ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ইন্দোনেশিয়ায় ২৪০ যাত্রী নিয়ে জাহাজ নিখোঁজ ঠাকুরগাঁও সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত, আটক ২ কমলা হ্যারিসের বাড়িতে অনধিকার প্রবেশের চেষ্টা, পুলিশি নিরাপত্তা জোরদার রাজধানীতে সকালের বৃষ্টিতে সড়কে ভোগান্তি, ঝোড়ো হাওয়ার পূর্বাভাস ইয়েমেনে ফের তীব্র সংঘাত, ১২৯টি হামলার দাবি হুথিদের উত্তরখানে যুবলীগের গোপন বৈঠক, পুলিশি অভিযানে গ্রেপ্তার ৮ বিচ্ছেদ গুঞ্জন উড়িয়ে ছেলের জন্মদিনে একফ্রেমে রাজ-শুভশ্রী বিয়ের আনন্দ রূপ নিল বিষাদে, সড়কে ঝরল ৪ প্রাণ ইউক্রেনজুড়ে রাশিয়ার ভয়াবহ বিমান হামলা, ৯ জনের প্রাণহানি সুইডেনে সংসদ নির্বাচন: কট্টর ডানপন্থীদের সরকারে আসার জোর সম্ভাবনা

পা দিয়ে লিখে কামিল পাস সিরাজগঞ্জের নিলা খাতুনের, স্বপ্ন প্রাথমিকে শিক্ষকতা


  • আপলোড সময় : শুক্রবার ২৪ জুলাই, ২০২৬ সময় : ১০:৫৩ পিএম

রেজাউল করিম ঝন্টু,  সিরাজগঞ্জ

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ার নিলা খাতুন, জন্ম থেকেই দুই হাত নেই। কিন্তু শারীরিক প্রতিবন্ধকতা তার স্বপ্নকে থামাতে পারেনি। অদম্য ইচ্ছাশক্তি, কঠোর পরিশ্রম এবং পরিবারের অকুণ্ঠ সমর্থনে পা দিয়ে লিখেই ক‌রে‌ছেন কামিল (মাস্টার্স সমমান) ডিগ্রি অর্জন করেছেন। এখন তার লক্ষ্য সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করা।সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার  পূর্ণিমাগাতী ইউনিয়নের শাহিনুর বেগ ও শারমিন বেগম দম্পতির চার সন্তানের মধ্যে নিলা তৃতীয় সন্তান। জন্ম থেকেই দুই হাত না থাকলেও ছোটবেলা থেকেই লেখাপড়ার প্রতি ছিল তার প্রবল আগ্রহ। পরিবারের সহযোগিতায় পায়ের সাহায্যে লেখা শেখেন। বর্তমানে লেখাপড়া থেকে শুরু করে নিজের দৈনন্দিন প্রায় সব কাজই তিনি পা দিয়েই করেন। শুধু পড়াশোনাই নয়, ঘরের বিভিন্ন কাজেও তিনি সমান দক্ষ। পা দিয়ে তরকারি কাটা, মাছ পরিষ্কার, রান্নার কাজে সহযোগিতা, কাপড় গুছানো, এমনকি টিউবওয়েল চাপিয়ে পানি তোলার কাজও অনায়াসে করতে পারেন। তার এই আত্মনির্ভরশীলতা এলাকাবাসীর কাছে বিস্ময় ও অনুপ্রেরণার বিষয় হয়ে উঠেছে।

শিক্ষাজীবনে ধারাবাহিক সাফল্য অর্জন করেছেন নিলা। ২০১৬ সালে দাখিল পরীক্ষায় জিপিএ-৩.৭০, ২০১৮ সালে আলিম পরীক্ষায় জিপিএ-৩.৬৬ এবং ২০২২ সালে ফাজিল পরীক্ষায় ২.৯২ সিজিপিএ অর্জন করেন। পরে সিরাজগঞ্জ ইসলামিয়া কলেজ থেকে কামিল (মাস্টার্স সমমান) ডিগ্রি সম্পন্ন করেন। 

নিলা বলেন, “শিক্ষক হয়ে সমাজের জন্য কাজ করতে চাই। তাই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় আবেদন করেছি। একটি সরকারি চাকরি পেলে পরিবারের কষ্ট অনেকটাই লাঘব হবে।

নিলার মা শারমিন বেগম বলেন, মেয়েটা ছোটবেলা থেকেই খুব মেধাবী ও পরিশ্রমী। অনেক কষ্ট করে পড়াশোনা করিয়েছি। এখন শুধু চাই, সে যেন একটি সরকারি চাকরি পায়। 

অসুস্থ বাবা শাহিনুর বলেন, আমার মেয়ের ইচ্ছাশক্তিই তার সবচেয়ে বড় শক্তি। সরকারের কাছে অনুরোধ, তার যোগ্যতা বিবেচনা করে একটি কর্মসংস্থানের সুযোগ দেওয়া হোক।

সিরাজগঞ্জ ইসলামিয়া কলেজের আরবি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক খালিদ মাসুদ বলেন, নিলা অত্যন্ত মেধাবী, অধ্যবসায়ী ও সংগ্রামী শিক্ষার্থী। শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে সে যে সাফল্য অর্জন করেছে, তা সমাজের জন্য অনুকরণীয়। প্রতিকূলতাকে জয় করে এগিয়ে চলা নিলা খাতুন আজ প্রমাণ করেছেন শারীরিক সীমাবদ্ধতা নয়, দৃঢ় মনোবল, অধ্যবসায় ও আত্মবিশ্বাসই মানুষের সবচেয়ে বড় শক্তি। তার সংগ্রাম ও সাফল্যের গল্প সমাজের অসংখ্য মানুষকে নতুন করে স্বপ্ন দেখতে অনুপ্রাণিত করবে।




এ সম্পর্কিত আরো খবর