নড়াইল প্রতিনিধি:
নড়াইলে পাঁচ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগে আটক রবিউল শিকদার ওরফে রবি (৩৫)-এর সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ, পুলিশ সুপারের কার্যালয় ঘেরাও এবং নড়াইল-মাগুরা মহাসড়ক অবরোধ করেছেন ছাত্র-জনতা ও সাধারণ মানুষ। একই সঙ্গে কালনা-নড়াইল-যশোর মহাসড়কের দত্তপাড়া এলাকাতেও প্রবল বৃষ্টির মধ্যেই বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করা হয়।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকালে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ শুরু হয়। এর আগে শহরের টার্মিনাল চত্বরে পুলিশবাহী একটি গাড়ি ঘিরে অবস্থান নেন আন্দোলনকারীরা। পরে বেলা ১১টার পর থেকে দত্তপাড়া এলাকায় নড়াইল-মাগুরা মহাসড়ক অবরোধ করেন তারা। সংবাদ লেখা পর্যন্ত (বেলা ১টা) অবরোধ চলছিল।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সকালে দত্তপাড়া এলাকা থেকে স্থানীয় লোকজন অভিযুক্ত রবিউল শিকদার ওরফে রবিকে আটক করেন। পরে তাকে গণপিটুনি দিয়ে বেঁধে রাখা হয়। খবর পেয়ে সদর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে নিজেদের হেফাজতে নেয় এবং প্রথমে নড়াইল সদর থানায় নিয়ে যায়।
পরে একটি মাইক্রোবাসে করে তাকে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে নেওয়ার সময় শহরের টার্মিনাল এলাকায় আগে থেকেই অবস্থান নেওয়া ছাত্র-জনতা ও সাধারণ মানুষ গাড়িটির গতিরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীরা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে জড়ো হয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন। তারা অভিযুক্তকে কঠোর শাস্তির আওতায় এনে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান। পরে নড়াইল-মাগুরা মহাসড়ক অবরোধ করলে যান চলাচল ব্যাহত হয়।
এদিকে কালনা-নড়াইল-যশোর মহাসড়কের দত্তপাড়া এলাকাতেও শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ বৃষ্টির মধ্যেই অবস্থান নেন। তারা মহাসড়কে কাঠের গুঁড়ি ফেলে অবরোধ সৃষ্টি করেন। এতে সড়কের উভয় পাশে যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয় এবং যাত্রীদের দুর্ভোগ বাড়ে।
পরে অতিরিক্ত পুলিশ পাহারায় আটক রবিউল শিকদারকে পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে আদালতে নেওয়া হয়। এ সময় প্রবল বৃষ্টির মধ্যেও বিপুলসংখ্যক ছাত্র-জনতা ও সাধারণ মানুষ আদালত চত্বরে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করেন এবং অভিযুক্তের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান।
নড়াইলের তুলরামপুর হাইওয়ে থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাবিল হোসেন বলেন, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার, জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টরা ঘটনাস্থলে রয়েছেন। মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।