ঝালকাঠি প্রতিনিধি
ঝালকাঠির রাজাপুরে নিখোঁজের একদিন পর খাল থেকে মো. ফাহিম হাওলাদার (১৪) নামে এক শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
বুধবার দুপুরে উপজেলার গালুয়া ইউনিয়নের নিজ গালুয়া এলাকার একটি স্থানীয় খাল থেকে ফাহিমের ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করেন স্বজন ও স্থানীয়রা।
নিহত শিক্ষার্থী মো. ফাহিম হাওলাদার গালুয়া ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ও সৌদি প্রবাসী মো. সোহাগ হাওলাদারের ছেলে। সে স্থানীয় ৪৬ নম্বর নিজ গালুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। মর্মান্তিক এই ঘটনাটির সত্যতা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন রাজাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুজন বিশ্বাস।
পরিবারের স্বজনদের সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার বিদ্যালয় থেকে ক্লাস শেষে বাড়ি ফিরে মাকে খাবারের কথা জানায় ফাহিম। এর পর সে বাড়ির সামনের খালে গোসল করার উদ্দেশ্যে চলে যায়। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও ফাহিম বাড়িতে ফিরে না আসায় তার মা ও প্রতিবেশীরা চিন্তিত হয়ে তাকে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে বাড়ি থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরের একটি খালের ঘাটে তার জুতা ও জামাকাপড় পড়ে থাকতে দেখা যায়।
স্বজনরা জানান, ফাহিম কিছুটা মানসিক ভারসাম্যহীন (হাবাগোবা) এবং দীর্ঘদিন ধরে মৃগীরোগে ভুগছিল। ঘটনার পরপরই স্থানীয় বাসিন্দারা জাল টেনে খালে দীর্ঘক্ষণ তল্লাশি চালিয়েও তার কোনো সন্ধান মেলাতে পারেননি। পরবর্তীতে মঙ্গলবার রাতে রাজাপুর ফায়ার সার্ভিসে খবর দেওয়া হলে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
অবশেষে বুধবার সকালে ফাহিমের দাদা আবদুল মান্নান হাওলাদার (৭৫) স্থানীয়দের সহায়তায় খালে পুনরায় জাল ফেলে খোঁজাখুঁজি করার একপর্যায়ে ফাহিমের মরদেহ উদ্ধার করতে সক্ষম হন। নিখোঁজ শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধারের খবর পেয়ে রাজাপুর থানা পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।
ঘটনার সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে রাজাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সুজন বিশ্বাস জানান, ফাহিমের মৃত্যুর ঘটনায় তার পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের অভিযোগ বা দাবি না থাকায় এবং তাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই ফাহিমের মরদেহ দাফনের জন্য স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।