ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ইন্দোনেশিয়ায় ২৪০ যাত্রী নিয়ে জাহাজ নিখোঁজ ঠাকুরগাঁও সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত, আটক ২ কমলা হ্যারিসের বাড়িতে অনধিকার প্রবেশের চেষ্টা, পুলিশি নিরাপত্তা জোরদার রাজধানীতে সকালের বৃষ্টিতে সড়কে ভোগান্তি, ঝোড়ো হাওয়ার পূর্বাভাস ইয়েমেনে ফের তীব্র সংঘাত, ১২৯টি হামলার দাবি হুথিদের উত্তরখানে যুবলীগের গোপন বৈঠক, পুলিশি অভিযানে গ্রেপ্তার ৮ বিচ্ছেদ গুঞ্জন উড়িয়ে ছেলের জন্মদিনে একফ্রেমে রাজ-শুভশ্রী বিয়ের আনন্দ রূপ নিল বিষাদে, সড়কে ঝরল ৪ প্রাণ ইউক্রেনজুড়ে রাশিয়ার ভয়াবহ বিমান হামলা, ৯ জনের প্রাণহানি সুইডেনে সংসদ নির্বাচন: কট্টর ডানপন্থীদের সরকারে আসার জোর সম্ভাবনা

সুন্দরবন রক্ষায় দাকোপে প্লাস্টিকবিরোধী অভিযান


  • আপলোড সময় : রবিবার ২৩ আগস্ট, ২০২৬ সময় : ৪:৩৮ পিএম

খুলনা প্রতিনিধি

সুন্দরবন ও উপকূলীয় অঞ্চলের পরিবেশ এবং জীববৈচিত্র্য রক্ষায় প্লাস্টিক ও পলিথিনের ব্যবহার কমানোর লক্ষ্যে খুলনার দাকোপে সচেতনতামূলক ও প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়েছে। সামাজিক সংগঠন ‘ইয়ুথ ফর দি সুন্দরবন’ এবং ‘রূপান্তর’-এর যৌথ উদ্যোগে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

রোববার (২৩ আগস্ট) সকাল ১০টায় উপজেলা কৃষি ট্রেনিং সেন্টার মিলনায়তনে এ উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। ইয়ুথ ফর সুন্দরবন যুব ফোরামের সভাপতি গিরিশ চন্দ্র রায়ের সভাপতিত্বে সভাটি সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সহ-সভাপতি অমিত রায়। এতে স্বাগত বক্তব্য দেন প্রজেক্ট অফিসার সাকী রেজওয়ানা।

আলোচনা সভায় রূপান্তরের প্রতিনিধি বিপাশা রায়, চালনা কে. সি. পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক সিদ্ধার্থ রায় ও মনীষা বাছাড়, আবুল হোসেন মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা স্নেহলতা রায়সহ স্থানীয় ব্যবসায়ী, বনজীবী এবং সংগঠনের প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন।

সভায় বক্তারা বলেন, প্লাস্টিক ও পলিথিন বর্জ্য বর্তমানে পরিবেশের জন্য বড় ধরনের হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব বর্জ্য জলাশয়, মাটি ও জীববৈচিত্র্যের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলছে। একই সঙ্গে নদী ও উপকূলীয় জলাশয়ে প্লাস্টিক জমে জলজ প্রাণীর স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে।

বক্তারা বলেন, সুন্দরবন সংলগ্ন এলাকায় প্লাস্টিক ও পলিথিনের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে ভবিষ্যতে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের ওপর এর ক্ষতিকর প্রভাব আরও বাড়তে পারে। তাই সুন্দরবন ও উপকূলীয় অঞ্চলের পরিবেশ সুরক্ষায় এখনই কার্যকর ও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

আলোচনায় একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক বা সিঙ্গেল ইউজ প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। এর বিকল্প হিসেবে পরিবেশবান্ধব এবং পুনঃব্যবহারযোগ্য পণ্য ব্যবহারে স্থানীয় জনগণকে উৎসাহিত করার আহ্বান জানান বক্তারা।

তারা বলেন, শুধু প্রশাসনিক উদ্যোগের মাধ্যমে প্লাস্টিক দূষণ রোধ করা সম্ভব নয়। এজন্য সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী, বনজীবী ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। নিজ নিজ অবস্থান থেকে প্লাস্টিক ও পলিথিনের ব্যবহার কমানোর পাশাপাশি যত্রতত্র বর্জ্য ফেলা বন্ধ করতে হবে।

আলোচনা সভা শেষে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে প্লাস্টিক ও পলিথিনের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করা হয়। পরে এলাকাভিত্তিক প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ কর্মসূচিতে স্থানীয় বাসিন্দারাও স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন।

আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সুন্দরবন ও উপকূলীয় এলাকার পরিবেশ সুরক্ষা এবং জীববৈচিত্র্য রক্ষায় ভবিষ্যতেও এ ধরনের সচেতনতামূলক ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। স্থানীয় পর্যায়ে প্লাস্টিক দূষণ কমাতে জনগণের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব পণ্য ব্যবহারে উৎসাহ দেওয়া হবে।

সুন্দরবনের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক সম্পদ ও জীববৈচিত্র্যের আধার রক্ষায় প্লাস্টিক ও পলিথিনের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি নিয়মিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম জোরদারের ওপরও গুরুত্ব দেন সংশ্লিষ্টরা।



এ সম্পর্কিত আরো খবর