ইরানের
অত্যন্ত সুরক্ষিত ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক ক্ষেত্র ‘পিকঅ্যাক্স’ পর্বতে যুক্তরাষ্ট্র শিগগিরই বড় ধরনের হামলা
চালাতে পারে বলে সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। স্থানীয় সময় শুক্রবার হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন।
একই সংবাদ সম্মেলনে তিনি তেহরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সামরিক সংঘাতকে নিজের দেশের জন্য একটি ‘ছোটখাটো বিষয়’ বলে অভিহিত করেন।
চলমান
এই সহিংস পরিস্থিতিকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে ‘যুদ্ধ’ হিসেবে অভিহিত করা যায় কি না—সাংবাদিকদের
এমন প্রশ্নের জবাবে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, তিনি এই ঘটনাকে মূলত
একটি ‘সামরিক সংঘাত’ বলতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। যুক্তরাষ্ট্রের মতো অর্থনৈতিক ও সামরিক পরাশক্তির
জন্য এই পুরো বিষয়টি
অত্যন্ত ছোট একটি ঘটনা এবং এটি নিয়ে মার্কিন প্রশাসনের বিশেষ উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই।
যুক্তরাষ্ট্রের
সাম্প্রতিক কৌশল ব্যাখ্যা করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট দাবি করেন, ওয়াশিংটন মূলত একটানা আক্রমণ না চালিয়ে বিরতি
দিয়ে দিয়ে অত্যন্ত হিসাব-নিকাশ করে তেহরানের ওপর বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা
পরিচালনা করছে। গত কয়েক দিন
ধরে ইরানের বিভিন্ন কৌশলগত রাডার ব্যবস্থা, যুদ্ধবিমান ও মূল সামরিক
অবকাঠামোর ওপর আক্রমণ চালিয়ে তা পুরোপুরি ধ্বংস
করে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, হরমুজ প্রণালিতে মাইন অপসারণকারী জাহাজ মোতায়েন করে জলপথের নিরাপত্তা পুরোপুরি যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়েছে।
বক্তব্যের
মূলভাগে এসে পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ে নিজ প্রশাসনের সফলতার কথা তুলে ধরেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেয়নি। মার্কিন বাহিনীর সময়োপযোগী পদক্ষেপের ফলেই আজ পুরো মধ্যপ্রাচ্য
ও ইসরায়েল বড় ধরনের পারমাণবিক
হুমকি থেকে সুরক্ষিত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র যদি এই মুহূর্তে অভিযান
সম্পূর্ণ বন্ধও করে দেয়, তবুও বর্তমান ক্ষয়ক্ষতির ধাক্কা সামলে ধ্বংসপ্রাপ্ত সামরিক অবকাঠামো ও সক্ষমতা পুনর্গঠন
করতে তেহরানের অন্তত ২৫ বছর সময়
লাগবে।
পিকঅ্যাক্স
পর্বতে সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের ব্যাপারে সতর্ক করে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প স্পষ্ট জানান, ওই সুরক্ষিত পাহাড়
এবং আশপাশের এলাকাগুলোতে ঠিক কারা যাতায়াত করছে, সেই বিষয়ে ওয়াশিংটনের কাছে বিস্তারিত ও নির্ভুল গোয়েন্দা
তথ্য সংরক্ষিত রয়েছে। ফলে খুব শিগগিরই সেখানে হামলা চালানো হতে পারে।
আন্তর্জাতিক
সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার প্রতিবেদন
থেকে জানা যায়, পিকঅ্যাক্স পর্বতটি ইরানের নাতাঞ্জ পারমাণবিক কেন্দ্রের ঠিক পাশেই অবস্থিত শত শত মিটার
পুরু নিরেট গ্রানাইটের তৈরি একটি ভূগর্ভস্থ স্থাপনা। ভূগর্ভস্থ সুবিশাল দুটি টানেল বা সুড়ঙ্গ নিয়ে
গঠিত এই স্থানটিতে উচ্চমাত্রার
ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র কিংবা অতি-উন্নত সেন্ট্রিফিউজ তৈরির কারখানা রয়েছে বলে মনে করে পশ্চিমা গোয়েন্দারা। পর্বতটির অতিরিক্ত গভীরতার কারণে এটিকে মার্কিন সামরিক বাহিনীর অন্যতম প্রধান লক্ষ্যবস্তু বা টার্গেট হিসেবে
বিবেচনা করা হচ্ছে। (তথ্যসূত্র: আনাদোলু, আল-জাজিরা)