মাদারীপুর প্রতিনিধি:
মাদারীপুরে ১২ কোটি ৪০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত ছয়তলাবিশিষ্ট আধুনিক ডায়াবেটিস হাসপাতালের উদ্বোধন করা হয়েছে। শনিবার সকালে শহরের চৌরাস্তা এলাকায় নবনির্মিত হাসপাতাল ভবনের উদ্বোধন করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য জাহান্দার আলী মিয়া।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে মাদারীপুর ডায়াবেটিস সমিতি ভাড়া করা ভবনে ডায়াবেটিস রোগীদের চিকিৎসাসেবা দিয়ে আসছিল। পর্যাপ্ত অবকাঠামোর অভাব এবং সীমিত সুযোগ-সুবিধার কারণে রোগীদের কাঙ্ক্ষিত সেবা নিশ্চিত করতে নানা ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছিল। আধুনিক ও মানসম্মত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে নতুন হাসপাতাল ভবন নির্মাণের প্রকল্প গ্রহণ করা হয়।
গণপূর্ত অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ১২ কোটি ৪০ লাখ টাকা ব্যয়ে ছয়তলা হাসপাতাল ভবনের নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়। বিভিন্ন জটিলতা কাটিয়ে অবশেষে হাসপাতালটি উদ্বোধনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করল।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, ডায়াবেটিস বর্তমানে অন্যতম বড় স্বাস্থ্যঝুঁকি। এ রোগ নিয়ন্ত্রণে না থাকলে হৃদরোগ, কিডনি জটিলতা, চোখের সমস্যা, স্নায়ুর ক্ষতিসহ নানা জটিল রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়। তাই সুস্থ জীবনযাপনের জন্য ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা অত্যন্ত জরুরি।
বক্তারা আরও বলেন, নতুন হাসপাতালটি চালু হওয়ার ফলে জেলার ডায়াবেটিস রোগীরা আধুনিক ও উন্নত চিকিৎসাসেবা পাবেন। একই সঙ্গে দরিদ্র, অসহায় ও নিম্নআয়ের মানুষ যাতে সহজে চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করতে পারেন, সেদিকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। ব্যবসায়িক মনোভাব পরিহার করে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে রোগীদের সেবা দেওয়ার আহ্বান জানান তারা।
তারা বলেন, মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে চিকিৎসক, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং ডায়াবেটিস সমিতিকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। বিশেষ করে দরিদ্র রোগীদের জন্য সেবাকে আরও সহজলভ্য করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত রাখতে হবে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ও মাদারীপুর ডায়াবেটিস সমিতির সভাপতি কাজী হুমায়ুন কবির, গণপূর্ত অধিদফতরের মাদারীপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুলাহ্ আল মামুন, সচেতন নাগরিক কমিটির সভাপতি খান মোহাম্মদ শহীদ, মাদারীপুর ২৫০ শয্যা হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ও ডায়াবেটিস বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. অখিল সরকার, জেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
নতুন এই হাসপাতাল চালুর ফলে মাদারীপুর ও আশপাশের এলাকার ডায়াবেটিস রোগীরা উন্নত চিকিৎসাসেবা গ্রহণের পাশাপাশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পরামর্শ, পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা আরও সহজে পাওয়ার সুযোগ পাবেন বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেছেন।