দুমকি (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি
পটুয়াখালীর দুমকিতে বিশেষ অভিযান চালিয়ে ১০ পিস অবৈধ অ্যামফিটামিনযুক্ত ইয়াবা ট্যাবলেটসহ দুই ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) রাত পৌণে ১২টার দিকে উপজেলার আঙ্গারিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের দুমকি সাতানী এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দুমকি থানার এসআই (নিরস্ত্র) মো. তাওহীদুর রহমান মোল্লা সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে অভিযানে বের হন। পরে দুমকি সাতানী মোহাম্মাদিয়া জামে মসজিদের সামনে পাকা সড়কে সন্দেহভাজন দুই ব্যক্তিকে দেখতে পেয়ে তাদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা হয়। একপর্যায়ে তাদের থামিয়ে দেহ তল্লাশি করা হলে ইয়াবা ট্যাবলেটগুলো উদ্ধার করা হয়।
অভিযানে আটক দুজন হলেন দুমকি সাতানী এলাকার মো. মনির হাওলাদার (৪৫) এবং রুপাশিয়া এলাকার মো. আবু তালেব হাওলাদার (৪৩)। পুলিশ জানায়, তাদের কাছ থেকে মোট ১০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে। পরে ঘটনাস্থলেই উদ্ধার করা মাদকদ্রব্যের জব্দ তালিকা প্রস্তুত করা হয় এবং আইনানুগ প্রক্রিয়ায় ইয়াবাগুলো জব্দ করা হয়।
পুলিশের দাবি, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে সন্দেহভাজন হিসেবে ওই দুই ব্যক্তিকে আটক করা হয়। তাদের কাছ থেকে মাদকদ্রব্য উদ্ধারের পর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া হয়। উদ্ধার করা ইয়াবা ট্যাবলেট অবৈধ অ্যামফিটামিনযুক্ত মাদকদ্রব্য হিসেবে জব্দ করা হয়েছে।
দুমকি থানার অফিসার ইনচার্জ মো. সেলিম উদ্দিন জানান, আটককৃতদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(১) সারণির ১০(ক)/৪১ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ মামলার এফআইআর নম্বর-০৭ এবং তারিখ ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬।
তিনি আরও জানান, মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে। মাদকদ্রব্যের বিস্তার রোধে নিয়মিতভাবে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। মাদক পরিবহন, বিক্রি ও সংরক্ষণের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার জন্য পুলিশ কাজ করছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান আরও জোরদার করা হবে। বিশেষ করে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পাওয়া তথ্য যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় পর্যায়ে মাদকের বিস্তার রোধে পুলিশের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সহযোগিতাও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
এদিকে দুমকিতে ইয়াবাসহ দুই ব্যক্তিকে আটকের ঘটনায় স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসীর অনেকেই মাদকবিরোধী এ ধরনের অভিযানকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাদের মতে, মাদকদ্রব্যের বিস্তার রোধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, তরুণ ও যুবসমাজকে মাদকের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে দূরে রাখতে সামাজিকভাবে সচেতনতা বাড়ানো জরুরি। একই সঙ্গে মাদকদ্রব্যের সরবরাহ বন্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রাখা প্রয়োজন। মাদকের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হলে এর বিস্তার অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।
পুলিশ জানিয়েছে, আটক দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। উদ্ধার করা মাদকদ্রব্যের বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে। পাশাপাশি এ ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কি না, সে বিষয়েও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রয়োজন অনুযায়ী তদন্ত করবে।
দুমকি থানার পুলিশ জানিয়েছে, মাদকের বিরুদ্ধে তাদের অভিযান নিয়মিতভাবে চলবে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মাদকবিরোধী কার্যক্রম জোরদার করার পাশাপাশি অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশের নজরদারিও অব্যাহত থাকবে। মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে স্থানীয় জনগণকে তথ্য দিয়ে পুলিশকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়েছে।