ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
৯০ দিন বাড়ল ডাকসুর সময়সীমা, তফসিল ঘোষণাতেই বাতিল হবে কমিটি হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৬ জনের মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১৩১৬ ডেঙ্গুতে একদিনে আরও ৮ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১৫৯৩ ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার মধ্যেই চীন সফরে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি কিম জং উনের ছেলে সন্তান ঘিরে রহস্য, উত্তরসূরি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে তর্ক বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতে চীনের ব্যাপক বিনিয়োগের আহ্বান স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ডিএসসিসি কার্যালয়ে প্রশাসকের ঝটিকা পরিদর্শন জ্বালানি হামলা বন্ধের প্রস্তাবে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে কী বলল মস্কো? পবিত্র মক্কা, জেদ্দা ও তাইফে জরুরি সতর্কতা জারি করল সৌদি আরব ৭ জনের ফাঁসির রায়ে ককটেল বিস্ফোরণ বড় বিষয় নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

যুদ্ধবিরতি থেকে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ

২০২৬ সালের সিভিল ডিফেন্স গাইডলাইন প্রকাশ করল ইরান


  • আপলোড সময় : মঙ্গলবার ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সময় : ৮:১৭ পিএম

যুদ্ধের অবসান, যুদ্ধবিরতি কিংবা পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ—এই তিন সম্ভাব্য পরিস্থিতিকে সামনে রেখে ২০২৬ সালের নতুন ও বিস্তৃত বেসামরিক প্রতিরক্ষা পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে ইরান। সম্ভাব্য সকল প্রকার মানবসৃষ্ট ও শত্রুভাবাপন্ন সামরিক হুমকি মোকাবিলায় দেশের জনগণের সর্বাত্মক প্রস্তুতি, গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় অবকাঠামো সুরক্ষা প্রদান এবং যেকোনো সংকটময় মুহূর্তে জরুরি পরিষেবাগুলো সচল রাখাকে এই পরিকল্পনায় সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার প্রদান করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভির প্রকাশিত এক বিশেষ প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।


ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফ এবং বেসামরিক প্রতিরক্ষা বিষয়ক স্থায়ী কমিটির প্রধান মেজর জেনারেল আলি আবদোল্লাহি মোট ১০টি সুনির্দিষ্ট ধারায় এ সংক্রান্ত একটি সার্বিক নির্বাহী নির্দেশনা জারি করেছেন। জারি করা প্রজ্ঞাপন ও নির্দেশনায় বলা হয়েছে, আগামী ২০২৬ সালের ২৬ অক্টোবর থেকে ২ নভেম্বর পর্যন্ত দেশব্যাপী অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে ‘বেসামরিক প্রতিরক্ষা সপ্তাহ’ পালন করা হবে। এবারের বেসামরিক প্রতিরক্ষা সপ্তাহের মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে—‘জনকেন্দ্রিক বেসামরিক প্রতিরক্ষা, সহনশীল ইরান’।


ইরানের শীর্ষ সামরিক নেতৃত্বের প্রকাশিত এই সমন্বিত পরিকল্পনায় উদ্ভূত সার্বিক পরিস্থিতিকে তিনটি স্পষ্ট ভাগে ভাগ করে আলাদা রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে। প্রথম পরিস্থিতি হিসেবে ধরা হয়েছে ‘স্বাভাবিক পরিস্থিতি ও যুদ্ধের চূড়ান্ত সমাপ্তি’। দ্বিতীয় পরিস্থিতিটি নির্ধারণ করা হয়েছে ‘মধ্যবর্তী পরিস্থিতি; যেখানে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধও নেই, আবার কাঙ্ক্ষিত শান্তিও নেই’—অর্থাৎ চলমান যুদ্ধবিরতি বা সামরিক উত্তেজনার স্থিতি অবস্থা। আর তৃতীয় পরিস্থিতি হিসেবে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে সরাসরি ‘পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ’ বা বিস্তৃত সামরিক সংঘাতকে। প্রতিটি ভিন্ন ভিন্ন পরিস্থিতির ঝুঁকি বিশ্লেষণ করে সে অনুযায়ী আলাদা প্রস্তুতি, মাঠপর্যায়ের মহড়া এবং নানামুখী প্রতিরক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার স্পষ্ট ও কঠোর নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।


পরিকল্পনার প্রধান লক্ষ্য হিসেবে ২০২৬ সালজুড়ে দেশের সাধারণ জনগণের মধ্যে সামরিক ও বেসামরিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রতিরক্ষা কৌশলের মৌলিক নীতি ও নিয়মাবলী সম্পর্কে সময়োপযোগী প্রশিক্ষণ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। বিশেষ করে আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রের পরিবর্তিত গতি প্রকৃতি ও নতুন ধরনের শত্রুভাবাপন্ন হুমকি মোকাবিলায় সাধারণ মানুষের ব্যবহারিক দক্ষতা ও সক্ষমতা বহুগুণ বাড়ানোর ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দেওয়া হয়েছে।


প্রতিরক্ষা নির্দেশনায় সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, মাঠপর্যায়ের মহড়া ও কারিগরি প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে ভূমিকম্প, বন্যা বা সাইক্লোনের মতো স্বাভাবিক প্রাকৃতিক দুর্যোগের পরিবর্তে মানবসৃষ্ট, অপ্রাকৃতিক ও সরাসরি শত্রুতামূলক সামরিক হুমকি মোকাবিলার বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার তালিকায় শীর্ষে রাখা হবে। জাতীয়, প্রাদেশিক, প্রাতিষ্ঠানিক, স্থানীয় পৌরসভা এবং সশস্ত্র বাহিনীর শাখাগুলোর সমন্বয়ে সর্বস্তরে এই জারি করা নির্দেশনা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা হবে। এসব প্রশাসনিক পর্যায়ে বেসামরিক প্রতিরক্ষার সম্ভাব্য পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে নিজ নিজ কার্যকরী পরিকল্পনা নিয়মিত হালনাগাদ করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।


একই সঙ্গে ইরানের সামরিক ইতিহাসের অতীতের দ্বিতীয় ও তৃতীয় ‘আরোপিত যুদ্ধের’ বাস্তব অভিজ্ঞতা ও শিক্ষাগুলোকে বর্তমান পরিস্থিতি বিশ্লেষণ এবং কার্যকরী প্রতিরক্ষা পরিকল্পনা পর্যালোচনার ক্ষেত্রে বিশেষভাবে বিবেচনায় নেওয়ার দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ইরানের তথ্য ও সামরিক সুত্র অনুযায়ী, এসব বহুমুখী সময়োপযোগী উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য হলো যেকোনো ধরনের মানবসৃষ্ট ও বহিরাগত হুমকি মোকাবিলায় দেশটির প্রতিটি নাগরিকের সচেতনতা ও ব্যবহারিক প্রতিরক্ষা দক্ষতা বৃদ্ধি করা এবং চরম সংকাটাপন্ন পরিস্থিতিতেও দেশের অতীব গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোর সুরক্ষা ও জাতীয় স্থিতিস্থাপকতাকে বহুগুণ শক্তিশালী রাখা।


এ সম্পর্কিত আরো খবর