সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি / : 50
রেজাউল
করিম ঝন্টু, সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
বর্ষা শুরুর এই সময়ে চলনবিল যেন তার রূপের সমস্ত ডালি উজাড় করে দিয়ে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এক অপার লীলাভূমিতে পরিণত হয়। যদিও একসময় চলনবিলের নাম শুনলেই ভয়ে গা ছমছম করে উঠত সাধারণ মানুষের। চোখের সামনে ভেসে উঠত উত্তাল পাথারের বিশাল ঢেউয়ের দৃশ্য। দিগন্ত ছোঁয়া থৈ থৈ জলরাশি মনের গহীনে এক অজানা ভীতির সৃষ্টি করত। আর এটাই ছিল চলনবিলের বর্ষার চিরায়ত রূপ। তবে সমস্ত শঙ্কা কাটিয়ে বর্ষাই কিন্তু চলনবিল ভ্রমণের সবচেয়ে আদর্শ ও শ্রেষ্ঠ সময়। বর্ষা মৌসুমকে কেন্দ্র করে বর্ষার শুরুতেই চলনবিলে দর্শনার্থীদের ঢল নামে, আর ছুটির দিনগুলোতে তা বহুগুণে বৃদ্ধি পায়।
বর্তমানে বর্ষার সূচনা হওয়ায় চলনবিলও যেন নবযৌবনা রূপে ফুটে উঠেছে। সৌন্দর্যপিপাসু পর্যটকরা বর্ষার শুরুটাকেই বেছে নেন এখানকার নয়নাভিরাম দৃশ্য উপভোগ করার জন্য। কারণ বর্ষার প্রারম্ভে বিলে পানির গভীরতা তুলনামূলক কম থাকে, ফলে নৌকাডুবির কোনো বড় ঝুঁকি থাকে না। কোনো কারণে অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা ঘটলেও প্রাণহানির আশঙ্কা থাকে না বললেই চলে। তাই নিশ্চিন্ত মনে সৌন্দর্যপিপাসুরা পরিবার-পরিজন ও স্বজনদের নিয়ে চলনবিল ভ্রমণে বেরিয়ে পড়েন।
বর্ষার এই বিশেষ সময়ে বিলপাড়ের প্রায় প্রতিটি বাড়ির দৃশ্যই একই সুতোয় গাঁথা থাকে। প্রায় সব ঘাটে ও উঠোনে বাঁধাই করা থাকে ছোট-বড় নৌকা। এক বাড়ি থেকে অন্য বাড়ি কিংবা এক পাড়া থেকে অন্য পাড়ায় চলাচলের জন্য নৌকাই হয়ে ওঠে গ্রামীণ জীবনের একমাত্র ভরসা। নিচু রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে যাওয়ার ফলে স্থানীয় মানুষের মূল যোগাযোগ মাধ্যম হয়ে ওঠে এই সাধারণ নৌকাগুলো। সাধারণত চলনবিল অঞ্চলে দুই ধরনের নৌকা দেখা যায়—একটি কাঠ দিয়ে তৈরি ঐতিহ্যবাহী ঠেলা বা ডিঙ্গি নৌকা, অন্যটি ইঞ্জিনচালিত ট্রলার। স্বল্প দূরত্বে চলাচলের জন্য ডিঙ্গি নৌকা এবং দূরবর্তী গন্তব্যের জন্য ইঞ্জিনচালিত নৌকা ব্যবহার করেন বিলের বাসিন্দারা।
বর্ষার শুরুতে মাইলের পর মাইল বিস্তৃত বিলের মাঠ রাশি রাশি নীল পানিতে থৈ থৈ করে। সে পানির বুক চিরে দূরে ভেসে চলে রঙ-বেরঙের পাল তোলা নৌকা, ওপরে ঝাঁকে ঝাঁকে সাদা বক ডানা মেলে উড়ে যায় নীল আকাশে, আর তার সাথে বয়ে যাওয়া রিমঝিম ঠাণ্ডা বাতাস পর্যটকদের দেহ-মনকে করে তোলে পুলকিত। এসব নান্দনিক উপাদান মিলে চলনবিল অঞ্চলের প্রকৃতি ও সৌন্দর্যকে করে তুলেছে অতুলনীয় এবং ভীষণ মনোমুগ্ধকর।