বেসামরিক ও শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরিচালিত পারমাণবিক কর্মসূচি থেকে ইরান কখনোই পিছু হটবে না বলে দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। স্থানীয় সময় বুধবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের মূল মঞ্চে দেওয়া এক ভাষণে তিনি তেহরানের এই অনমনীয় অবস্থানের কথা বিশ্বনেতাদের স্পষ্ট জানিয়ে দেন। পারমাণবিক প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কিছু দেশের একচেটিয়া আধিপত্য ইরান মেনে নেবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক নিয়মের তোয়াক্কা না করে নিজস্ব জলসীমায় নৌচলাচল নিয়ন্ত্রণের অধিকারও অন্য কোনো শক্তির হাতে ছেড়ে দেওয়া হবে না।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ভাষণে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার বিষয়টি তীব্র ভাষায় তুলে ধরেন ইরানি প্রেসিডেন্ট। তিনি অভিযোগ করেন, মিনাবের একটি স্কুল ও স্টেডিয়ামে মার্কিন বাহিনীর হামলায় বহু নিরস্ত্র মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।
এছাড়া ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে হত্যার প্রসঙ্গ টেনে তিনি জানান, ওয়াশিংটনের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে তেহরান যা করেছে, তা সম্পূর্ণভাবে তাদের আত্মরক্ষামূলক সামরিক পদক্ষেপ ছিল। নিজেদের সুরক্ষার স্বার্থে দেশের শক্তি অর্জন অপরিহার্য উল্লেখ করে তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করেন যে, মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে বৈধ প্রতিরোধ গড়ে তুললেই পশ্চিমা শক্তিগুলো সেটিকে ‘সন্ত্রাসবাদ’ ও ‘অস্থিতিশীলতা’ বলে অপপ্রচার চালায়।
আন্তর্জাতিক পরিদর্শনের দ্বিমুখী নীতির তীব্র সমালোচনা করে পেজেশকিয়ান বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েলের কাছে প্রকাশ্যেই পারমাণবিক অস্ত্র থাকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে, অথচ তাদের পরমাণু কর্মসূচি কড়া আন্তর্জাতিক পরিদর্শনের মুখোমুখি হয় না। উল্টো নিরপরাধ মানুষ হত্যার দায়ে অভিযুক্ত ইসরায়েলকে ছাড় দিয়ে একমাত্র ইরানকেই অন্যায়ভাবে কঠোর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে হচ্ছে।
এ সময় জাতিসংঘের মঞ্চ থেকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে তিনি একে ‘আধিপত্যবাদী মানসিকতা’ ও ‘দম্ভের বহিঃপ্রকাশ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। পেজেশকিয়ান হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, বাহ্যিক হুমকি ও চাপ প্রয়োগ করে ইরানের স্বাধীনতাকামী জনসাধারণকে দমিয়ে রাখা যাবে না, বরং যেকোনো আগ্রাসন তেহরানবাসীকে আরও বেশি ঐক্যবদ্ধ করবে।
সূত্র: আল-জাজিরা