খুলনা বিশেষায়িত হাসপাতালের ফার্মেসি বিভাগে করোনা পরীক্ষার অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে সাময়িক বরখাস্ত (সাসপেন্ডেড) থাকা এক মেডিকেল টেকনোলজিস্টকে নিয়মিত দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে—এমন গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। আলোচিত এই কর্মকর্তা প্রকাশ কুমার দাশের উপস্থিতি নিয়ে সংগৃহীত ভিডিও ফুটেজ, একাধিক কল রেকর্ড এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বক্তব্য সামনে আসার পর নতুন করে ব্যাপক প্রশ্নের মুখে পড়েছে খুলনা বিশেষায়িত হাসপাতাল প্রশাসন।
অনুসন্ধান ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালে খুলনা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে বিদেশগামীদের করোনা পরীক্ষার অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে মেডিকেল টেকনোলজিস্ট প্রকাশ কুমার দাশের বিরুদ্ধে। সে সময় সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তদন্তে প্রায় ২ কোটি ৫৮ লাখ টাকার আর্থিক অনিয়মের সত্যতা পাওয়া যায় এবং পরবর্তী সময়ে তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়। তবে সম্প্রতি সংগৃহীত ভিডিও ফুটেজ ও কল রেকর্ডের সূত্রে জানা গেছে, সরকারি নিয়ম অমান্য করে তিনি খুলনা বিশেষায়িত হাসপাতালের ফার্মেসি বিভাগে নিয়মিত দায়িত্ব পালন করছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে হাসপাতালের কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী জানান, বিষয়টি অনেক দিন ধরেই প্রশাসনের নজরে আনার চেষ্টা করা হলেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। বিশেষ করে আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. প্রকাশ চন্দ্র দেবনাথকে একাধিকবার জানানো সত্ত্বেও তিনি উদাসীন ছিলেন বলে তাদের অভিযোগ।
অবশ্য এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আরএমও ডা. প্রকাশ চন্দ্র দেবনাথ দাবি করেন, এ ধরনের অনিয়মের বিষয় তার জানা নেই। অন্যদিকে খুলনা বিশেষায়িত হাসপাতালের পরিচালক ডা. আবু শাহীন এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, তাদের কাছে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো তথ্য নেই; তবে অভিযোগ খতিয়ে দেখে সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।