ভালুকা (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি
ময়মনসিংহের ভালুকায় বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এক নারীর কাছ থেকে গত দুই বছরে আনুমানিক ৫ থেকে ৬ লাখ টাকা নেওয়া, পরে বিয়ে করতে অস্বীকৃতি এবং হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে রবিন মিয়া (২৬) নামের এক যুবকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় উপজেলার হবিরবাড়ী ইউনিয়নের নন্দীপাড়া এলাকার মোছা. স্মৃতি আক্তার (২৭) ভালুকা মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারী। তবে অভিযোগে উত্থাপিত অর্থ লেনদেন, হুমকি ও অন্যান্য বিষয়ের সত্যতা তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
থানায় দেওয়া লিখিত অভিযোগে স্মৃতি আক্তার উল্লেখ করেন, প্রায় ১২ বছর আগে গাজীপুরের শ্রীপুর থানার জাহাঙ্গীরপুর এলাকার আবুল কাশেমের সঙ্গে ইসলামী শরিয়ত অনুযায়ী তাঁর বিয়ে হয়। তাঁদের সংসারে দুটি সন্তান রয়েছে। বর্তমানে তাঁর স্বামী বিদেশে অবস্থান করছেন।
অভিযোগে স্মৃতি আক্তার বলেন, স্বামী বিদেশে থাকার সুযোগে রবিন মিয়া বিভিন্ন সময় তাঁকে প্রেমের প্রস্তাব দিতে থাকেন। একই প্রতিষ্ঠানে চাকরি করার সুবাদে তাঁদের মধ্যে পরিচয় হয়। স্মৃতি তাঁর স্বামী থাকার বিষয়টি রবিনকে জানান এবং তাঁকে বিরক্ত না করার জন্য অনুরোধ করেন। কিন্তু এরপরও রবিন বিভিন্নভাবে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রাখেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
একপর্যায়ে রবিন বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তাঁর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন বলে অভিযোগ করেন স্মৃতি। তাঁর দাবি, গত দুই বছরে বিভিন্ন সময়ে বিয়ের কথা বলে রবিন তাঁর কাছ থেকে মোট আনুমানিক ৫ থেকে ৬ লাখ টাকা নেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, পরবর্তীতে স্মৃতির স্বামী বিষয়টি জানতে পারেন। এরপর তিনি স্মৃতির সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। এ অবস্থায় স্মৃতি অভিযুক্ত রবিনকে বিয়ের বিষয়ে চাপ দিলে তিনি বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানান। একই সঙ্গে তাঁকে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন স্মৃতি।
স্মৃতির অভিযোগ, গত ১৪ আগস্ট রাত আনুমানিক ১১টার দিকে রবিনের মুঠোফোনে কল করলে তাঁকে গালাগাল করা হয়। এ সময় তাঁকে খুন ও জখমের হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
পরে বিষয়টি স্থানীয় কয়েকজনকে জানিয়ে সমাধানের চেষ্টা করা হয়। তবে স্থানীয়ভাবে বিষয়টির মীমাংসা সম্ভব না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত ভালুকা মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ করেন স্মৃতি আক্তার।
অভিযোগকারী স্মৃতি আক্তার বলেন, বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তাঁর কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়েছে। এখন বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে তাঁকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত রবিন মিয়ার সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাক্ষাতে কথা বলবেন বলে জানান। পরে তাঁর সঙ্গে আবার যোগাযোগ করা হলে তিনি স্থানীয় মনির নামে এক ব্যক্তির মাধ্যমে সাংবাদিকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। এ সময় রবিন বলেন, ‘মেয়ে যা পারে গিয়ে করুক।’ ভালুকা মডেল থানার উপপরিদর্শক মশিউর বলেন, ‘অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত চলছে।’
অভিযোগে স্মৃতি আক্তার দাবি করেছেন, স্থানীয়ভাবে বিষয়টি তদন্ত করা হলে এ ঘটনায় সাক্ষী পাওয়া যাবে। তবে তাঁর করা অভিযোগের অর্থ লেনদেন, হুমকি কিংবা অন্যান্য বিষয় তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে অভিযোগের সত্যতা ও আইনগত ব্যবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।