ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
এমপিও শিক্ষকদের নির্বাচন ভাগ্য নির্ধারণ করবে ইসি: মীর শাহে আলম সরকারি কেনাকাটায় পুকুরচুরি ঠেকাতে আসছে অভিন্ন একক দরতালিকা সাগর-রুনি হত্যার বিচার চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে লিখিত অভিযোগ তারুণ্য না অভিজ্ঞতা: ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব চয়নে জটিল হিসাব-নিকাশ আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপন চ্যালেঞ্জের রিট খারিজ হাইকোর্টে ইন্দোনেশিয়ায় ২৪০ যাত্রী নিয়ে জাহাজ নিখোঁজ ঠাকুরগাঁও সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত, আটক ২ কমলা হ্যারিসের বাড়িতে অনধিকার প্রবেশের চেষ্টা, পুলিশি নিরাপত্তা জোরদার রাজধানীতে সকালের বৃষ্টিতে সড়কে ভোগান্তি, ঝোড়ো হাওয়ার পূর্বাভাস ইয়েমেনে ফের তীব্র সংঘাত, ১২৯টি হামলার দাবি হুথিদের

অবৈধ ইসরায়েলি পণ্যে ব্রিটেনের নিষেধাজ্ঞা


  • আপলোড সময় : বুধবার ০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সময় : ১০:৩২ এএম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অধিকৃত পশ্চিম তীরে অবৈধ ইসরায়েলি বসতিতে উৎপাদিত পণ্যের বাণিজ্য নিষিদ্ধ করার যুক্তরাজ্যের সিদ্ধান্তে চরম উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ব্রিটেন-ইসরায়েল দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক। লন্ডনের এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের পর ইসরায়েল কর্তৃক পাল্টা কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ দুই দেশের কয়েক দশকের সম্পর্কে সবচেয়ে বড় ধসের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

 

সম্প্রতি যুক্তরাজ্যসহ বিশ্বমঞ্চের আরও ১১টি দেশ (যার মধ্যে ফ্রান্স, স্পেন ও কানাডা রয়েছে) একযোগে পশ্চিম তীরের ইসরায়েলি বসতিতে উৎপাদিত পণ্যের ওপর এই বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা জারি করে। তবে সবচেয়ে বেশি ক্ষোভের মুখে পড়েছে ব্রিটেন। ব্রিটিশদের নেওয়া এই সিদ্ধান্ত এবং তৎকালীন আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের (আইসিজে) রায়ের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড স্পষ্ট করেছেন যে, দখলদারত্বে সহায়তা করে এমন অর্থনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখা সম্ভব নয়। কেবল বসতির পণ্যই নয়, বরং অবকাঠামো নির্মাণ, অর্থায়নে যুক্ত কোম্পানি ও দখলদারত্বে ব্যবহৃত হতে পারে এমন অস্ত্র বিক্রিতেও নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাজ্য। এড মিলিব্যান্ড অভিযোগ করেন, পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতায় ফিলিস্তিনিদের ‘জাতিগত নিধন’ ঘটছে এবং ইসরায়েলি সরকার তা নীরবে প্রশ্রয় দিচ্ছে।

 

যুক্তরাজ্যের এই ঐতিহাসিক অবস্থান বদলের তীব্র প্রতিক্রিয়ায় ইসরায়েল পূর্ব জেরুজালেমে অবস্থিত ব্রিটিশ কনস্যুলেটের কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে, যা মূলত ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের কেন্দ্রবিন্দু ছিল। পাশাপাশি গাজা সহায়তা কার্যক্রম থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে ব্রিটিশ প্রতিনিধিদের। ইসরায়েলের এই প্রতিক্রিয়া প্রত্যাশার চেয়ে অনেক বেশি দ্রুত ও আক্রমণাত্মক।

 

এদিকে, ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ এবং যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রদূত ড. হুসাম জোমলট এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে একে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পথে একটি যুগান্তকারী মোড় হিসেবে বর্ণনা করেছেন। কিন্তু আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সম্মিলিত পদক্ষেপে ৫৯ বছরের ইসরায়েলি দখলদারত্ব রাতারাতি বন্ধ হবে না, কারণ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ইসরায়েলের বসতি সম্প্রসারণে কোনো বাধা না দিয়ে বরং নীতিগত সমর্থন জুগিয়ে যাচ্ছে। ফলে যুক্তরাজ্য ও ১১টি দেশের নেওয়া এই সাহসী সিদ্ধান্ত শুধু ইসরায়েলের সঙ্গেই নয়, ক্ষমতার কেন্দ্রে থাকা ওয়াশিংটনের সঙ্গেও সরাসরি নীতিগত সংঘাতের ক্ষেত্র তৈরি করল।


এ সম্পর্কিত আরো খবর