ক্রীড়া প্রতিবেদক
বৈশ্বিক টুর্নামেন্ট ছাড়া ক্রিকেট মাঠে ভারত ও পাকিস্তানের দ্বৈরথ একেবারেই দেখা যায় না। কেবল বিশ্বকাপ কিংবা এশিয়া কাপের মতো আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতাগুলোতেই দুই প্রতিবেশী দেশকে একই গ্রুপে রাখা হয়। দুই দেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের উন্মাদনা কাজে লাগিয়ে প্রতিবারই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) রাজস্বে বড় অঙ্কের বৃদ্ধি ঘটে। তবে এবার আইসিসির প্রথাগত বৈশ্বিক ইভেন্টের গণ্ডি থেকে বেরিয়ে এসে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত ও পাকিস্তানকে নিয়ে একটি ত্রিদেশীয় বা চার জাতির বহুজাতিক টুর্নামেন্ট আয়োজনের বিশেষ পরিকল্পনা তৈরি করছে ক্রিকেটের শীর্ষ নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনের তথ্যমতে, পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) দীর্ঘ বহু বছর ধরেই ভারত ও পাকিস্তানকে অন্তর্ভূক্ত করে তিন বা চার দেশের সমন্বয়ে একটি মর্যাদাপূর্ণ টুর্নামেন্ট আয়োজন করার ব্যাপারে প্রস্তাব দিয়ে আসছে। ধারণা করা হচ্ছে, পিসিবির সেই প্রস্তাবটি আইসিসির আসন্ন নীতি নির্ধারণী বৈঠকে গুরুত্বের সঙ্গে পুনর্বিবেচনা করা হতে পারে।
আগামী ২২ ও ২৩ সেপ্টেম্বর সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে আইসিসির ভবিষ্যৎ সফর কর্মসূচির (এফটিপি) একটি গুরুত্বপূর্ণ সেমিনার অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। যেখানে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ১২টি টেস্ট খেলুড়ে শীর্ষ দেশ এবং আরও ৮টি সহযোগী সদস্য দেশের প্রতিনিধি ও কর্তাব্যক্তিরা উপস্থিত থাকবেন।
দুবাইয়ে হতে যাওয়া এই আন্তর্জাতিক সেমিনারে সাধারণ কোনো দ্বিপাক্ষিক ওয়ানডে বা টি-টোয়েন্টি সিরিজের তুলনায় বহুজাতিক টুর্নামেন্টের আর্থিক লাভজনকতা এবং বাণিজ্যিক সম্ভাব্যতা বিশদভাবে খতিয়ে দেখা হবে। প্রক্রিয়াটি বাস্তবায়িত হলে ভারত ও পাকিস্তানের পাশাপাশি এই প্রতিযোগিতায় ক্রিকেট বিশ্বের আরও একটি বা দুটি প্রভাবশালী দলকে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
উল্লেখ্য, রাজনৈতিক টানাপোড়েনের কারণে এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে কোনো দ্বিপাক্ষিক আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সিরিজ অনুষ্ঠিত হয়নি। গণমাধ্যমের সূত্রগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে, পাকিস্তানের বিরুদ্ধে একক কোনো দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলতে ভারত সরকারের আপত্তি থাকলেও, অন্য দেশগুলোর অংশগ্রহণে কোনো বহুজাতিক সিরিজে মুখোমুখি হতে তাদের কোনো নীতিগত বাধা নেই। তবে যে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগেই দুই দেশের সরকারের চূড়ান্ত প্রশাসনিক সবুজ সংকেত পাওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
প্রতিবেদনগুলোতে আরও উঠে এসেছে, ক্রিকেট বিশ্বের আকাঙ্ক্ষিত এই বহুজাতিক সিরিজের প্রস্তাবটি যদি চূড়ান্ত অনুমোদন লাভ করে, তবে সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইংল্যান্ড কিংবা অস্ট্রেলিয়ার মতো তৃতীয় কোনো নিরপেক্ষ ভেন্যুতে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তান ও ভারতের বহুল প্রতীক্ষিত এই হাইভোল্টেজ সিরিজ মাঠে গড়াতে পারে।