নড়াইল প্রতিনিধি
নড়াইলের কালিয়া উপজেলায় জমি বন্ধকের টাকা নিয়ে পারিবারিক বিরোধের জেরে আপন ছোট ভাইকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে বড় ভাইয়ের বিরুদ্ধে। শুধু কুপিয়ে জখমই নয়, হামলার সময় ছোট ভাইয়ের কাছে থাকা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নগদ ২ লাখ ২৬ হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যান অভিযুক্ত বড় ভাই। শনিবার (১৮ জুলাই) রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার পেড়লী ইউনিয়নের পেড়লী গ্রামে নিজ বাড়ির সামনেই এই নৃশংস ও চাঞ্চল্যকর হামলার ঘটনা ঘটে। রক্তাক্ত অবস্থায় ভুক্তভোগী যুবককে উদ্ধার করে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়েছে।
ঘটনার বিবরণী ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, কালিয়া উপজেলার পেড়লী গ্রামের বাসিন্দা দুই ভাইয়ের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা সংক্রান্ত বিষয়ে অমীমাংসিত ঝামেলা চলছিল। তাদের বাবা জীবিত থাকা অবস্থাতেই স্থাবর সম্পত্তির সিংহভাগ সন্তানদের মধ্যে সুনির্দিষ্টভাবে ভাগ করে দিয়ে যান। তবে মায়ের জীবিকা ও আয়ের উৎস নিশ্চিত করতে কিছু জমি আলাদাভাবে মায়ের নামে রেখে যান, যা বর্তমানে তাদের বৃদ্ধা মা নিজেই ভোগদখল করছেন। সম্প্রতি সেই জমি বন্ধক রেখে পাওয়া মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে দুই ভাইয়ের মধ্যে চরম বিরোধের সৃষ্টি হয়। বড় ভাই মামুন শেখ সেই বন্ধকী টাকার পুরোটাই এককভাবে নিজের দখলে নিতে চাইলে ছোট ভাই মিশুক হোসেন এতে তীব্র আপত্তি জানান। এই আপত্তিকে কেন্দ্র করে দুই ভাইয়ের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয় এবং একপর্যায়ে মামুন শেখ ছোট ভাই মিশুককে প্রাণনাশের হুমকিও দেন।
শনিবার রাতে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে কাজ শেষে বাড়ি ফিরছিলেন ছোট ভাই মিশুক হোসেন। রাত সাড়ে ৯টার দিকে নিজ বাড়ির প্রবেশদ্বারের সামনে পৌঁছামাত্র আগে থেকেই অন্ধকারে ওত পেতে থাকা বড় ভাই মামুন শেখ তার ওপর অতর্কিত হামলা চালান। ধারালো অস্ত্র দিয়ে মিশুকের মাথায় ও বাম হাতে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে রক্তাপ্লুত ও মারাত্মক আহত করা হয়। হামলা শেষে মিশুকের সঙ্গে থাকা ব্যাগে গচ্ছিত নগদ ২ লাখ ২৬ হাজার টাকা জোরপূর্বক ছিনিয়ে নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে দ্রুত চম্পট দেন অভিযুক্ত মামুন।
চিৎকার শুনে আশপাশের স্থানীয় লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে আশঙ্কাজনক অবস্থায় মিশুক হোসেনকে উদ্ধার করেন। পরে তাকে দ্রুত চিকিৎসার জন্য খুলনা সিটি হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসকরা তাঁর মাথায় ও হাতে প্রায় দীর্ঘ ৬ ঘণ্টা ব্যাপী জটিল অস্ত্রোপচার পরিচালনা করেন। বর্তমানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাসপাতালে কাতরাচ্ছেন আহত মিশুক।
ছেলের ওপর এমন বর্বরোচিত হামলার বর্ণনা দিতে গিয়ে মিশুকের মা জানান, সাম্প্রতিক সময়ে তাঁর নামে থাকা একটি জমি বন্ধক রাখা হয়। সেই জমি বন্ধকের টাকা দাবি করে তাঁর বড় ছেলে মামুন শেখ। কিন্তু মামুন বিপুল পরিমাণ দেনায় জর্জরিত থাকায় এবং পূর্বেও বিভিন্ন সময় তাকে একাধিকবার টাকা দেওয়ায় মা সেই টাকা দিতে রাজি হননি। টাকা না পেয়ে মাকেও ভয়ভীতি দেখান মামুন। এমনকি মিশুককে দেখে নেওয়ার সরাসরি হুমকিও দেওয়া হয়। এরপর মা ও তাঁর দুই মেয়ে শিমা ও শিখা বারবার মিশুককে সতর্ক করেছিলেন। কিন্তু নিজ আপন ভাই এমন মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে, তা বিশ্বাসই করতে পারেননি মিশুক।
ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত মামুন শেখ এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে রয়েছেন। পলাতক থাকায় এ বিষয়ে তাঁর কোনো বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। এদিকে পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছে স্থানীয় প্রশাসন। কালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে তা দ্রুত তদন্ত করে অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ঢাকা টুডে / আরজে