সাতক্ষীরা প্রতিনিধি:
‘বৃক্ষরোপণে সাজাই দেশ, সমৃদ্ধ হোক বাংলাদেশ’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সাতক্ষীরায় 'বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা ২০২৬'-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে।
আজ রোববার (২ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৯টায় সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসন ও সামাজিক বন বিভাগের যৌথ আয়োজনে শহরের শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কে ১০ দিনব্যাপী এই মেলার শুভ উদ্বোধন করা হয়।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) শেখ মঈনুল ইসলাম মঈনের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ফিতা কেটে ও বেলুন-ফেস্টুন উড়িয়ে মেলার শুভ সূচনা করেন সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক মিস কাউসার আজিজ।
উদ্বোধনী বক্তব্যে জেলা প্রশাসক বলেন, "পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য এক পৃথিবী নিশ্চিত করতে আমাদের বেশি করে গাছ লাগাতে হবে। তবে শুধু বৃক্ষরোপণ করলেই দায়িত্ব শেষ নয়, রোপণ করা গাছের নিয়মিত পরিচর্যা ও সংরক্ষণেও সবাইকে সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।" এ সময় তিনি ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও কোমলমতি শিক্ষার্থীদের নিজ নিজ জায়গা থেকে বৃক্ষরোপণ অভিযান সফল করতে ও পরিবেশ সুরক্ষায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা জেলা পুলিশ সুপার আশরাফুল আলম, জেলা বিএনপির সদস্যসচিব আবু জাহিদ ডাবলু, যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল হাসান হাদী, জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ মো. সাইফুল ইসলাম, যশোরের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা অমিতা মণ্ডল, জেলা সহকারী মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মুহা. আবুল খায়ের, সাতক্ষীরা সামাজিক বনাঞ্চল জোনের সহকারী বন সংরক্ষক প্রিয়াঙ্কা হালদার, সামাজিক বনাঞ্চল জোনের কর্মকর্তা জি এম মারুফ বিল্লাহ এবং সদর উপজেলা ভারপ্রাপ্ত মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আবুল হোসেনসহ অনেকে।
এর আগে সকালের দিকে সাতক্ষীরা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কে এসে শেষ হয়।
মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন শেষে প্রধান অতিথিসহ অন্যান্য আমন্ত্রিত অতিথিরা মেলা প্রাঙ্গণের বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখেন।
আয়োজকেরা জানান, এবারের বৃক্ষমেলায় সরকারি-বেসরকারি নার্সারি ও ব্যক্তি উদ্যোগে মোট ৩৫টি স্টল দেওয়া হয়েছে। স্টলগুলোতে বিভিন্ন দেশি-বিদেশি প্রজাতির ফলদ, বনজ, ঔষধি ও সৌন্দর্যবর্ধনকারী গাছের চারা প্রদর্শন ও সাশ্রয়ী মূল্যে বিক্রি করা হচ্ছে।
এ সময় জেলা প্রশাসন, বন বিভাগ, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সংবাদকর্মী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।