ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ইন্দোনেশিয়ায় ২৪০ যাত্রী নিয়ে জাহাজ নিখোঁজ ঠাকুরগাঁও সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত, আটক ২ কমলা হ্যারিসের বাড়িতে অনধিকার প্রবেশের চেষ্টা, পুলিশি নিরাপত্তা জোরদার রাজধানীতে সকালের বৃষ্টিতে সড়কে ভোগান্তি, ঝোড়ো হাওয়ার পূর্বাভাস ইয়েমেনে ফের তীব্র সংঘাত, ১২৯টি হামলার দাবি হুথিদের উত্তরখানে যুবলীগের গোপন বৈঠক, পুলিশি অভিযানে গ্রেপ্তার ৮ বিচ্ছেদ গুঞ্জন উড়িয়ে ছেলের জন্মদিনে একফ্রেমে রাজ-শুভশ্রী বিয়ের আনন্দ রূপ নিল বিষাদে, সড়কে ঝরল ৪ প্রাণ ইউক্রেনজুড়ে রাশিয়ার ভয়াবহ বিমান হামলা, ৯ জনের প্রাণহানি সুইডেনে সংসদ নির্বাচন: কট্টর ডানপন্থীদের সরকারে আসার জোর সম্ভাবনা

রোহিঙ্গা সংকটের ৯ বছর: 'আমাদের একমাত্র সমাধান নিজ ভূমিতে টেকসই প্রত্যাবাসন'


  • আপলোড সময় : সোমবার ২৪ আগস্ট, ২০২৬ সময় : ১০:১৪ এএম

আজ থেকে ঠিক ৯ বছর পূর্বে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে দেশটির সামরিক বাহিনীর ভয়াবহ পৈশাচিক নির্যাতন ও গণহত্যার মুখে প্রাণ বাঁচাতে পাহাড়ি দুর্গম পথ পেরিয়ে স্বপরিবারে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছিলেন তরুণ রোহিঙ্গা যুবক মোহাম্মদ আরিফুল্লাহ (২৮)। ২০১৭ সালের ২৫ আগস্টের সেই রক্তঝরা নারকীয় স্মৃতির কথা স্মরণ করতে গিয়ে আজও চোখে জল আসে তাঁর। আরিফুল্লাহর মতে, সেদিন মিলিটারির হত্যাযজ্ঞ থেকে জীবন বাঁচাতে একটানা আট দিন হেঁটে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করলেও তাঁর মন পড়ে আছে নিজ মাতৃভূমিতে। নিজের দেশে, নিজের ভিটেমাটিতে ফিরে যাওয়ার আকুল আকুতি আজ আশ্রিত লাখ লাখ রোহিঙ্গার কণ্ঠে।

জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআরের সর্বশেষ হালনাগাদ পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, বর্তমানে বাংলাদেশে বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত হয়ে আশ্রয় নেওয়া মিয়ানমারের অধিবাসী তথা রোহিঙ্গার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২ লাখ ২ হাজার ৩৪ জনে। ২০২৩ সালের শেষ ভাগ থেকে মিয়ানমারের জান্তা সামরিক বাহিনীর সঙ্গে শক্তিশালী সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির তীব্র সংঘাত শুরু হলে পরিস্থিতি আরও জটিল রূপ ধারণ করে। যার ফলে ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের জুলাই মাস পর্যন্ত নতুন করে আরও প্রায় ২ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অনুপ্রেবেশ করে নতুন মানবিক চাপ সৃষ্টি করেছে।

রাখাইন রাজ্যের সার্বিক রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাজনিত চরম অনিশ্চয়তা সত্ত্বেও নিজেদের পুরোনো ঘরে ফিরতে উন্মুখ হয়ে আছেন আশ্রিত রোহিঙ্গারা। সেই লক্ষ্যের অংশ হিসেবে ক্যাম্পগুলোতে সাধারণ আশ্রিতদের মতামত ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার ভিত্তিতে গঠিত হয়েছে ‘ইউনাইটেড কাউন্সিল অব রোহিঙ্গা’ (ইউসিআর)। শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের (আরআরআরসি) দাপ্তরিক অনুমতি সাপেক্ষে কক্সবাজারের ৩৩টি শরণার্থী ক্যাম্পে ইউসিআরের প্রতিনিধি নির্বাচন সম্পন্ন হয়। স্থানীয় ইমাম, শিক্ষক, নারী প্রতিনিধি, তরুণ, প্রবাসী এবং কমিউনিটি মাঝিসহ ১৪টি নির্দিষ্ট শ্রেণি থেকে প্রতিনিধি বাছাই করা হয়, যা বর্তমানে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ও অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা রক্ষায় এক বড় নেতৃত্ব প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম হিসেবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইতিবাচক পরিচিতি লাভ করেছে।


ইউসিআরের প্রেসিডেন্সিয়াল প্যানেলের প্রভাবশালী সদস্য সৈয়দ উল্লাহ অত্যন্ত স্পষ্টভাবে জানান যে, বিপদের সময়ে মানবিক আশ্রয় দিয়ে জীবন রক্ষা করায় তারা বাংলাদেশের সাধারণ জনগণ ও সরকারের প্রতি গভীরভাবে কৃতজ্ঞ। কিন্তু তারা এখানে স্থায়ীভাবে থাকার জন্য আসেননি। রোহিঙ্গাদের জন্য টেকসই ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনই একমাত্র স্থায়ী সমাধান এবং এই লক্ষ্যেই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে তারা নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন। একই অনুভূতি ব্যক্ত করেছেন উখিয়া-টেকনাফের ভুক্তভোগী স্থানীয় নাগরিক ও সিভিল সোসাইটির প্রতিনিধিরা। তাঁদের মতে, বিপুল সংখ্যক এই জনগোষ্ঠীকে দীর্ঘমেয়াদে লালন-পালন করা স্থানীয় পরিবেশ, সামাজিক শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকিস্বরূপ। তাই সীমান্ত পার করে দেওয়া ছাড়াও আন্তর্জাতিক গ্যারান্টির মাধ্যমে মর্যাদাপূর্ণ উপায়ে ফেরানোর প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করা জরুরি।

আন্তর্জাতিক সংস্থা ইউএনএইচসিআরের স্থানীয় নীতি-নির্ধারকদের মতে, রাখাইন রাজ্যে চলমান সামরিক সংঘাত থামানোই হলো সফল প্রত্যাবাসনের প্রথম ও প্রধান প্রাথমিক শর্ত। পরবর্তীতে রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা, নাগরিকত্ব এবং তাদের হারানো ভিটেমাটি ফেরত পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। এদিকে বাংলাদেশের শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান উল্লেখ করেছেন যে, রোহিঙ্গা সংকট কেবল বাংলাদেশের একক কোনো বিষয় নয়, এটি এখন পুরো বিশ্ব সম্প্রদায়ের জন্য একটি বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ। আজ ২৫ আগস্ট বিশ্বজুড়ে নবমবারের মতো ‘রোহিঙ্গা গণহত্যা স্মরণ দিবস’ পালিত হওয়ার প্রেক্ষাপটে স্থায়ী কূটনৈতিক সমাধানের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে সর্বস্তরের মানুষ।


এ সম্পর্কিত আরো খবর