ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ২৭ Jul ২০২৬,  ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রপ্তানি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ১৫ শতাংশ, আয় হতে পারে ৬৩.৪ বিলিয়ন ডলার রাজধানীতে ১৮ মন্ত্রী চলবেন এসকর্ট ছাড়া, বহাল থাকছে ৭ জনের সুবিধা সাতক্ষীরায় অপরিকল্পিত মৎস্য ঘের: পানিবন্দী হাজারও মানুষ, সড়ক-শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্লাবিত সাতক্ষীরার তিন হাসপাতালে হঠাৎ স্বাস্থ্যমন্ত্রী, অনুপস্থিত দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট দল ঘোষণা, নেই নাহিদ-লিটন সেনা কর্মকর্তাদের পদোন্নতি হোক মেধা ও যোগ্যতায়: প্রধানমন্ত্রী হামের উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১১৬০ জামায়াত জোট ছাড়ার গুঞ্জন নাকচ করল নেজামে ইসলাম চলনবিলে অবাধে ব্যবহার হচ্ছে নিষিদ্ধ চায়নাদুয়ারী জাল লক্ষ্মীপুরে উৎসবমুখর পরিবেশে ধারণ হলো ‘ইত্যাদি’র বিশেষ পর্ব

রপ্তানি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ১৫ শতাংশ, আয় হতে পারে ৬৩.৪ বিলিয়ন ডলার


  • আপলোড সময় : রবিবার ২৬ জুলাই, ২০২৬ সময় : ৮:৩০ পিএম

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে পণ্য ও সেবা রপ্তানিতে ১৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। এ লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হলে দেশের মোট রপ্তানি আয় দাঁড়াবে ৬৩ দশমিক ৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে। এর মধ্যে পণ্য রপ্তানি থেকে ৫৫ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার এবং সেবা রপ্তানি থেকে ৮ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার আয় করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

রোববার (২৬ জুলাই) সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ সংক্রান্ত সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, গত অর্থবছরে রপ্তানি খাতে নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হয়নি। তবে নতুন সরকারের ব্যবসাবান্ধব বিভিন্ন উদ্যোগ, ব্যবসা পরিচালনার প্রক্রিয়া সহজীকরণ এবং বিভিন্ন দেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে অগ্রগতির কারণে আগামী অর্থবছরে রপ্তানি খাতে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি হবে বলে সরকার আশাবাদী।

তিনি জানান, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে পণ্য ও সেবা মিলিয়ে ৬৩ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি আয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। এর মধ্যে পণ্য রপ্তানি থেকে ৫৫ বিলিয়ন ডলার এবং সেবা রপ্তানি থেকে ৮ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল। তবে বছর শেষে মোট রপ্তানি আয় দাঁড়িয়েছে ৫৫ বিলিয়ন ডলারে। এর মধ্যে পণ্য রপ্তানি হয়েছে ৪৮ বিলিয়ন ডলার এবং সেবা রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ৭ বিলিয়ন ডলার।

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, আগের অর্থবছরের তুলনায় রপ্তানি খাতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসেনি। কয়েক বছর ধরে এ খাতে এক ধরনের স্থবিরতা বিরাজ করছে। তবে আগামী অর্থবছরে এ পরিস্থিতি কাটিয়ে ওঠার বিষয়ে সরকার আশাবাদী।

তিনি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে চলমান সংঘাত, উন্নত দেশগুলোতে ভোগ ও চাহিদা কমে যাওয়ার মতো চ্যালেঞ্জ রয়েছে। তারপরও রপ্তানিমুখী শিল্পকে এগিয়ে নিতে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। ব্যবসা শুরু ও পরিচালনার জটিলতা কমিয়ে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, রপ্তানিকারকদের সহায়তায় সরকার আরও কিছু কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে যাচ্ছে। এর ফলে বিদেশি ক্রেতাদের কাছে বাংলাদেশের রপ্তানি সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি পাবে।

তিনি বলেন, দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির (এফটিএ) আলোচনা শিগগিরই শেষ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) সঙ্গেও এফটিএ চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়া চলছে। চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে আরও চার থেকে পাঁচটি দেশের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে।

এছাড়া বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রপ্তানি বাজার ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির আলোচনা শুরুর প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান তিনি।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি, সরকারি সহায়তা বৃদ্ধি এবং বাণিজ্যিক প্রক্রিয়া সহজ করার মাধ্যমে আগামী দিনে রপ্তানি খাতে কাঙ্ক্ষিত প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভব হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত শুল্ক প্রসঙ্গে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশের ওপর মার্কিন শুল্ক পরিস্থিতিতে বড় কোনো পরিবর্তন হয়নি। প্রথমে ৩৭ শতাংশ পারস্পরিক শুল্ক ঘোষণা করা হলেও পরে তা কমিয়ে ১৯ শতাংশ করা হয়। পরবর্তী সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চ আদালতের একটি রায়ের পর সেটি বাতিল হয়ে যায়।

তিনি জানান, এরপর যুক্তরাষ্ট্রের নতুন আইনি কাঠামোর আওতায় সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের সুযোগ তৈরি হলেও পরবর্তীতে শ্রম-সংক্রান্ত ইস্যুতে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর করা হয়েছে।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাস্তবে বাংলাদেশের রপ্তানির ওপর নতুন করে অতিরিক্ত কোনো শুল্ক আরোপ হয়নি। প্রায় ৬০টি দেশের ক্ষেত্রেই একই ধরনের ব্যবস্থা কার্যকর রয়েছে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের ফলে আগামী অর্থবছরে দেশের রপ্তানি খাত নতুন গতি পাবে এবং নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হবে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর