যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে ইরানের বিরুদ্ধে চলমান অর্থনৈতিক চাপের অভিযানে যেকোনো প্রতিবেশী দেশ যোগ দিলে তাদের সরাসরি শত্রু হিসেবে বিবেচনা করা হবে বলে কড়া হুঁশিয়ারি ব্যক্ত করেছে তেহরান। একই সঙ্গে আমেরিকার এই পদক্ষেপের সঙ্গে হাত মেলানো এসব দেশের নিজস্ব স্বার্থ ও নিরাপত্তার ওপর আঘাত হানার পরোক্ষ ইঙ্গিতও দিয়েছে দেশটি।
শনিবার (২২ আগস্ট) দেশটির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবিকে (IRIB) দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে এই কঠোর সতর্কবার্তা প্রকাশ করেন ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মোহসেন রেজাই।
আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও অর্থনৈতিক চাপ বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে তিনি বলেন, ‘আমাদের কোনো প্রতিবেশী দেশ যেন যুক্তরাষ্ট্রের এই অর্থনৈতিক যুদ্ধে কোনোভাবেই যোগ না দেয়। অন্যথায় আমরা সেসব দেশকে স্পষ্টত আমাদের শত্রু হিসেবে বিবেচনা করতে বাধ্য হব।’
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন অর্থনৈতিক হুমকির জোরালো মোকাবিলার লক্ষ্যেই ইরানের পক্ষ থেকে এই তীব্র প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে। এর আগে গত বুধবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দেন যে, ইরানের বিরুদ্ধে এযাবৎকালের সবচেয়ে ‘কঠোর অর্থনৈতিক অভিযান’ পরিচালনা করবে তার সরকার।
ট্রাম্পের এই ঘোষণার পরদিন মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টও ইরানের বিরুদ্ধে ওয়াশিংটনের নতুন অর্থনৈতিক পদক্ষেপ বাস্তবায়নের বার্তা তুলে ধরেন।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এর আগেও বিশ্ববাসীকে সতর্ক করে বলেছিলেন, যেসব দেশ ইরানকে ‘যেকোনো ধরনের অর্থনৈতিক বা বাণিজ্যিক সহায়তা’ কিংবা কোনো প্রকার অর্থনৈতিক অবকাশ সুবিধা প্রদান করবে, তাদের ওপরও নেমে আসবে ‘বিরাট অর্থনৈতিক পরিণতি’ এবং কঠোর আঘাত।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা শুরু করার পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে দুই পক্ষের মধ্যে যুদ্ধ ও তীব্র আঞ্চলিক উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। সম্প্রতি সামরিক সংঘাতের পাশাপাশি অর্থনৈতিক চাপ, বহুমাত্রিক নিষেধাজ্ঞা ও দুপক্ষের পাল্টাপাল্টি হুমকির কারণে এই আঞ্চলিক সংঘাত আরও বিস্তৃত ও দীর্ঘায়িত হওয়ার চরম আশঙ্কার সৃষ্টি হয়েছে।