ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
তারুণ্য না অভিজ্ঞতা: ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব চয়নে জটিল হিসাব-নিকাশ আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপন চ্যালেঞ্জের রিট খারিজ হাইকোর্টে ইন্দোনেশিয়ায় ২৪০ যাত্রী নিয়ে জাহাজ নিখোঁজ ঠাকুরগাঁও সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত, আটক ২ কমলা হ্যারিসের বাড়িতে অনধিকার প্রবেশের চেষ্টা, পুলিশি নিরাপত্তা জোরদার রাজধানীতে সকালের বৃষ্টিতে সড়কে ভোগান্তি, ঝোড়ো হাওয়ার পূর্বাভাস ইয়েমেনে ফের তীব্র সংঘাত, ১২৯টি হামলার দাবি হুথিদের উত্তরখানে যুবলীগের গোপন বৈঠক, পুলিশি অভিযানে গ্রেপ্তার ৮ বিচ্ছেদ গুঞ্জন উড়িয়ে ছেলের জন্মদিনে একফ্রেমে রাজ-শুভশ্রী বিয়ের আনন্দ রূপ নিল বিষাদে, সড়কে ঝরল ৪ প্রাণ

নুসরাত হত্যা মামলা

সভ্য সমাজে দায়িত্বজ্ঞানহীন সাজা আশা করা যায় না—হাইকোর্ট


  • আপলোড সময় : বুধবার ০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সময় : ১২:৪১ পিএম

অনলাইন রিপোর্টার

ফেনীর আলোচিত মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল, চারজনের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন এবং ১০ জনকে খালাস দেওয়ার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করেছেন হাইকোর্ট। সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ১১২ পৃষ্ঠার এ রায়ে নিম্ন আদালতের রায় নিয়ে কঠোর পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন আদালত। হাইকোর্ট বিভাগ পর্যবেক্ষণে স্পষ্ট করে বলেন, কোনো তথ্য-প্রমাণ ও ভিত্তি ছাড়া এ ধরনের ভুল মূল্যায়নের ওপর ভিত্তি করে বিচারিক আদালতের দেওয়া রায় বিচারপ্রার্থী ও নির্দোষ ব্যক্তিদের পরিবারগুলোর ওপর এক চরম বিপর্যয়কর প্রভাব ফেলেছে, যা কোনো সভ্য সমাজে আশা করা যায় না।

 

বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ থেকে গত ২৪ আগস্ট এ ঐতিহাসিক রায় দেওয়া হয়। পরবর্তীতে প্রকাশ করা পূর্ণাঙ্গ রায়ে হাইকোর্ট বলেন, বিচারিক ট্রাইব্যুনালের রায়ের পর্যালোচনায় দেখা গেছে, তৎকালীন নিম্ন আদালতের বিচারক মামুনুর রশিদের বিচারিক সংবেদনশীলতার চরম অভাব ছিল। তিনি ১৬ জন আসামির সবাইকে মৃত্যুদণ্ড দিয়ে দায়িত্বজ্ঞানহীন ও চিন্তাভাবনা ছাড়া সাজা প্রদান করেছেন, যা কার্যত বিচারে অবহেলার নামান্তর। বিশেষ করে খালাসপ্রাপ্ত নিরপরাধ কয়েকজন আসামিকে দীর্ঘ ৭ বছরেরও বেশি সময় ধরে বিনা অপরাধে নির্জন কনডেম সেলে কাটাতে হয়েছে। রায় প্রদানকারী ওই বিচারককে পুনরায় আইন ও বিচার ব্যবস্থার সঠিক নিয়মকানুন না শেখা পর্যন্ত সেশন বা দায়রা এখতিয়ারের বাইরে রাখার জন্য আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

 

হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায়ে সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ এস এম সিরাজ উদ-দৌলা এবং শাহাদাত হোসেন শামীমের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়েছে। অন্যদিকে নূর উদ্দিন, জাবেদ হোসেন ওরফে সাখাওয়াত হোসেন, সাইফুর রহমান মোহাম্মদ জুবায়ের এবং উম্মে সুলতানা ওরফে পপির মৃত্যুদণ্ডাদেশ কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

 

তাছাড়া নুসরাত হত্যা মামলায় অপরাধে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সম্পৃক্ততা না পাওয়ায় যে ১০ জনকে পুরোপুরি খালাস দেওয়া হয়েছে, তারা হলেন—কামরুন নাহার মনি, হাফেজ মোহাম্মদ আবদুল কাদের, মহিউদ্দিন শাকিল, ইমরান হোসেন ওরফে মামুন, আব্দুর রহিম শরীফ, মোহাম্মদ শামীম, ইফতেখার উদ্দিন রানা, সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন সভাপতি ও মাদ্রাসার সাবেক সহ-সভাপতি রুহুল আমিন, আবছার উদ্দিন এবং সোনাগাজী পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাকসুদ আলম ওরফে মোকসুদ কাউন্সিলর। অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল জানান, নিরপেক্ষ পর্যালোচনায় দেখা গেছে ১০ আসামির বিরুদ্ধে কোনো জোরালো সাক্ষ্য-প্রমাণ বিচারিক আদালতে উপস্থাপিতই হয়নি, যার কারণে তাঁদের বেকসুর খালাস দেওয়া যুক্তিসঙ্গত ও ন্যায়সংগত হয়েছে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর