গাজীপুরের কাশিমপুর থানার চক্রবর্তী এলাকায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ঝালমুড়ি বিক্রেতার ছুরিকাঘাতে গাজী রাফিস আহমেদ (৩২) নামের এক পোশাক শ্রমিক নিহত হয়েছেন। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে সংঘটিত এই হত্যাকাণ্ডের পর রাফিসকে গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত রাফিস আহমেদের গ্রামের বাড়ি খুলনার দাকোপ থানার বাঁশখালী গ্রামে। তার বাবার নাম খোরশেদ আলম গাজী। তিনি পরিবার নিয়ে গাজীপুরের চক্রবর্তী এলাকায় বসবাস করে স্থানীয় একটি তৈরি পোশাক কারখানায় চাকরি করতেন।
নিহতের স্বজন ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বুধবার রাতে চক্রবর্তী এলাকার রাস্তার পাশে একটি দোকানে ঝালমুড়ি খাওয়ার সময় পাশের এক ঝালমুড়ি বিক্রেতার সঙ্গে কয়েকজন পথচারীর বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। বিষয়টি মীমাংসা করতে রাফিস এগিয়ে গেলে অভিযুক্ত বিক্রেতা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং নিজের কাছে থাকা ধারালো ছুরি দিয়ে রাফিসসহ দুজনকে এলোপাতাড়ি আঘাত করেন। এতে রাফিসের পেটের ডান পাশে গভীর জখম হয়। প্রথমে তাকে স্থানীয় হাসপাতালে এবং পরে অবস্থার অবনতি হলে রাত ১টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে পৌঁছানোর পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পরপরই স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় অভিযুক্ত ঝালমুড়ি বিক্রেতাকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। নিহতের স্বজনদের দাবি, অভিযুক্ত ওই ব্যক্তি কিছুটা মানসিক ভারসাম্যহীন। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. হাবিবুর রহমান চিকিৎসকের বরাত দিয়ে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে এবং এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট থানাকে অবহিত করা হয়েছে।