ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে কিশোর জিহাদ (১৬) হত্যার বিচারের দাবিতে মানববন্ধন ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছেন স্থানীয় এলাকাবাসী। রবিবার (১৯ জুলাই) সকাল ৯টায় উপজেলার সদর ইউনিয়নের পূর্ব কুট্টাপাড়া মোড়ে স্থানীয়দের উদ্যোগে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, জিহাদকে পূর্বপরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। কিন্তু ঘটনার ৯ দিন পেরিয়ে গেলেও মামলার কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। এতে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে তারা দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন ও সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করেন।
একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করলে সড়কের উভয় পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে কিছু সময়ের জন্য যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায় এবং চরম ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রী ও পরিবহন সংশ্লিষ্টরা। মহাসড়কের মতো গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক করিডোরে এমন অবরোধের ফলে চারপাশের সংযোগ সড়কগুলোতেও গাড়ির চাপ তৈরি হয়। সাধারণ মানুষ ও দূরপাল্লার যাত্রীরা দীর্ঘ সময় যানজটে আটকে থেকে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে উপস্থিত আন্দোলনকারীদের মধ্যে নানা আলোচনা চলতে থাকে।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন নিহত জিহাদের বাবা আজগর আলী, ভাই জিসান, নাছির খন্দকার, জনি খন্দকার, রনি খন্দকার, বিএনপি নেতা রসুন আলী, সাবেক ইউপি সদস্য মনজুর, জীবন মিয়া ও জয়নাল মিয়াসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা। বক্তারা বলেন, ৯ দিন ধরে আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও পুলিশ তাদের ধরতে পারছে না, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। বিচার না পাওয়া পর্যন্ত তারা রাজপথ ছাড়বেন না বলেও হুঁশিয়ারি দেন।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাইফুল ইসলাম, সরাইল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মনজুর কাদের ভূঁইয়া, বিএনপি নেতা আনোয়ার হোসেন মাস্টার এবং সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল জব্বার উপস্থিত হন। তারা আন্দোলনকারীদের সঙ্গে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে আলোচনা করেন এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারে প্রয়োজনীয় ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দৃঢ় আশ্বাস দেন।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট আশ্বাস পাওয়ার পর আন্দোলনকারীরা মহাসড়ক থেকে অবরোধ প্রত্যাহার করে নেন। এরপর ধীরে ধীরে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হতে শুরু করে। তবে এলাকায় যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে। স্থানীয়রা আশা করছেন, প্রশাসনের এই আশ্বাসের পর পুলিশ দ্রুত অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করবে।