ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬,  ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জাপানের ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বড় বিনিয়োগের উদাত্ত আহ্বান তারেক রহমানের বাউফলে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে শ্রেণিকক্ষে কিন্ডারগার্টেন ও দুর্নীতির অভিযোগ ঠাকুরগাঁও উপনির্বাচন ঘিরে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করেছে ইসি ইসরায়েলে নির্বাচন: ৬০ শতাংশ ভোট গণনা শেষ, এগিয়ে নেতানিয়াহুর দল খাদ্যে পুষ্টি উপাদান যুক্ত করতে দ্রুত আইন প্রণয়নের তাগিদ প্রতিমন্ত্রীর ক্রসফায়ার মন্তব্যে কোণঠাসা আইজিপি, আলোচনায় ব্যারিস্টার মো. জিল্লুর রহমান রংপুরে দাঁড়িয়ে থাকা ডাম্প ট্রাকে বাসের ধাক্কা, নিহত বেড়ে ৪ নিয়মিত হাত ধোয়ার অভ্যাসই গড়বে সুস্থ প্রজন্ম: মীর শাহে আলম নাটোরে প্রবাসীর শপিং মলে হামলা ও লুটপাট, ৫ কোটি টাকার ক্ষতি জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নিতে চায় না বিএনপি সরকার: প্রতিমন্ত্রী

পা দিয়ে লিখে কামিল পাস সিরাজগঞ্জের নিলা খাতুনের, স্বপ্ন প্রাথমিকে শিক্ষকতা


  • আপলোড সময় : শুক্রবার ২৪ জুলাই, ২০২৬ সময় : ১০:৫৩ পিএম

রেজাউল করিম ঝন্টু,  সিরাজগঞ্জ

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ার নিলা খাতুন, জন্ম থেকেই দুই হাত নেই। কিন্তু শারীরিক প্রতিবন্ধকতা তার স্বপ্নকে থামাতে পারেনি। অদম্য ইচ্ছাশক্তি, কঠোর পরিশ্রম এবং পরিবারের অকুণ্ঠ সমর্থনে পা দিয়ে লিখেই ক‌রে‌ছেন কামিল (মাস্টার্স সমমান) ডিগ্রি অর্জন করেছেন। এখন তার লক্ষ্য সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করা।সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার  পূর্ণিমাগাতী ইউনিয়নের শাহিনুর বেগ ও শারমিন বেগম দম্পতির চার সন্তানের মধ্যে নিলা তৃতীয় সন্তান। জন্ম থেকেই দুই হাত না থাকলেও ছোটবেলা থেকেই লেখাপড়ার প্রতি ছিল তার প্রবল আগ্রহ। পরিবারের সহযোগিতায় পায়ের সাহায্যে লেখা শেখেন। বর্তমানে লেখাপড়া থেকে শুরু করে নিজের দৈনন্দিন প্রায় সব কাজই তিনি পা দিয়েই করেন। শুধু পড়াশোনাই নয়, ঘরের বিভিন্ন কাজেও তিনি সমান দক্ষ। পা দিয়ে তরকারি কাটা, মাছ পরিষ্কার, রান্নার কাজে সহযোগিতা, কাপড় গুছানো, এমনকি টিউবওয়েল চাপিয়ে পানি তোলার কাজও অনায়াসে করতে পারেন। তার এই আত্মনির্ভরশীলতা এলাকাবাসীর কাছে বিস্ময় ও অনুপ্রেরণার বিষয় হয়ে উঠেছে।

শিক্ষাজীবনে ধারাবাহিক সাফল্য অর্জন করেছেন নিলা। ২০১৬ সালে দাখিল পরীক্ষায় জিপিএ-৩.৭০, ২০১৮ সালে আলিম পরীক্ষায় জিপিএ-৩.৬৬ এবং ২০২২ সালে ফাজিল পরীক্ষায় ২.৯২ সিজিপিএ অর্জন করেন। পরে সিরাজগঞ্জ ইসলামিয়া কলেজ থেকে কামিল (মাস্টার্স সমমান) ডিগ্রি সম্পন্ন করেন। 

নিলা বলেন, “শিক্ষক হয়ে সমাজের জন্য কাজ করতে চাই। তাই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় আবেদন করেছি। একটি সরকারি চাকরি পেলে পরিবারের কষ্ট অনেকটাই লাঘব হবে।

নিলার মা শারমিন বেগম বলেন, মেয়েটা ছোটবেলা থেকেই খুব মেধাবী ও পরিশ্রমী। অনেক কষ্ট করে পড়াশোনা করিয়েছি। এখন শুধু চাই, সে যেন একটি সরকারি চাকরি পায়। 

অসুস্থ বাবা শাহিনুর বলেন, আমার মেয়ের ইচ্ছাশক্তিই তার সবচেয়ে বড় শক্তি। সরকারের কাছে অনুরোধ, তার যোগ্যতা বিবেচনা করে একটি কর্মসংস্থানের সুযোগ দেওয়া হোক।

সিরাজগঞ্জ ইসলামিয়া কলেজের আরবি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক খালিদ মাসুদ বলেন, নিলা অত্যন্ত মেধাবী, অধ্যবসায়ী ও সংগ্রামী শিক্ষার্থী। শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে সে যে সাফল্য অর্জন করেছে, তা সমাজের জন্য অনুকরণীয়। প্রতিকূলতাকে জয় করে এগিয়ে চলা নিলা খাতুন আজ প্রমাণ করেছেন শারীরিক সীমাবদ্ধতা নয়, দৃঢ় মনোবল, অধ্যবসায় ও আত্মবিশ্বাসই মানুষের সবচেয়ে বড় শক্তি। তার সংগ্রাম ও সাফল্যের গল্প সমাজের অসংখ্য মানুষকে নতুন করে স্বপ্ন দেখতে অনুপ্রাণিত করবে।




এ সম্পর্কিত আরো খবর