ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ইন্দোনেশিয়ায় ২৪০ যাত্রী নিয়ে জাহাজ নিখোঁজ ঠাকুরগাঁও সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত, আটক ২ কমলা হ্যারিসের বাড়িতে অনধিকার প্রবেশের চেষ্টা, পুলিশি নিরাপত্তা জোরদার রাজধানীতে সকালের বৃষ্টিতে সড়কে ভোগান্তি, ঝোড়ো হাওয়ার পূর্বাভাস ইয়েমেনে ফের তীব্র সংঘাত, ১২৯টি হামলার দাবি হুথিদের উত্তরখানে যুবলীগের গোপন বৈঠক, পুলিশি অভিযানে গ্রেপ্তার ৮ বিচ্ছেদ গুঞ্জন উড়িয়ে ছেলের জন্মদিনে একফ্রেমে রাজ-শুভশ্রী বিয়ের আনন্দ রূপ নিল বিষাদে, সড়কে ঝরল ৪ প্রাণ ইউক্রেনজুড়ে রাশিয়ার ভয়াবহ বিমান হামলা, ৯ জনের প্রাণহানি সুইডেনে সংসদ নির্বাচন: কট্টর ডানপন্থীদের সরকারে আসার জোর সম্ভাবনা

ফুলবাড়ী সরকারি কলেজের ৯১ শিক্ষার্থীর ফরম পূরণের টাকা নিয়ে কর্মচারী উধাও


  • আপলোড সময় : শুক্রবার ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সময় : ৯:২৬ পিএম

চন্দ্রনাথ গুপ্ত, ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধি

দিনাজপুরের ফুলবাড়ী সরকারি কলেজের ৯১ জন শিক্ষার্থীর ফরম পূরণের বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করে মাস্টার রোলের কর্মচারী আনোয়ার হোসেন উধাও হয়ে যাওয়ার এক নজিরবিহীন ঘটনা ঘটেছে। পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে সংগৃহীত চার লাখ ৪৯ হাজার ৪৪৯ টাকার মধ্যে প্রায় দুই লাখ ৯৬ হাজার টাকা কলেজের নির্ধারিত ব্যাংক হিসাবে জমা না দিয়ে হাতিয়ে নিয়ে আত্মগোপন করেন তিনি। এ ঘটনার পর গত ৪ আগস্ট থেকে ওই কর্মচারী কলেজে আসাও একতরফাভাবে বন্ধ করে দিয়েছেন। এতে আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে অনুষ্ঠিতব্য অনার্সের পরীক্ষায় অংশ নেওয়া নিয়ে চরম উৎকণ্ঠা ও গভীর অনিশ্চয়তায় পড়েছেন ভুক্তভোগী ৯১ জন শিক্ষার্থী। তবে ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর কলেজ প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে ফুলবাড়ী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।


কলেজের রেজিস্টার ও প্রশাসনিক তথ্য সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ইংরেজি বিভাগের অনার্স (সম্মান) দ্বিতীয় বর্ষের চূড়ান্ত পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার লক্ষ্যে অনার্সের ৯১ জন শিক্ষার্থী কলেজের নিয়মিত নিয়ম মেনে ফরম পূরণ সম্পন্ন করেন। ফরম পূরণ বাবদ প্রত্যেক পরীক্ষার্থীর কাছ থেকে জনপ্রতি চার হাজার ৯৩৯ টাকা হারে সর্বমোট চার লাখ ৪৯ হাজার ৪৪৯ টাকা ফি হিসেবে আদায় করা হয়। আদায়কৃত মোট অর্থের মধ্যে এক লাখ ৫৩ হাজার ৪৪৯ টাকা কলেজের বকেয়া ও নির্ধারিত পাওনা বাবদ মিটিয়ে দেওয়া হলেও অবশিষ্ট দুই লাখ ৯৬ হাজার টাকা রহস্যজনকভাবে ব্যাংকে জমা করা হয়নি। মাস্টার রোলের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মচারী আনোয়ার হোসেন টাকাগুলো কলেজের নির্ধারিত ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা না দিয়ে সম্পূর্ণ নিজের কাছে রেখে দেন। পরবর্তীতে কলেজের হিসাবের নথি কিংবা ব্যাংকের আমানত রসিদে ওই টাকার কোনো জমার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ফলে বিপুল এই অর্থ আত্মসাতের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাছে সম্পূর্ণরূপে স্পষ্ট হয়ে ওঠে।


অর্থ আত্মসাতের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মোচিত হওয়ার পর কলেজের ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান মো. শামীন আকতার গত ১২ আগস্ট বাদী হয়ে ফুলবাড়ী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। থানায় দায়েরকৃত লিখিত অভিযোগে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, শিক্ষার্থীদের ফরম পূরণ বাবদ সংগৃহীত টাকা ব্যাংকে জমা দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে কর্মচারী আনোয়ার হোসেন তা ব্যাংকে জমা দেওয়া হয়েছে বলে পূর্বে মৌখিকভাবে দাবি করেছিলেন। তবে কলেজ প্রশাসন থেকে সুনির্দিষ্ট হিসাব মেলানোর ও ব্যাংক রসিদ জমা দেওয়ার তাগিদ প্রদান করা হলে গত ৪ আগস্ট থেকে তিনি সম্পূর্ণ অঘোষিতভাবে কলেজে আসা বন্ধ করে দেন এবং নিজের দায়িত্বও কাউকে হস্তান্তর করেননি। এর পাশাপাশি ইংরেজি বিভাগের একাধিক গোপনীয় নথিপত্র, পরীক্ষার্থীদের মূল আবেদন ফরম ও গুরুত্বপূর্ণ রেজিস্টার খাতা আনোয়ার হোসেনের নিজ জিম্মায় থাকায় সেগুলো গোপন করা বা সেগুলোর অপব্যবহার ও ক্ষয়ক্ষতির মারাত্মক আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।


এ খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ভুক্তভোগী পরীক্ষার্থী রেজাউল করিম, শাহেদ আলী, শামীমা ইয়াসমিন ও গোপাল চন্দ্র সরকার গভীর উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা প্রকাশ করে জানান, তাঁরা শুনেছেন কলেজের ইংরেজি বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মচারী আনোয়ার হোসেন তাঁদের কষ্টার্জিত ফরম পূরণের প্রায় তিন লাখ টাকা আত্মসাৎ করে উধাও হয়ে গেছেন। খবরটি শোনার পর থেকেই তাঁরা আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হতে যাওয়া অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেন কি না—তা নিয়ে মারাত্মক সংশয় ও আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন।


অভিযুক্ত আনোয়ার হোসেনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর ফোনটি সার্বক্ষণিক বন্ধ পাওয়া যায়, ফলে এ বিষয়ে তাঁর কোনো বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি। তবে ঘটনাটির সত্যতা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করে ফুলবাড়ী সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. আহসান হাবীব শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করে বলেন, “কর্মচারী টাকা নিয়ে উধাও হলেও পরীক্ষার্থীদের উৎকণ্ঠিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। যথানিয়মে সকল শিক্ষার্থীর ফরম পূরণের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে এবং তাঁরা নির্ধারিত আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর থেকেই চূড়ান্ত পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে।” তিনি আরও জানান, আত্মসাৎকৃত টাকা উদ্ধার ও অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর