছের ঘের ভেসে গেছে, যার আনুমানিক ক্ষয়-ক্ষতি কোটি টাকা।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সাইফুল ইসলাম বলেন, “ হাজার হেক্টর আউশ ধানের ক্ষতি হয়েছে। আর কিছু সবজি ক্ষেত পচে গেছে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর