সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি / : 105
সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় রডবোঝাই একটি ট্রাক ও দুধবাহী পিকআপের মুখোমুখি সংঘর্ষে সাদ্দাম হোসেন (৩০) নামে এক পিকআপচালক ঘটনাস্থলেই নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনার পর সময়মতো পুলিশ না আসার অভিযোগ তুলে নিহতের মরদেহ মহাসড়কে রেখে প্রায় চার ঘণ্টা ধরে যান চলাচল বন্ধ করে বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করেন অন্যান্য গাড়ির চালকেরা।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) ভোরে সিরাজগঞ্জ জেলার উল্লাপাড়া উপজেলার হাটিকুমরুল ইউনিয়নের পাটধারী বাজার এলাকায় পাবনা-হাটিকুমরুল আঞ্চলিক মহাসড়কে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে। নিহত সাদ্দাম হোসেন নাটোর জেলার সিংড়া উপজেলার ছাদেক আলীর ছেলে। বিক্ষোভে ওই মহাসড়কের প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকা জুড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয় এবং সব ধরনের যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বন্দরনগরী চট্টগ্রাম থেকে আসা একটি রডবোঝাই ট্রাকের সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা দুধবাহী পিকআপের মুখোমুখি বিকট সংঘর্ষ হয়। এতে পিকআপটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং পিকআপচালক সাদ্দাম হোসেন ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান।
দুর্ঘটনার পর পরই ক্ষুব্ধ চালকেরা ভোর সাড়ে ৪টা থেকে সকাল ৮টা ২০ মিনিট পর্যন্ত নিহতের মরদেহ সড়কে রেখে পাবনা-হাটিকুমরুল মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন। এর ফলে মহাসড়কটির উভয় পাশে প্রায় দুই কিলোমিটারজুড়ে তীব্র যানজট লেগে যায়, যাতে শত শত যানবাহন আটকে পড়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ যাত্রীরা।
স্থানীয় অধিবাসী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, মারাত্মক দুর্ঘটনার পরপরই একাধিকবার হাইওয়ে থানায় খবর দেওয়া হলেও পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়নি। তাদের দাবি, পুলিশ সময়মতো উপস্থিত হয়ে উদ্ধারকাজ শুরু করতে পারলে আহত চালককে বাঁচানোর একটা সুযোগ থাকত।
তবে স্থানীয়দের অবহেলার অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছেন হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) আরব আলী। তিনি জানান, ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ পৌঁছানোর পর নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে যথাযথ প্রক্রিয়া শেষে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এছাড়া আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য নিহতের পরিবারের সদস্যদের সলঙ্গা থানায় মামলা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
পরে পুলিশ ও কর্তৃপক্ষের আশ্বাসে দীর্ঘ চার ঘণ্টা পর সকাল ৮টা ২০ মিনিটের দিকে চালকেরা মহাসড়ক থেকে অবরোধ তুলে নিলে ওই আঞ্চলিক মহাসড়কে পুনরায় যান চলাচল স্বাভাবিক হতে শুরু করে।