আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাতজনের ফাঁসির রায় ঘোষণার পরপরই সুপ্রিম কোর্ট ও হাইকোর্ট সংলগ্ন এলাকায় একটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। তবে এই ককটেল বিস্ফোরণকে কোনো বড় বিষয় হিসেবে দেখছেন না স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি জানিয়েছেন, সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনার মাধ্যমে এ ঘটনায় জড়িতদের ইতিমধ্যেই পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পুরোপুরি শনাক্ত করেছে।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সুপ্রিম কোর্ট ও হাইকোর্টের সামনে হয়তো দুজন আওয়ামী দুষ্কৃতকারী সুযোগ বুঝে একটি ককটেল ছুড়ে মেরেছে। তবে সিসিটিভি বা ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরার সব ফুটেজ দেখে পুলিশ ইতিমধ্যেই অভিযুক্তদের শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছে। এ বিষয়ে কঠোর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিস্ফোরণের নেপথ্য কারণ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, মূলত ফ্যাসিবাদের দোসরদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল যে কঠোর ও ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেছেন, তার নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ার অংশ হিসেবেই দুষ্কৃতকারীরা একটি ককটেল ছোড়ার অপচেষ্টা চালিয়েছে। এই অপতৎপরতার পেছনে অন্য কোনো গভীর কারণ রয়েছে কি না, সে বিষয়ে নিখুঁত তদন্ত করে সত্য বের করা হবে এবং অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাত শীর্ষ নেতার ফাঁসির রায় প্রদান প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ট্রাইব্যুনালের এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে দেশের সার্বিক বিচারব্যবস্থায় এক অনন্য নজির স্থাপিত হয়েছে। রায়ের প্রতিক্রিয়ায় একটা সামান্য ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে, যা কোনো বড় হুমকি বা বড় বিষয় নয়। ট্রাইব্যুনাল যে ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেছেন, তা আদালতের অত্যন্ত স্বচ্ছ ও ন্যায়সংগত সুবিচার। এই বিচারিক রায়ের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে সুবিচারের অপেক্ষায় থাকা সংক্ষুব্ধ ভুক্তভোগী পরিবার এবং পুরো দেশবাসী কাঙ্ক্ষিত সুবিচার পেয়েছেন বলে সরকার ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মনে করে।
আদালতের স্বাধীনতার বিষয় তুলে ধরে সালাহউদ্দিন আহমদ স্পষ্ট জানান, আদালতের ঘোষিত যেকোনো রায়ের ওপর সরকারের কোনো মন্তব্য বা হস্তক্ষেপ থাকে না। আমাদের বিচার বিভাগ সম্পূর্ণ স্বাধীন ও সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল সব তথ্য-প্রমাণ, তথ্যসূত্র ও সাক্ষ্যগ্রহণ বিস্তারিত পর্যালোচনার পরেই এই চূড়ান্ত রায় দিয়েছেন। বিচারিক প্যানেল স্বাধীনভাবে বিচারকার্য সম্পাদন করার পরেই যা প্রয়োজন মনে করেছেন, তাই রায় হিসেবে দিয়েছেন।
অন্য এক প্রশ্নের জবাবে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের সাম্প্রতিক ঝটিকা মিছিল ও রাজনৈতিক অপতৎপরতা সম্পর্কেও কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি জানান, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের কিছু দুষ্কৃতকারী মাঝেমধ্যেই সুনির্দিষ্ট কৌশল অবলম্বন করে নানা ধরনের অপতৎপরতা চালানোর চেষ্টা করে থাকে। এর অংশ হিসেবে তারা প্রায়শই দেশের বিভিন্ন স্থানে অল্পসংখ্যক লোকজন একত্র হয়ে একদম ভোরবেলা বা ফজরের সালাতের পরপর ঝটিকা মিছিল বের করে এবং তার সংক্ষিপ্ত ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করে থাকে।
সম্প্রতি গুলশানে অনুষ্ঠিত একটি মিছিলের প্রসঙ্গ টেনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গুলশানে জুমার নামাজ আদায়ের নাম করে বেলা ১১টার দিকে কিছু লোক কৌশলে জড়ো হয়ে হঠাৎ একটি মিছিল বের করে। পরবর্তীতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিষয়টি জানতে পেরে তাৎক্ষণিক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। তিনি আরও ব্যাখ্যা করেন, গোয়েন্দা তথ্য থাকলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বা পুলিশ প্রশাসন এতটা ধারণা করতে পারেনি যে পবিত্র জুমার নামাজ পড়ার বাহানায় এসে কোনো গোষ্ঠী এমন একটি কাজ করতে পারে। ফলে এটিকে পুলিশের কোনো পেশাগত ব্যর্থতা বলার সুযোগ নেই। পরবর্তীতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।