মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত সমুদ্রসীমায় ছড়িয়ে পড়েছে নতুন সামরিক সংঘাতের দাবানল। রাতভর তীব্র সামরিক তৎপরতা ও গোলাগুলির মধ্যে একের পর এক সংঘাতের শিকার হয়ে সম্পূর্ণ বিকল হয়ে পড়েছে বেশ কয়েকটি বাণিজ্যিক জাহাজ। যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) বুধবার এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছে।
যুক্তরাজ্যের নৌবাহিনীর সঙ্গে যুক্ত সংস্থা ইউকেএমটিও জানায়, উত্তর উপসাগর ও ওমান উপসাগরে চলমান সামরিক অভিযানের সময় তীব্র গোলাগুলির মুখে পড়ে একাধিক বাণিজ্যিক জাহাজ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ও অচল হয়ে পড়ে। সংস্থাটি আরও জানায়, সংযুক্ত আরব আমিরাতের পোর্ট রশিদের প্রায় ২৪ নটিক্যাল মাইল দূরে নোঙর করে রাখা অন্য একটি বাণিজ্যিক জাহাজেও অজ্ঞাত ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। এতে জাহাজটিতে দ্রুত পানি ঢুকতে শুরু করে এবং তা অত্যন্ত বিপজ্জনকভাবে একপাশে হেলে পড়ে। তবে এই হামলায় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রাণহানি বা সামুদ্রিক পরিবেশগত বিপর্যয়ের খবর পাওয়া যায়নি।
এদিকে ওমান উপসাগরে এই রক্তক্ষয়ী ও বিধ্বংসী হামলার দায় আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস (আইআরজিসি)। এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানায়, তাদের বাহিনী ওমান উপসাগরে দুটি মার্কিন নৌযান এবং আটটি তেলবাহী ট্যাংকারসহ মোট ১০টি নৌযানে একযোগে হামলা চালিয়েছে। আইআরজিসির দাবি, আক্রান্ত নৌযানগুলো কৌশলগতভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল হরমুজ প্রণালির ‘নিষিদ্ধ ও অনিরাপদ’ সমুদ্রসীমা অতিক্রমের চেষ্টা করছিল।
কূটনৈতিক ও সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন সামরিক বাহিনীর সাম্প্রতিক আক্রমণের সরাসরি পাল্টা জবাব হিসেবেই তেহরান এই বিধ্বংসী পদক্ষেপ নিয়েছে। এর আগে মার্কিন যুদ্ধজাহাজে আক্রমণের চেষ্টার অভিযোগে ইরানের পাঁচটি তেলের ট্যাংকার গুঁড়িয়ে দিয়েছিল মার্কিন মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সামরিক কমান্ড সেন্টকম (CENTCOM)। ওয়াশিংটনের সেই সামরিক আগ্রাসনের কঠোর প্রতিশোধ হিসেবেই ওমান উপসাগরে এই আক্রমণ চালানো হয়েছে বলে ঘোষণা দিয়েছে ইরান।