অতীতে যে রাজনৈতিক অবস্থান থেকে কথা বলতেন, আজ সেই পরিচয় ছাপিয়ে দল-মত, বর্ণ ও গোষ্ঠীর ঊর্ধ্বে উঠে সর্বস্তরের মানুষের জন্য নিরপেক্ষভাবে কাজ করার শপথ নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিকেল পৌনে ৬টার দিকে সিলেট সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে নগর ভবন প্রাঙ্গণে আয়োজিত নাগরিক সংবর্ধনা ও সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
সমাবেশে রাষ্ট্রপতি বলেন, হজরত শাহজালাল (রহ.) ও হজরত শাহপরানসহ (রহ.) অসংখ্য ওলি-আউলিয়ার স্মৃতিধন্য সিলেটে আসতে পেরে তিনি অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত। এখানকার মানুষের আন্তরিক ভালোবাসা ও সমর্থন তিনি সবসময় পেয়েছেন। সিলেটের রয়েছে নিজস্ব সমৃদ্ধ সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও গৌরবময় ইতিহাস। হাসন রাজা, রাধারমণ দত্ত, দূরবীন শাহ, সৈয়দ মুজতবা আলী ও জেনারেল এমএজি ওসমানীর মতো কীর্তিমান ব্যক্তিত্বরা এ মাটির মূল গর্ব।
গণতন্ত্র প্রসঙ্গে রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, গণতন্ত্র অর্জন করা যেমন কঠিন, তা রক্ষা করা আরও বেশি জরুরি। স্বৈরাচারী শাসনের অবসানের পর দেশে গণতন্ত্র চর্চার যে সুযোগ তৈরি হয়েছে, সেটিকে টেকসই প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে হবে। সরকার ও বিরোধী দল—উভয়েরই মূল দায়িত্ব হচ্ছে জাতীয় সংসদকে কার্যকর রাখা এবং আলোচনার মাধ্যমে সব ধরনের মতভেদ দূর করা।
তিনি বলেন, সিলেটে পর্যটন, কৃষি, প্রবাসী বিনিয়োগ ও গ্যাস-শিল্পের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। প্রবাসীরা বিনিয়োগে আরও এগিয়ে এলে এ অঞ্চলের চিত্র আমূল বদলে যাবে। তাই দল-মত নির্বিশেষে দেশের ও সাধারণ মানুষের কল্যাণে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। বক্তব্যকালে নিজের সহধর্মিণীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, পাশে থেকে তাঁকে সহযোগিতা করা এবং পরিবারকে সামলে রাখার জন্য তিনি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ। তিনি আরও জানান, সিলেটের মানুষের পাশে তিনি অতীতেও ছিলেন, বর্তমানেও আছেন এবং ভবিষ্যতেও থাকবেন।
সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, শ্রম ও প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এবং জাতীয় সংসদের হুইপ জিকে গৌছ। সমাবেশে জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতা, প্রশাসনের কর্মকর্তা, পেশাজীবী ও বিশিষ্ট নাগরিকরা উপস্থিত ছিলেন।
আকাশজমিন / আরআর