রাশিয়ার বদলে যুক্তরাষ্ট্র থেকে জ্বালানি আমদানি বাড়াচ্ছে তুরস্ক
রাশিয়ার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামো ও তেল শোধনাগারে ইউক্রেনের ক্রমাগত ও তীব্র সামরিক হামলার কারণে জ্বালানি সরবরাহ মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। উদ্ভূত পরিস্থিতির বিকল্প কৌশলগত সমাধান হিসেবে রাশিয়ার ওপর নির্ভরতা কমিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও পরিশোধিত পলেস্তিনীয় পণ্য আমদানি বহুগুণ বাড়াচ্ছেন তুরস্ক। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই-এর প্রকাশিত একটি বিশেষ প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
তুর্কি সরকারের কাস্টমস বিভাগের সংগৃহীত পরিসংখ্যান ও হিসাব অনুযায়ী, গত জুন মাসে রাশিয়াকে পেছনে ফেলে প্রথমবারের মতো তুরস্কের প্রধান ও শীর্ষ অপরিশোধিত তেল সরবরাহকারী দেশে পরিণত হয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। পরিসংখ্যানে প্রকাশ, ঐ নির্দিষ্ট জুন মাসে রাশিয়া থেকে আসা ৪ লাখ ২৫ হাজার টন তেল আমদানির বিপরীতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে রেকর্ড পরিমাণ প্রায় ৫ লাখ ৭০ হাজার টন অপরিশোধিত তেল আমদানিকৃত হয়ে তুরস্কে পৌঁছেছে। ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার সামরিক হামলা শুরুর পর বিশ্বজুড়ে রুশ তেলের অন্যতম প্রধান ও বৃহৎ ক্রেতা হিসেবে তুরস্কের আঙ্কারা আবির্ভূত হলেও, বর্তমান সরবরাহ সংকটের কারণে এখন তারা ক্রমান্বয়ে রাশিয়ার জ্বালানির ওপর থেকে তাদের কৌশলগত নির্ভরতা কমিয়ে আনছে।
কেবল অপরিশোধিত তেলের বাজারেই নয়, এর পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত থেকেও প্রচুর পরিমাণে পরিশোধিত ডিজেল আমদানি বৃদ্ধি করেছে দেশটি। ফলে সার্বিকভাবে রাশিয়া থেকে তাদের তেলের মোট আমদানির পরিমাণ আগের তুলনায় আশঙ্কাজনকভাবে অনেকটাই কমে এসেছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার বিশ্লেষণকারী বৈশ্বিক সংস্থা কেপলারের পেশাদার তথ্যমতে, গত আগস্ট মাস থেকে তুরস্ক প্রতিদিন গড়ে ভারতে তৈরি ১ লাখ ২০ হাজার ব্যারেলের বেশি এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি ৯০ হাজার ব্যারেল ডিজেল আন্তর্জাতিক বাজার থেকে সরাসরি ক্রয় ও আমদানি করছে। আন্তর্জাতিক সংস্থা কেপলার ২০১৭ সালে বিশ্বের দেশগুলোর জ্বালানি ডেটা সংগ্রহ প্রক্রিয়া শুরু করার পর থেকে তুরস্কের ক্ষেত্রে এটিই এ যাবৎকালের সর্বোচ্চ আমদানির রেকর্ড।
তুর্কি সরকারের এই নতুন সিদ্ধান্ত বিশ্ব জ্বালানি অর্থনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনছে। রাশিয়ার বিকল্প সরবরাহ শৃঙ্খল গড়ে তোলার মাধ্যমে আঙ্কারা তাদের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অত্যন্ত গতিশীল পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে, যা ভবিষ্যতে বিশ্ব জ্বালানি কূটনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করবে।
সূত্র: মিডল ইস্ট আই