চট্টগ্রামের কর্ণফুলীতে বিয়ের অনুষ্ঠান শেষে বাড়ি ফেরার পথে যাত্রীবাহী একটি মাইক্রোবাস ও কাভার্ডভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষে শিশুসহ চারজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অন্তত আটজন গুরুতর আহত হয়েছেন, যাঁদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। গত শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত পৌনে ৩টার দিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের কর্ণফুলী উপজেলার শিকলবাহা চৌমুহনী এলাকায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত ব্যক্তিরা হলেন মো. ফেরদৌস আলম (৫), মিপতা (১৭) এবং মাইক্রোবাসটির চালক মুন্না (৪০)। এ ছাড়া দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো আরও একজনের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে সনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রাম নগরের আগ্রাবাদ এলাকার একটি কমিউনিটি সেন্টারে বিয়ের শুভকার্য সম্পন্ন করে পরিবার ও স্বজনবাহী মাইক্রোবাসটি কক্সবাজারের ঈদগাহের উদ্দেশে রওনা হয়। পথিমধ্যে রাত আনুমানিক ২টা ৪৫ মিনিটের দিকে মাইক্রোবাসটি শিকলবাহা চৌমুহনী এলাকায় পৌঁছালে ইউটার্ন নেওয়া একটি কাভার্ডভ্যানের সঙ্গে সেটির ভয়াবহ মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের প্রবল তীব্রতায় মাইক্রোবাসটির সামনের অংশ দুমড়েমুচড়ে যায়।
দুর্ঘটনার পর পর ঘটনাস্থলেই শিশু ফেরদৌস আলম ও মিপতার করুণ মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় ফায়ার সার্ভিস ও কর্ণফুলী থানার পুলিশ সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে হতাহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মাইক্রোবাসের চালক মুন্নাসহ আরও দুজনের মৃত্যু হয়।
কর্ণফুলী থানার পুলিশ জানায়, দুর্ঘটনায় অন্তত ১১ জন আহত ও সংকটাপন্ন হয়ে পড়েন, যাঁদের উদ্ধার করে তাত্ক্ষণিকভাবে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কর্ণফুলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুর আহমদ জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশের টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে। সেখানে দুজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয় এবং হাসপাতালে নেওয়া হলে আরও দুজনের মৃত্যু হয়। ওসি আরও জানান, ঘটনার পর কাভার্ডভ্যানটি জব্দ করা হলেও এর চালক ও তার সহকারী পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছেন। পালিয়ে যাওয়া চালক ও সহকারীকে গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।