ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ইন্দোনেশিয়ায় ২৪০ যাত্রী নিয়ে জাহাজ নিখোঁজ ঠাকুরগাঁও সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত, আটক ২ কমলা হ্যারিসের বাড়িতে অনধিকার প্রবেশের চেষ্টা, পুলিশি নিরাপত্তা জোরদার রাজধানীতে সকালের বৃষ্টিতে সড়কে ভোগান্তি, ঝোড়ো হাওয়ার পূর্বাভাস ইয়েমেনে ফের তীব্র সংঘাত, ১২৯টি হামলার দাবি হুথিদের উত্তরখানে যুবলীগের গোপন বৈঠক, পুলিশি অভিযানে গ্রেপ্তার ৮ বিচ্ছেদ গুঞ্জন উড়িয়ে ছেলের জন্মদিনে একফ্রেমে রাজ-শুভশ্রী বিয়ের আনন্দ রূপ নিল বিষাদে, সড়কে ঝরল ৪ প্রাণ ইউক্রেনজুড়ে রাশিয়ার ভয়াবহ বিমান হামলা, ৯ জনের প্রাণহানি সুইডেনে সংসদ নির্বাচন: কট্টর ডানপন্থীদের সরকারে আসার জোর সম্ভাবনা

নড়াইলে শিশু শিক্ষার্থী ধর্ষণ মামলায় শিক্ষকের যাবজ্জীবন


  • আপলোড সময় : সোমবার ০৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সময় : ৬:১৫ পিএম

নড়াইল প্রতিনিধি

নড়াইল সদর উপজেলার একটি মাদ্রাসায় ১০ বছর বয়সী এক শিশু শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের মামলায় মেরাজ আলী (২৪) নামে এক মাদ্রাসাশিক্ষককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৩ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নড়াইল জেলা ও দায়রা জজ আদালতের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক শেখ ছামিদুল ইসলাম এ রায় ঘোষণা করেন।


দণ্ডপ্রাপ্ত মেরাজ আলী চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা থানার কালিয়া বাকরী এলাকার আমানুল্লাহ হকের ছেলে। ঘটনার সময় তিনি নড়াইল সদর উপজেলার রঘুনাথপুর এলাকার জামিয়া রহমানিয়া তাইছিরুল উলুম মাদরাসায় শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ওই মাদ্রাসায় পড়াশোনা করা ১০ বছর বয়সী শিশুটির সঙ্গে এ ঘটনা ঘটে।


মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, নড়াইল পৌরসভার রঘুনাথপুর এলাকার জামিয়া রহমানিয়া তাইছিরুল উলুম মাদরাসায় গত বছরের ১০ ও ১১ জুলাই রাতে শিশুটিকে আসামি মেরাজ আলী তার নিজ কক্ষে ডেকে নেন। সেখানে তাকে ধর্ষণ করা হয় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে। পরে বিষয়টি কাউকে না জানানোর জন্য শিশুটিকে ভয়ভীতি দেখানো হয়।


পরে শিশুটি তার মাকে বিষয়টি জানায়। মায়ের কাছে শিশুটি অভিযোগ করে, প্রায় দুই মাস ধরে ওই শিক্ষক তাকে একাধিকবার ধর্ষণ করেছেন। শিশুটির কাছ থেকে ঘটনা জানার পর পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি জানতে পারেন। এরপর ঘটনাটি এলাকায় জানাজানি হলে মেরাজ আলী সেখান থেকে পালিয়ে যান।


পরে ১২ জুলাই স্থানীয় লোকজন মেরাজ আলীকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন। এ ঘটনায় শিশুটির মা বাদী হয়ে নড়াইল সদর থানায় মামলা করেন। মামলার তদন্ত শেষে আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে সাক্ষ্য-প্রমাণ ও মামলার অন্যান্য কার্যক্রম শেষে আদালত রায় ঘোষণা করেন।


রায় ঘোষণার সময় আদালত আসামি মেরাজ আলীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি ৩ লাখ টাকা জরিমানা করেন। মামলার রায়ে শিশুটির প্রতি সংঘটিত অপরাধের জন্য আসামিকে এই সাজা দেওয়া হয়েছে বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে।


নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) আজিবুর রহমান রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, শিশুটির মায়ের দায়ের করা মামলায় আদালত মেরাজ আলীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ৩ লাখ টাকা জরিমানা করেছেন।


এদিকে শিশু শিক্ষার্থীর সঙ্গে এমন গুরুতর অপরাধের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছিল। বিশেষ করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিশুদের নিরাপত্তা ও শিক্ষকদের দায়িত্বশীল ভূমিকা নিয়ে নানা আলোচনা তৈরি হয়। আদালতের রায়ের মধ্য দিয়ে মামলাটির বিচারিক কার্যক্রমের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ শেষ হয়েছে।


মামলার অভিযোগ ও আদালতের রায় অনুযায়ী, মাদ্রাসায় শিক্ষকতার দায়িত্বে থাকা অবস্থায় শিশুটিকে নিজ কক্ষে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ এবং পরবর্তী সময়ে বিষয়টি গোপন রাখতে ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগে মেরাজ আলীর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেন।


শিশু শিক্ষার্থীদের নিরাপদ পরিবেশে শিক্ষা গ্রহণ নিশ্চিত করতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দায়িত্বশীলতা ও নজরদারি বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তাও এ ধরনের ঘটনা সামনে নিয়ে আসে। পাশাপাশি শিশুদের সঙ্গে যেকোনো ধরনের অপরাধের ক্ষেত্রে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার গুরুত্ব রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।


এ সম্পর্কিত আরো খবর