অনলাইন রিপোর্টার
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংগঠিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এবং সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাতসহ দলটির তিন শীর্ষ নেতা এবং যুবলীগ ও ছাত্রলীগের চার নেতার বিরুদ্ধে রায় আজ ঘোষণা করা হচ্ছে। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ ঐতিহাসিক রায় প্রদান করবেন। এর আগে সোমবার শুনানি শেষে রায়ের জন্য আজকের দিনটি ধার্য করা হয়। গত ১৮ আগস্ট রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন সম্পন্ন হওয়ার পর মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়েছিল।
মামলায় অভিযুক্ত আসামিরা হলেন— বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান। এই মামলার অভিযুক্ত সাতজন আসামিই বর্তমানে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজর এড়িয়ে পলাতক রয়েছেন।
বিচারাধীন এ মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেছে ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন দল। একই সাথে আসামিদের অবৈধ ও অর্জিত যাবতীয় সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার আনুষ্ঠানিক নির্দেশনাও চাওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের ভাষ্যমতে, জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমন করতে তৎকালীন সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন নীতিনির্ধারণী বৈঠকে সাধারণ মানুষকে নির্বিচারে হত্যার মারাত্মক ষড়যন্ত্র ও পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়। প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা বিভিন্ন কল রেকর্ড, অডিও এবং ভিডিও নথিতে এসব ষড়যন্ত্রের স্পষ্ট ও অখণ্ডনীয় প্রমাণ উঠে এসেছে।
প্রসিকিউশনের অনুসন্ধানে আরও উল্লেখ করা হয় যে, আন্দোলনরত ছাত্র-জনতাকে দেখা মাত্রই গুলি চালানোর প্রত্যক্ষ নির্দেশ দিয়েছিলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তাঁর দেওয়া সেই বিতর্কিত ও সহিংস নির্দেশনার পর থেকেই দেশের বিভিন্ন স্থানে ৫ আগস্ট পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও দলীয় ক্যাডাররা সাধারণ মানুষের ওপর নির্বিচারে গুলি চালিয়ে বহু নিরীহ নাগরিককে নির্মমভাবে হত্যা করে। এসব অপরাধের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক দায়ে অভিযুক্ত শীর্ষ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির প্রত্যাশা করছে প্রসিকিউশন।