কাতার ২০২২-এর সোনালী ট্রফি ধরে রাখার মিশন নিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে মাঠে নেমেছিল আর্জেন্টিনা। কিন্তু মেটলাইফ স্টেডিয়ামে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে শুধু শিরোপাই হাতছাড়া হয়নি আলবিসেলেস্তেদের, সেই সঙ্গে বহু বছর ধরে বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের তাড়া করে বেড়ানো ফুটবলের দুটি ঐতিহাসিক ও কুখ্যাত ‘অভিশাপ’ ভাঙতেও ব্যর্থ হয়েছে তারা।
ফুটবলবিশ্বের দীর্ঘদিনের এই দুটি অমীমাংসিত পরিসংখ্যান ভাঙার সুবর্ণ সুযোগ ছিল লিওনেল মেসির দলের সামনে। তবে মাঠের লড়াইয়ে স্প্যানিশ রেনেসাঁর কাছে পরাস্ত হয়ে সেই প্রাচীন অভিশাপের তালিকায় নিজেদের নাম আরও একবার যুক্ত করল ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা।
ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের এক নম্বর অবস্থানের ‘অভিশাপ’
ফাইনালে ওঠার মাধ্যমে আর্জেন্টিনা জাতীয় দল টুর্নামেন্টের মাঝপথেই আবারও ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থান এককভাবে দখল করে। সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে হারানোর পর তারা চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ফ্রান্সকে পেছনে ফেলে এবং ফাইনালের প্রতিপক্ষ স্পেনকে দ্বিতীয় স্থানে নামিয়ে দিয়ে চূড়ায় বসে। আপাতদৃষ্টিতে এটিকে অনেক বড় সুখবর মনে হলেও, এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে ফুটবলের এক অদ্ভুত ও রহস্যময় কালো অধ্যায়, যা এখন পর্যন্ত বিশ্বের কোনো পরাশক্তিই অতিক্রম করতে পারেনি।
১৯৯৩ সালে ফিফা আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্ব র্যাঙ্কিং প্রথা চালু করার পর থেকে, টুর্নামেন্ট শুরুর সময় বা ফাইনালে ওঠার মুহূর্তে এক নম্বর অবস্থানে থাকা কোনো দলই আজ পর্যন্ত বিশ্বকাপ ট্রফি উঁচিয়ে ধরতে পারেনি।
এই অদ্ভুত ধারার শুরু হয়েছিল ১৯৯৪ সালের যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বকাপ থেকে। সেবার জার্মানি শীর্ষ র্যাঙ্কিংধারী দল হিসেবে টুর্নামেন্টে অংশ নিলেও কোয়ার্টার ফাইনাল থেকেই বিদায় নেয় এবং শেষ পর্যন্ত ব্রাজিল শিরোপা জেতে। এরপর থেকে গত তিন দশক ধরে আর কোনো দলই এক নম্বর র্যাঙ্কিংয়ের মুকুট মাথায় নিয়ে বিশ্বকাপ জয়ের কৃতিত্ব অর্জন করতে পারেনি। ২০২৬-এর ফাইনালে এসে আর্জেন্টিনাও সেই একই অভিশাপের নির্মম শিকার হলো।
টানা দুইবার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন না হওয়ার দীর্ঘ খরা
আর্জেন্টিনার সামনে দ্বিতীয় বাধাটি ছিল আরও পুরোনো এবং কঠিন। টানা দুটি বিশ্বকাপ জয়ের অনন্য কীর্তি গত ৬৪ বছর ধরে বিশ্বফুটবলে আর কেউ গড়তে পারেনি। ফুটবল ইতিহাসে সবশেষ এই অবিশ্বাস্য গৌরব অর্জন করেছিল কিংবদন্তি পেলের নেতৃত্বাধীন ব্রাজিল দল। তারও আগে ফুটবলের শুরুর দিকে কেবল ইতালিই এই কৃতিত্ব দেখিয়েছিল (১৯৩৪ ও ১৯৩৮ সালে)।
ব্রাজিল ১৯৫৮ সালে সুইডেনের মাটিতে প্রথম এবং ১৯৬২ সালে চিলি বিশ্বকাপে শিরোপা ধরে রেখে টানা দুইবার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। ব্রাজিলের সেই সোনালী প্রজন্মের পর আর কোনো ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নই পরের বিশ্বকাপে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রাখতে পারেনি। ফলে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এটি ফুটবলবিশ্বে ‘ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নের অভিশাপ’ নামে পরিচিতি পেয়েছে, যা ভাঙার খুব কাছে গিয়েও ব্যর্থ মনোরথে ফিরতে হলো মেসি-স্কালোনির আর্জেন্টিনাকে।