ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ইন্দোনেশিয়ায় ২৪০ যাত্রী নিয়ে জাহাজ নিখোঁজ ঠাকুরগাঁও সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত, আটক ২ কমলা হ্যারিসের বাড়িতে অনধিকার প্রবেশের চেষ্টা, পুলিশি নিরাপত্তা জোরদার রাজধানীতে সকালের বৃষ্টিতে সড়কে ভোগান্তি, ঝোড়ো হাওয়ার পূর্বাভাস ইয়েমেনে ফের তীব্র সংঘাত, ১২৯টি হামলার দাবি হুথিদের উত্তরখানে যুবলীগের গোপন বৈঠক, পুলিশি অভিযানে গ্রেপ্তার ৮ বিচ্ছেদ গুঞ্জন উড়িয়ে ছেলের জন্মদিনে একফ্রেমে রাজ-শুভশ্রী বিয়ের আনন্দ রূপ নিল বিষাদে, সড়কে ঝরল ৪ প্রাণ ইউক্রেনজুড়ে রাশিয়ার ভয়াবহ বিমান হামলা, ৯ জনের প্রাণহানি সুইডেনে সংসদ নির্বাচন: কট্টর ডানপন্থীদের সরকারে আসার জোর সম্ভাবনা

রংপুরে তালাবদ্ধ বাড়িতে মিলল শিক্ষক পরিবারের চারজনের মরদেহ


  • আপলোড সময় : রবিবার ২৩ আগস্ট, ২০২৬ সময় : ৯:০৯ এএম

রংপুর নগরীর একটি বাইরে থেকে তালাবদ্ধ বাড়ি থেকে অবসরপ্রাপ্ত এক স্কুলশিক্ষক, তার স্ত্রী ও দুই সন্তানের গলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বেশ কিছুদিন ধরে তালাবদ্ধ থাকা ওই বাড়িটি থেকে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়ালে স্থানীয় লোকজনের মনে তীব্র সন্দেহ সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দিলে কোতোয়ালি থানার সদস্যরা গিয়ে দরজার তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন এবং চারজনের মরদেহ উদ্ধার করেন। নিহত গৃহকর্তার মরদেহ বাড়ির ছাদে, তার স্ত্রী ও মেয়ের মরদেহ তিনতলায় ওঠার সিঁড়িতে এবং ছোট ছেলের মরদেহ খাটের নিচে পড়ে ছিল।

নিহত চারজন হলেন– অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল (৬৫), তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী বালা (৫০), তাদের মেয়ে প্রার্থী চক্রবর্তী (২৫) এবং ছেলে প্রীয়ম চক্রবর্তী (১২)। একই পরিবারের চার সদস্যের এমন নির্মম ও রহস্যজনক পরিণতিতে পুরো এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া এবং তৈরি হয়েছে ব্যাপক চাঞ্চল্য।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত কয়েক দিন ধরে ওই পরিবারের দোতলা বাড়িটি বাইরে থেকে প্রধান গেটে তালাবদ্ধ অবস্থায় ছিল। প্রতিবেশীরা ভাবছিলেন পরিবারটি হয়তো কোথাও বেড়াতে গিয়েছে। তবে কয়েক দিন পার হওয়ার পর ঘরের ভেতর থেকে পঁচা দুর্গন্ধ বের হতে শুরু করে। সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দুর্গন্ধ অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছালে প্রতিবেশীদের মনে চরম সন্দেহ দেখা দেয়। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে এলাকাবাসী তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় থানায় খবর দেন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং তালা ভেঙে ঘরের ভেতরে প্রবেশ করে তল্লাশি চালায়।

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল কাদের জানান, শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীর মরদেহ বাড়ির ছাদ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। অন্যদিকে তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী ও মেয়ে প্রার্থী চক্রবর্তীর মরদেহ উদ্ধার করা হয় তিনতলায় ওঠার সিঁড়ি থেকে। আর সবচেয়ে ছোট সদস্য, ছেলে প্রীয়ম চক্রবর্তীর মরদেহটি পাওয়া যায় দোতলার ঘরের খাটের নিচে।

ওসি নাজমুল কাদের আরও বিস্তারিত উল্লেখ করে বলেন, দোতলা বাড়িটির প্রধান গেট বাইরে থেকে তালাবদ্ধ ছিল। আমরা তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করি। ঘরের বিভিন্ন স্থান থেকে একে একে চারটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার ভয়াবহতা ও ধরণ বিবেচনা করে তাৎক্ষণিকভাবে সিআইডির ফরেনসিক ও তদন্ত দলকে খবর দেয়া হয়। সিআইডির বিষেশজ্ঞ তদন্ত দল ইতিমধ্যে ঘটনাস্থল থেকে প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করেছে এবং কীভাবে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটল তা খতিয়ে দেখতে আনুষ্ঠানিক তদন্ত কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।


আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হতে পারে অথবা পারিবারিক কোনো মর্মান্তিক ঘটনার কারণে এই ট্র্যাজেডি ঘটেছে। তবে এটি হত্যাকাণ্ড নাকি অন্য কোনো রহস্য লুকিয়ে আছে, তা উদ্‌ঘাটনে গভীর তদন্ত চালানো হচ্ছে। মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ এবং ঠিক কত দিন বা কত সময় আগে তাদের মৃত্যু হয়েছে তা জানার জন্য পুলিশ ও সিআইডির ফরেনসিক দল সমন্বিতভাবে কাজ করছে। উদ্ধার করা মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের প্রক্রিয়ার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলেই মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা সম্ভব হবে বলে আশা করছে পুলিশ।


এদিকে মর্মান্তিক এই ঘটনাটিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার (ডিআইজি) মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, চাঞ্চল্যকর এই ঘটনার আদ্যোপান্ত বের করতে পুলিশ কাজ করছে। এর পেছনে কোনো অপরাধ চক্র জড়িত আছে কি না বা পারিবারিক কোনো সংকট ছিল কি না, সব দিক বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের কাজ জোরকদমে চলছে। অপরাধী যারাই হোক না কেন, দ্রুত তাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।


এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল একজন সম্মানীয় ব্যক্তি ছিলেন। পরিবারের সদস্যদের সাথে স্থানীয়দের সম্পর্কও স্বাভাবিক ছিল। কিন্তু হঠাৎ করে পুরো পরিবার এভাবে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়ায় স্থানীয়দের মনে নানা প্রশ্ন ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। বাড়ির প্রধান ফটকে বাইরে থেকে তালা লাগানো থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করে যে, এটি কোনো সাধারণ মৃত্যু নয়। পুলিশের তদন্ত এগোলে এবং ফরেনসিক প্রতিবেদনের তথ্য সামনে আসলেই কেবল এই ঘটনার প্রকৃত রহস্য উন্মোচিত হবে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর