ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
এমপিও শিক্ষকদের নির্বাচন ভাগ্য নির্ধারণ করবে ইসি: মীর শাহে আলম সরকারি কেনাকাটায় পুকুরচুরি ঠেকাতে আসছে অভিন্ন একক দরতালিকা সাগর-রুনি হত্যার বিচার চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে লিখিত অভিযোগ তারুণ্য না অভিজ্ঞতা: ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব চয়নে জটিল হিসাব-নিকাশ আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপন চ্যালেঞ্জের রিট খারিজ হাইকোর্টে ইন্দোনেশিয়ায় ২৪০ যাত্রী নিয়ে জাহাজ নিখোঁজ ঠাকুরগাঁও সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত, আটক ২ কমলা হ্যারিসের বাড়িতে অনধিকার প্রবেশের চেষ্টা, পুলিশি নিরাপত্তা জোরদার রাজধানীতে সকালের বৃষ্টিতে সড়কে ভোগান্তি, ঝোড়ো হাওয়ার পূর্বাভাস ইয়েমেনে ফের তীব্র সংঘাত, ১২৯টি হামলার দাবি হুথিদের

ইউক্রেন যুদ্ধে প্রতি মাসে ৬ হাজার সেনা হারাচ্ছে রাশিয়া


  • আপলোড সময় : শনিবার ২৯ আগস্ট, ২০২৬ সময় : ৯:৪৭ এএম

ইউক্রেন যুদ্ধে প্রতি মাসে রাশিয়ার সামরিক বাহিনী বিপুলসংখ্যক সেনার ঘাটতির মুখোমুখি হচ্ছে। যুদ্ধে প্রতিনিয়ত যে পরিমাণ সৈন্য ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে, সেই অনুপাতে নতুন সৈন্য সংগ্রহ করতে পারছে না মস্কো। ফলে রুশ বাহিনীতে প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ৬ হাজার সেনার স্থায়ী ঘাটতি থেকে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান-এর এক প্রতিবেদনে পশ্চিমা কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

 

প্রতিবেদনে এক পশ্চিমা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তাদের কাছে থাকা গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী রুশ বাহিনীতে বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১ হাজার করে নতুন সৈন্য যোগ দিচ্ছে। সেই হিসাবে প্রতি মাসে মস্কো প্রায় ৩০ থেকে ৩১ হাজার নতুন সেনা বাহিনীতে নিয়োগ দিতে সক্ষম হচ্ছে। তবে ইউক্রেনের বিভিন্ন যুদ্ধক্ষেত্রে প্রতি মাসে রাশিয়ার ক্ষয়ক্ষতি বা সেনা হারানোর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে গড়ে ৩৬ হাজারে। ফলে নতুন সেনা সংগ্রহের হারের চেয়ে সেনা হারানোর হার বেশি হওয়ায় প্রতি মাসেই প্রায় ৬ হাজার সৈন্যের ঘাটতি তৈরি হচ্ছে, যা দিন দিন রুশ সেনাবাহিনীর জন্য এক বিশাল বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

 

টানা কয়েক মাস ধরে এভাবে সেনার ঘাটতি দেখা দেওয়ায় রাশিয়ার সশস্ত্র বাহিনী ও শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে চরম উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। এমনকি দেশটির প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনও এই পরিস্থিতিতে চরম অস্থিরতায় ভুগছেন বলে দাবি করেছেন ওই পশ্চিমা কর্মকর্তা। দ্য গার্ডিয়ানকে তিনি বলেন, সেনা ঘাটতির এই সংকট ঢাকতেই পুতিন তার যুদ্ধ কৌশলে পরিবর্তন এনেছেন। রণক্ষেত্রে সরাসরি সাফল্যের ঘাটতি পোষাতে তিনি ইউক্রেনের বেসামরিক অবকাঠামো ও সাধারণ জনগণকে নিশানা বানানোর নির্দেশ দিচ্ছেন।

 

চলতি বছরের জুলাই মাসের শুরু থেকে এ পর্যন্ত রাশিয়া ইউক্রেনজুড়ে ৩৬০টিরও বেশি শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। বিশেষ করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার ক্ষেত্রে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার যে সীমাবদ্ধতা রয়েছে, মস্কো সেটিকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করছে। এই কৌশলগত আক্রমণের মূল উদ্দেশ্য হলো—আসন্ন শীত মৌসুমের আগেই ইউক্রেনের বিদ্যুৎ ও শক্তি উৎপাদকারী অবকাঠামো ধ্বংস করে দেওয়া, যাতে ইউক্রেনীয়দের মনোবল পুরোপুরি ভেঙে দেওয়া যায়।

 

সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধক্ষেত্রের ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতি মেটাতে প্রেসিডেন্ট পুতিনের হাতে অতিরিক্ত সৈন্য সমাবেশের বিকল্প পথ অত্যন্ত সীমিত। পশ্চিমা কর্মকর্তাদের পর্যবেক্ষণ বলছে, নতুন করে সামরিক বাধ্যতামূলক নিয়োগ বা সৈন্য সমাবেশ ঘটানো রাশিয়ার জন্য রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক—উভয় দিক থেকেই বিরাট ঝুঁকির কারণ হতে পারে।

 

এর আগের ঘটনা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তারা জানান, ২০২২ সালের শরতে রাশিয়া যখন আংশিক সেনা সমাবেশ ঘোষণা করেছিল, তখন সম্ভাব্য বাধ্যবাধকতা থেকে বাঁচতে প্রায় ১০ লাখ নাগরিক দেশ ছেড়ে পালিয়ে গিয়েছিলেন। যাদের একটি বড় অংশই ছিলেন অত্যন্ত দক্ষ ও কারিগরি জ্ঞানসম্পন্ন পেশাদার। পরবর্তীতে তাদের কিছু অংশ দেশে ফিরে আসলেও দেশত্যাগীদের তুলনায় তা ছিল অর্ধেকেরও কম। ফলে নতুন করে সেনা সমাবেশের ডাক দিলে রাশিয়ার ভেতরের অর্থনীতি ও সামাজিক কাঠামো আরও বড় ধাক্কা খেতে পারে।

 

এদিকে, ইউক্রেনও হাত গুটিয়ে বসে নেই। দেশটি রাশিয়ার বিভিন্ন তেল ও জ্বালানি স্থাপনা লক্ষ্য করে আক্রমণ চালিয়ে মস্কোর ভেতরে জ্বালানি সংকট তৈরি করার চেষ্টা করছে। কিন্তু রাশিয়ার শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র আক্রমণ প্রতিরোধ করতে এবং পাল্টা জবাব দিতে ইউক্রেন দীর্ঘদিন ধরেই তাদের পশ্চিমী মিত্রদের কাছে আরও আধুনিক আক্রমণাত্মক দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ও শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরবরাহের জন্য জোর আবেদন জানিয়ে আসছে।

 

কিয়েভের এই আবেদনের মধ্যে সম্প্রতি এক নতুন জোয়ার এসেছে। যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর নিজের প্রথম রাষ্ট্রীয় সফরে কিয়েভে যান অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। তিনি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে সরাসরি বৈঠক করেন এবং প্রতিশ্রুতি দেন যে, ইউক্রেন যাতে নিজস্ব উদ্যোগে দূরপাল্লার ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করতে পারে, সে কাজে যুক্তরাজ্য সর্বাত্মক সহযোগিতা ও সহায়তা দেবে।

 

বার্নহ্যাম ইউক্রেনের সুরক্ষায় আন্তর্জাতিক সমর্থনের গুরুত্ব তুলে ধরে জানান, আগামী মাসে নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে তিনি বিশ্বের দরবারে এই যুক্তি শক্তভাবে উপস্থাপন করবেন।

 

যুক্তরাজ্যের এমন প্রতিশ্রুতির বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে রাশিয়া। মস্কো বারবার হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে যে, পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হলে ইউক্রেনের সীমানার ভেতরে কিংবা বাইরে যুক্তরাজ্যের সামরিক ঘাঁটি ও স্থাপনায় হামলা চালাতে পিছপা হবে না তারা। তবে এই ভয়াবহ হুমকির পরও পশ্চিমা বিশ্লেষকরা মনে করছেন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। কারণ ন্যাটোর সঙ্গে সরাসরি সামরিক সংঘাত তৈরি হোক—এমন পরিস্থিতি ভ্লাদিমির পুতিন যেকোনো মূল্যে এড়িয়ে চলতে চান।

 

কৈফিয়ত ও উত্তেজনার প্রেক্ষাপট বহু পুরনো। ক্রিমিয়াকে রাশিয়ার অংশ হিসেবে স্বীকৃতি না দেওয়া এবং ২০১৫ সালে স্বাক্ষরিত মিনস্ক চুক্তির শর্ত লঙ্ঘন করে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট ন্যাটোর সদস্য হওয়ার জন্য কিয়েভের দীর্ঘদিনের তৎপরতার জেরে ২০২২ সালে পুতিনের নির্দেশেই ইউক্রেনে পূর্ণাঙ্গ সামরিক অভিযান শুরু করেছিল রুশ বাহিনী, যা আজ উভয় পক্ষের বিপুল ক্ষয়ক্ষতির মধ্য দিয়ে অব্যাহত রয়েছে।

(সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান)



এ সম্পর্কিত আরো খবর