ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মানবতাবিরোধী অপরাধ: ওবায়দুল কাদের ও আরাফাতসহ ৭ জনের রায় আজ কেন ভারত থেকে টনে টনে ইলিশ আসছে বাংলাদেশে? যুদ্ধ শেষে ইরানের তেলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার ইঙ্গিত ট্রাম্পের ৫০ পেরিয়ে পুনরায় বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হলেন জেমিমা গোল্ডস্মিথ গ্রিসে নৌকা ডুবে ১ অভিবাসনপ্রত্যাশীর মৃত্যু, নিখোঁজ ২৫ আজ মঙ্গলবার রাজধানীর যেসব মার্কেট ও দোকানপাট বন্ধ সৌদির তায়েফসহ ৩ শহরে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা, আহত ১৩ আট বিভাগেই বৃষ্টির শঙ্কা, অপরিবর্তিত থাকবে দিন-রাতের তাপমাত্রা ময়মনসিংহ মেডিকেলে অগ্নিকাণ্ডে সিঁড়িতে হুড়োহুড়িতে ঝরল ৬ প্রাণ উত্তরপত্র মূল্যায়নে ভুল করলে পরীক্ষকের ২ বছরের জেল

কেন ভারত থেকে টনে টনে ইলিশ আসছে বাংলাদেশে?


  • আপলোড সময় : মঙ্গলবার ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সময় : ৯:৩৮ এএম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

পদ্মার ইলিশের বিশ্বজোড়া খ্যাতি থাকলেও দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে তীব্র সংকট ও আকাশচুম্বী দামের কারণে এখন প্রতিবেশী ভারত থেকেই বাংলাদেশে আসছে টনে টনে ইলিশ। বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে গত দুই মাসে প্রায় সাত কোটি টাকা মূল্যের সাড়ে তিন লাখ কেজির (৩৫০ টন) বেশি ইলিশ আমদানি করেছে দেশের অন্তত ১৯টি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান। ভারতে ধরা পড়া এসব ইলিশের একটি বড় অংশই আসছে দেশটির গুজরাট রাজ্য থেকে। প্রতি বছর দুর্গাপূজার আগে পদ্মার ইলিশ ভারতে পাঠানো নিয়ে নানান আলোচনা হলেও এবার দেখা যাচ্ছে ঠিক বিপরীত চিত্র; পশ্চিমবঙ্গ হয়ে পেট্রাপোল-বেনাপোল সীমান্তপথে বিপুল পরিমাণ গুজরাটি ইলিশ ঢুকছে বাংলাদেশে।

 

পশ্চিমবঙ্গ চিল্ড ফিশ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক সৈয়দ আনোয়ার মাকসুদ আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে জানিয়েছেন, গত প্রায় দু’মাসে পশ্চিমবঙ্গ হয়ে প্রায় ৫০০ মেট্রিক টন ইলিশ বাংলাদেশে রপ্তানি হয়েছে, যার সিংহভাগই গুজরাট থেকে সংগৃহীত। দেশের বাজারে যেখানে এক কেজি ওজনের দেশীয় ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৮০০ টাকায়, ৮০০ থেকে ৯০০ গ্রামের মাছ ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৪০০ টাকায় এবং ৫০০ গ্রামের ইলিশ ১ হাজার ৬০০ টাকায়; সেখানে ভারত থেকে আমদানিকৃত ইলিশের ক্রয়মূল্য পড়ছে কেজিপ্রতি দুই ডলার বা প্রায় ২৪৬ টাকা। কাস্টমস শুল্ক ও পরিবহন খরচ যুক্ত হওয়ার পরও দেশীয় বাজারের তুলনায় এই মাছের দাম অনেক কম পড়ায় আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীরা ইলিশ আমদানিতে ব্যাপকভাবে উৎসাহিত হচ্ছেন।

 

মৎস্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বেনাপোল বন্দর দিয়ে চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাস অর্থাৎ জুলাই ও আগস্টে মোট ৩ লাখ ৫২ হাজার ৪৮৪ কেজি ইলিশ বাংলাদেশে পৌঁছেছে। বেনাপোল স্থলবন্দরের মৎস্য কোয়ারেন্টাইন পরিদর্শক আশওয়াদুল আলম এই আমদানির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। যশোর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মনিরুল মামুন জানান, মৎস্য অধিদপ্তর থেকে যথাযথ বিধি মেনে অনুমতি নিয়েই ব্যবসায়ীরা এটি আনছেন। অন্যদিকে মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. খালেদ কনক জানান, বাজারে ইলিশের তীব্র ঘাটতি থাকায় ব্যবসায়ীদের আবেদনের প্রেক্ষিতেই সীমিত পরিসরে আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ২০২০ সালে গৃহীত ৪০০ কোটি টাকার প্রকল্প থাকা সত্ত্বেও কেন দেশের জলসীমায় ইলিশ উৎপাদন ক্রমান্বয়ে কমছে, তা খতিয়ে দেখা হবে বলেও জানান তিনি। সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ব্যবসায়ী মো. কামরুজ্জামানও বাজারে ঘাটতি ও লাভের বিষয়টিকে আমদানির মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

 

বিশিষ্ট ইলিশ গবেষক ড. আনিসুর রহমান মনে করেন, নদী দূষণ, বেপরোয়া কারেন্ট জালের ব্যবহার, জাটকা নিধন, নদীতে বালু উত্তোলন এবং সাগরের প্রজনন ও পরিযায়ন পথ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কারণে দেশীয় জলসীমায় কাঙ্ক্ষিত ইলিশ মিলছে না। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৫ লাখ ৭১ হাজার মেট্রিক টন ইলিশ উৎপাদিত হলেও ২০২৩-২৪ অর্থবছরে তা কমে দাঁড়ায় ৫ লাখ ২৯ হাজার মেট্রিক টনে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা আরও কমে ৫ লাখ ৪ হাজার মেট্রিক টনে নামে এবং ২০২৫-২৬ অর্থবছরে উৎপাদন পাঁচ লাখ টনেরও নিচে নেমে এসেছে।

 

অন্যদিকে ভারতের গুজরাটের ভারুচ, ভাদভূত, জম্বুসার ও হানসোটে নর্মদা নদীর মোহনায় এবার ইলিশের বিপুল জোগান দেখা গেছে। ভাদভূতের মৎস্য ব্যবসায়ী সংগঠনের সভাপতি চিমন ট্যান্ডেল ও মৎস্যজীবী দীপকভাই মাচ্ছি জানান, মৌসুমে প্রচুর ডিমে ভরা বড় আকারের ইলিশ মিলছে। হাওড়ার কালীবাবুর বাজার মৎস্য ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি রথীকান্ত বার এবং পশ্চিমবঙ্গের মৎস্যজীবী নেতা জয়কৃষ্ণ হালদার জানান, গুজরাটের এই ইলিশ হাওড়া হয়ে সীমান্তপথে বাংলাদেশে যাচ্ছে, যা কম দামে প্রসেসিং ও বিক্রির জন্য আগ্রহ নিয়ে কিনছেন বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা।

 


এ সম্পর্কিত আরো খবর