ক্রীড়া প্রতিবেদক
ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে গতকাল শনিবার কভেন্ট্রি সিটির বিপক্ষে ১-০ গোলের কষ্টার্জিত জয় তুলে নিয়েছে ম্যানচেস্টার সিটি। দলের হয়ে জয়ের একমাত্র লক্ষ্যভেদকারী গোলটি করেছেন আর্লিং হালান্ড। আর এই গুরুত্বপূর্ণ একক গোলটির মধ্য দিয়েই নরওয়েজিয়ান ফরোয়ার্ড নিজ ক্যারিয়ারে একটি নতুন বিশ্বমানের মাইলফলক স্পর্শ করেছেন, যেখানে তিনি পেছনে ফেলেছেন আধুনিক ফুটবলের অন্যতম সেরা তারকা কিলিয়ান এমবাপে ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে।
কভেন্ট্রি সিটির বিপক্ষে এই গোলটির মাধ্যমে পেশাদার ক্লাব ক্যারিয়ারে নিজের ৩০০তম গোলের ঐতিহাসিক দেখা পান আর্লিং হালান্ড। নিজের পেশাদার ফুটবল যাত্রায় মোলদে, রেড বুল সলজবুর্গ, বরুসিয়া ডর্টমুন্ড এবং বর্তমান দল ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় গোল করে শেষ পর্যন্ত ৩০০ গোলের অভিজাত এই ক্লাবে পা রাখলেন তিনি।
ক্লাব ফুটবলে এই গৌরবময় ৩০০তম গোলের মাইলফলক ছুঁতে নরওয়েজিয়ান এই স্ট্রাইকারকে ম্যাচ খেলতে হয়েছে মোট ৩৮৪টি। দ্রুততম ৩০০ ক্লাব গোলের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, আর্জেন্টিনার কিংবদন্তি লিওনেল মেসির (৩৬৫ ম্যাচ) চেয়ে হালান্ড সামান্য ধীরগতির হলেও ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপে (৩৯৮ ম্যাচ) এবং পর্তুগিজ তারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে (৪৯৯ ম্যাচ) অনেক বড় ব্যবধানে পেছনে ফেলেছেন তিনি।
ইতিহাদ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে খেলার ২৬তম মিনিটে দুর্দান্ত এক ফিনিশিংয়ে ম্যাচের একমাত্র গোলটি করেন হালান্ড, যা শেষ পর্যন্ত দুই দলের মধ্যে জয়ের মূল পার্থক্য গড়ে দেয়। এই জয়ের ওপর ভর করে কোচ এনজো মারেস্কার অধীনে লিগের শুরুতেই খেলা তিন ম্যাচের তিনটিতেই জয় তুলে নিয়ে দারুণ সূচনা ধরে রাখল ম্যানচেস্টার সিটি।
ব্যক্তিগতভাবে স্মরণীয় মাইলফলক অর্জন করলেও ম্যাচ শেষে নিজের গোল মিস করা নিয়ে সামান্য আক্ষেপ প্রকাশ করেন ২৬ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড। তিনি বলেন, ‘ম্যাচের ভাগ্য আগেই পুরোপুরি নির্ধারণ করার জন্য আমার আরও গোল করা উচিত ছিল। কিন্তু সুযোগ পেয়েও আমি তা কাজে লাগাতে পারিনি, তাই নিজের দলের জন্যই পরিস্থিতি কিছুটা কঠিন করে তুলেছিলাম এবং শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত কভেন্ট্রি ম্যাচে টিকে रहनेর সুযোগ পেয়েছিল।’ প্রিমিয়ার লিগের প্রতিদ্বন্দ্বিতা নিয়ে তিনি আরও যোগ করেন, ‘প্রিমিয়ার লিগের মাঠে যদি আপনি নিজের মূল পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলতে না পারেন, তবে প্রতিটি মুহূর্তই বেশ কঠিন হয়ে উঠবে।’