উত্তরাঞ্চল প্রতিনিধি : / : 47
চট্টগ্রামে সামরিক ট্যাংকের মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো সেনাবাহিনীর সদস্য তাসনিম রিফায়াতের অকাল মৃত্যুর খবরে তাঁর গ্রামের বাড়ি রাজশাহীতে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। প্রিয় স্বজনকে হারিয়ে পবা উপজেলার দামকুড়া ইউনিয়নের বিন্দারামপুর গ্রামের বাড়িতে বইছে শোকের মাতম। দূর-দূরান্ত থেকে আসা স্বজন ও প্রতিবেশীদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে চারপাশ। হঠাৎ করে তরতাজা এক তরুণ সেনাসদস্যের এমন করুণ বিদায় কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না তাঁর পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা। শোকসন্তপ্ত পরিবারকে সমবেদনা জানাতে সকাল থেকেই তাঁদের বাড়িতে ভিড় জমাচ্ছেন এলাকাবাসী।
নিহত সেনাসদস্য তাসনিম রিফায়াত বিন্দারামপুর গ্রামের আসাদুল হকের মেজ ছেলে। তিন ভাই ও এক বোনের মধ্যে অত্যন্ত দায়িত্বশীল ছিলেন রিফায়াত। পারিবারিক জীবনে তিনি রাফতা তাসলিম ইকরা নামের আড়াই বছর বয়সী একটি কন্যাসন্তানের জনক। বৃহস্পতিবার সকালে নিহত সেনাসদস্যের স্বজনরা জানান, কারিগরি শিক্ষা থেকে মাধ্যমিক সম্পন্ন করার পর রাজশাহী সিটি কলেজে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হয়েছিলেন রিফায়াত। সেখানে অধ্যয়নরত অবস্থাতেই তাঁর বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে চাকরি হয়। এরপর থেকে তিনি টানা প্রায় ১০ বছর ধরে সেনাবাহিনীতে নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।
চট্টগ্রামে সামরিক আনুষ্ঠানিকতা ও দাপ্তরিক প্রক্রিয়া শেষে সেনাসদস্য তাসনিম রিফায়াতের মরদেহ রাজশাহীর উদ্দেশ্যে নিয়ে আসা হচ্ছে। নিহত রিফায়াতের ভাই দীপ্ত জানান, সামরিক সকল প্রক্রিয়া শেষ করে দুপুরের মধ্যেই তাঁর মরদেহ গ্রামের বাড়িতে এসে পৌঁছাবে। মরদেহের আগমনকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে তাঁদের স্থানীয় সামাজিক কবরস্থানে দাফনের জন্য কবর খননসহ প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। একইসঙ্গে তিনি ভাইয়ের অকাল প্রয়াণে শোক প্রকাশ করে মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান।
এদিকে প্রিয় সন্তানকে হারিয়ে প্রায় বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন নিহত রিফায়াতের বাবা আসাদুল ইসলাম। শোকে বিহ্বল হয়ে পড়া এই পিতা রুদ্ধকণ্ঠে উপস্থিত সকলের কাছে ছেলের রুহের মাগফিরাত ও আত্মার শান্তির জন্য দোয়া প্রার্থনা করেছেন।