সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি / : 159
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
সিরাজগঞ্জের তাড়াশে ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রতিমা তৈরীর কারিগররা। চলতি বছরে এই উপজেলায় ৫০টি পুজা মন্ডপে শারদীয় উৎসব শুরু হবে। তবে বাজারপাড়া দুর্গা মন্দিরের পুজা নিয়ে এখনও অনিশ্চয়তা আছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছের তাড়াশ উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আশুতোষ সান্যাল। দুর্গোৎসব সুষ্ঠ, সুন্দর ও নির্বিঘ্নে শেষ করার জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। এদিকে পুঁজার আর বেশী দেরি নাই তাই প্রতিমা তৈরীর কারিগররা ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন।
এ বিষয়ে কারিগর কালাচাঁন সুত্রধর বলেন, ছোট বেলা থেকেই এই পেশাতে আছি, জীবনের বেশীর ভাগ সময়ই প্রতিমা তৈরীর কাজ করে কাটিয়ে দিলাম, কিন্তু শিল্পির মর্যাদা আর পেলাম না। তিনি আরও বলেন, সাধারনত বাড়িতেই প্রতিমা তৈরী করি। শুধু রং এর কাজটা যে মন্দিরে পূজা হবে সেখানে গিয়ে করে দেই। কিন্তু যেখানে যোগাযোগ খারাপ সেখানে গিয়েই সমস্ত কাজ করে দেই। বাজারে রং সহ সকল জিনিস পত্রের দামই বেশী, সে তুলনায় পরিশ্রমের দাম বাড়ছে না তাই এই পেশায় টিকে থাকাই কঠিন হয়ে যাচ্ছে।
কারিগরের মেয়ে, নীপা রানী সুত্রধর বলেন, পরিবারের সদস্যদের প্রতিমা তৈরী করা দেখে দেখেই বড় হয়েছি, যা দেখতে বেশ ভালোই লাগে। বংশ পরম্পরায় চলে আসা মৃৎশিল্প টিকিয়ে রাখতে মৃৎশিল্পীর স্বীকৃতির পাশাপাশি আর্থিক প্রনোদনা দেবার দাবীও জানান তিনি।
কারিগরের স্ত্রী বিমলা রানী সুত্রধর বলেন, দেবী দুর্গা দুর্গতিনাশীনী। দেবী দুর্গা কখনো দশভূজা (দশটি হাত থাকায়, একেক হাতে একেক অস্ত্র ও আর্শিবাদ) কখনো আদ্যাশক্তি মহামায়া, কখনো বা উমা নামে পরিচিতা।
কারিগর বিশ্বজিদ সুত্রধর বলেন, শাস্ত্রমতে তিথির মাধ্যমে শারদীয় দুর্গোৎসব বা অকাল বোধনের ঘট স্থাপনের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে ও বিজয়া দশমীর মধ্যে দিয়ে শেষ হবে শারদীয় দুর্গোৎসব। তিনি আরো বলেন, পুজার আয়োজকরা যদি পুর্ব থেকে প্রতিমা তৈরীর চাহিদা দিত, তাহলে আমাদের কাজ করতে সুবিধা হত। প্রতিমা তৈরীর উপকরণ খড়, বাঁশ, কাঠ, দড়ি, রং ইত্যাদির দাম বাড়লেও আমাদের পরিশ্রমের দাম সে তুলনায় বাড়েনি।
তিনি বলেন, হিন্দু শাস্ত্র অনুযায়ী মনে করা হয়, দেবীর দুর্গার মর্তে আগমন ও গমন যে বাহনে, তার ওপর নির্ভর করে গোটা বছরটা পৃথিবী বাসীর কেমন কাটবে। তিনি আক্ষেপ করে আরো বলেন, প্রতি বছরই দেবী আসে যায় কিন্ত আমাদের ভাগ্যন্নয়ন হয়না। আর এ কারণে অনেকে পৈতৃক পেশা পাল্টিয়ে অন্য পেশায় নিয়োজিত হচ্ছে। তিনি আরও জানান, এখানে আমরা ৩ জন কারিগর প্রতিমা তৈরীর কাজ করি। এবছর ৩টি প্রতিমার চাহিদা পেয়েছি। প্রতিটি প্রতিমা তৈরী করতে ১২/১৫ দিন সময় লাগে এবং প্রতিটি প্রতিমা তৈরী করতে সাধারনত ১৮ থেকে ২০ হাজার টাকা নেই। তবে গ্রাহকের চাহিদা অনুযায়ি তৈরী করতে চাইলে এই খরচ কিছুটা বেড়ে যায়।
তাড়াশ উপজেলা পুজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আশুতোষ সান্যাল বলেন, এ বছর এই উপজেলায় মোট ৫০টি মন্ডপে শারদীয় দুর্গোৎসব অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে তাড়াশ পৌরসভায় ও সদর ইউনিয়ন মিলে -১৫টি, মাধাইনগর ইউনিয়নে -৭টি, দেশীগ্রাম ইউনিয়নে -১০টি, তালম ইউনিয়নে -৮টি, বারুহাঁস ইউনিয়নে - ৫টি, মাগুড়া বিনোদ ইউনিয়নে-৩টি ও নওগাঁ ইউনিয়নে-২টি মন্ডপে শারদীয় দুর্গোৎসব অনুষ্ঠিত হবে। এবার দেবী দুর্গা আসছেন ঘটকে চড়ে আর দেবী দুর্গা বা উমা কৈলাসে ফিরবেন নৌকায় করে। পূজা যেন সবাই মিলেমিসে নির্বিগ্নে আনন্দের সাথে পালন করতে পারেন এ বিষয়ে সকলের সহযোগিতাও চান।
উল্লেখ্য, এ বছর ২০২৬ সালে মহালয়া পড়েছে ১০ অক্টোবর, মহাপঞ্চমী - ১৫ অক্টোবর, মহাষষ্ঠী- ১৬ অক্টোবর, মহাসপ্তমী - ১৭ ও ১৮ অক্টোবর, মহাঅষ্টমী - ১৯ অক্টোবর, মহানবমী - ২০ অক্টোবর এবং মহাদশমী - ২১ অক্টোবর।