ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬,  ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
নিয়মিত হাত ধোয়ার অভ্যাসই গড়বে সুস্থ প্রজন্ম: মীর শাহে আলম নাটোরে প্রবাসীর শপিং মলে হামলা ও লুটপাট, ৫ কোটি টাকার ক্ষতি জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নিতে চায় না বিএনপি সরকার: প্রতিমন্ত্রী তিন নিরাপত্তারক্ষীসহ অপহৃত কালাতের রাজপুত্র শাহজাদা আহমেদজাই 'আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স' শব্দ নিষিদ্ধের ঘোষণা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নারী পরীক্ষকের সামনে পুরুষরা কম ব্যথা অনুভব করেন: নতুন গবেষণা উইন্ডিজের বিপক্ষে টস জিতে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ, একাদশে নেই মুশফিক! কাঁদুনে গ্যাসে ফরাসি বিক্ষোভকারীর মৃত্যু, পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক অধ্যায় শেষ, দাবি বিরোধী নেতা আইজেনকোটের ফেনারবাখচেকে হারিয়ে ইউরোলিগে ভ্যালেন্সিয়ার দুর্দান্ত জয়

বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি

তিন মাসেও সংস্কার হয়নি ভাঙা কালভার্ট: দুর্ভোগে পথচারীরা


  • আপলোড সময় : বৃহস্পতিবার ২৭ আগস্ট, ২০২৬ সময় : ৯:২৭ পিএম

মোহাম্মদ বাকী অনীক, কুমিল্লা প্রতিনিধি

কুমিল্লা সদরের গুরুত্বপূর্ণ চাঁনপুর-নাজির মসজিদ-চাঁনপুর ব্রিজ সড়কের হালিমা টেলিকম ফ্যাক্টরির পাশে একটি ছোট কালভার্ট প্রায় তিন মাস ধরে ভাঙা অবস্থায় পড়ে রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে চলাচলকারী পথচারী, শিক্ষার্থী, স্থানীয় বাসিন্দা ও যানবাহন চালকদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।


স্থানীয়দের অভিযোগ, কালভার্টটি দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এখনো সংস্কারের জন্য কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেয়নি। ফলে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে এ পথ দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। বিশেষ করে রাতে ভাঙা অংশটি স্পষ্টভাবে দেখা না যাওয়ায় দুর্ঘটনার আশঙ্কা আরও বেড়ে যায়।


বৃষ্টির সময় কালভার্টটির পরিস্থিতি আরও বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। ভাঙা অংশে পানি জমে গেলে ক্ষতিগ্রস্ত স্থানটি সহজে বোঝা যায় না। এতে পথচারী ও যানবাহন চালকদের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হয়। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।


স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কালভার্টটি আকারে ছোট হলেও এটি ওই এলাকার যোগাযোগের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এই সড়ক ব্যবহার করেন। শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের যানবাহনও নিয়মিত চলাচল করে।


তাদের ভাষ্য, কালভার্টটি কোনো বড় প্রকল্পের অংশ নয়। এটি একটি ছোট ও জরুরি মেরামতের কাজ। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আন্তরিকভাবে উদ্যোগ নিলে অল্প সময়ের মধ্যেই এটি সংস্কার করা সম্ভব। প্রয়োজনে পুরোনো কালভার্টটি অপসারণ করে নতুন করে নির্মাণ করা হলেও দীর্ঘদিনের সমস্যার সমাধান হতে পারে।


জনগুরুত্বপূর্ণ সড়কের ওপর অবস্থিত হওয়ায় কালভার্টটির ক্ষতিগ্রস্ত অংশ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে পারাপার করতে গিয়ে বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি ও শিক্ষার্থীদের বেশি সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। যানবাহন চলাচলের সময়ও দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।


স্থানীয়রা জানান, কালভার্টের ভাঙা অংশের কারণে সড়কের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। কেউ কেউ ঝুঁকি এড়াতে বিকল্প পথ ব্যবহার করছেন। তবে সব সময় বিকল্প পথ ব্যবহার করার সুযোগ না থাকায় অধিকাংশ মানুষ বাধ্য হয়েই ক্ষতিগ্রস্ত কালভার্টের ওপর দিয়ে চলাচল করছেন।


এলাকাবাসীর অভিযোগ, সমস্যাটি দীর্ঘদিন ধরে দৃশ্যমান হলেও এখন পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। কালভার্টটি সংস্কারের জন্য দীর্ঘ সময় ধরে অপেক্ষা করতে হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। দ্রুত সংস্কার করা হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমার পাশাপাশি মানুষের দুর্ভোগও অনেকটা লাঘব হবে।


স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা বলেন, কালভার্টটির বর্তমান অবস্থা দেখে প্রতিদিনই আতঙ্কের মধ্যে চলাচল করতে হচ্ছে। বিশেষ করে রাতের বেলায় আলো স্বল্পতার কারণে ভাঙা অংশ আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। বৃষ্টির সময় পানি জমে গেলে বিপদের মাত্রা আরও বেড়ে যায়।


তাদের প্রশ্ন, একটি ছোট কালভার্ট মেরামতের জন্য যদি তিন মাস সময় লেগে যায়, তাহলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের দায় নেবে কে? জনগুরুত্বপূর্ণ সড়কের এমন একটি স্থাপনা দীর্ঘদিন ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় পড়ে থাকা কোনোভাবেই কাম্য নয় বলে মনে করছেন তারা।


এলাকাবাসী দ্রুত কালভার্টটি পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, সংস্কারকাজ শুরু করার আগে কালভার্টটির বর্তমান অবস্থা যথাযথভাবে পরীক্ষা করা প্রয়োজন। ক্ষতির মাত্রা অনুযায়ী মেরামত কিংবা পুনর্নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া যেতে পারে।


স্থানীয়দের দাবি, সাময়িকভাবে দুর্ঘটনা এড়াতে ভাঙা অংশের চারপাশে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি দ্রুত স্থায়ী সংস্কারকাজ শুরু করা হোক। এতে পথচারী ও যানবাহন চালকদের ঝুঁকি কমবে এবং সড়কে স্বাভাবিক চলাচল নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।


এলাকাবাসী আরও জানান, একটি ছোট অবকাঠামোর জন্য দীর্ঘ সময় ধরে মানুষের ভোগান্তি চলা প্রশাসনিক নজরদারির ঘাটতির বিষয়টি সামনে আনে। জনগুরুত্বপূর্ণ সড়কের ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনা নিয়মিত পরিদর্শন ও দ্রুত সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হলে এ ধরনের পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব।


সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাদের প্রত্যাশা, বিষয়টি আর দীর্ঘসূত্রতায় না রেখে দ্রুত কালভার্টটি মেরামত অথবা প্রয়োজন হলে পুনর্নির্মাণ করা হবে। এতে দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পাবেন চাঁনপুর-নাজির মসজিদ সড়ক ব্যবহারকারী মানুষ।


এ সম্পর্কিত আরো খবর