বৈশ্বিক অর্থনীতিতে ব্লু ইকোনমি বা নীল অর্থনীতির অপার সম্ভাবনাকে পুরোপুরি কাজে লাগাতে হলে সরকারি ও বেসরকারি উভয় খাতের সম্মিলিত বিনিয়োগ এবং সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ওপর জোর দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের মেরিনাররা অত্যন্ত দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন উল্লেখ করে বলা হয়েছে, দুয়েকটি বিচ্ছিন্ন ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশের সুনাম ক্ষুণ্ন করার যেকোনো ধরনের অপচেষ্টা সম্পূর্ণ অসত্য ও বিভ্রান্তিকর।
আজ বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে চট্টগ্রামের জুলদিয়ায় অবস্থিত ঐতিহাসিক বাংলাদেশ মেরিন একাডেমির চৌষট্টিতম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী এবং বিশ্ব সামুদ্রিক দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য যৌথ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম এই গুরুত্বপূর্ণ কথাগুলো বলেন।
অনুষ্ঠানে নৌ-পরিবহন মন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে মেরিনারদের ভিসা সংক্রান্ত জটিলতার বিষয়টি তুলে ধরে বলেন, ‘বাইরে গিয়ে আমাদের নাবিকেরা যখন চাকরির পর জাহাজে উঠতে চান, সেখানে ভিসাগত কিছু সমস্যা তৈরি হয়। বিষয়টি ইতোমধ্যে আমি জেনেছি এবং তা দ্রুত সমাধানের লক্ষ্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে প্রয়োজনীয় কথাবার্তাও বলেছি। এই প্রতিবন্ধকতাগুলো আমরা যেকোনো মূল্যে দূর করতে চাই।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বর্তমান বিশ্বের প্রায় আটশ কোটি মানুষের অর্থনৈতিক গতিশীলতা ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সফলভাবে পরিচালিত হচ্ছে মাত্র সাড়ে আঠারো লাখ সমুদ্রগামী মানুষের প্রচেষ্টায়। ফলে এই সামুদ্রিক খাতের সার্বিক তত্ত্বাবধান, সরকারি মনোযোগ এবং বিনিয়োগ বহুগুণ বৃদ্ধি করা সময়ের দাবি।
অনুষ্ঠানে অন্যান্য বক্তারা বলেন, কেবল দক্ষ সমুদ্রগামী নাবিক তৈরি করলেই বাংলাদেশের বিশাল সামুদ্রিক বা সমুদ্রভিত্তিক অর্থনীতির সুফল পুরোপুরি ঘরে তোলা সম্ভব হবে না। নীল অর্থনীতিকে দীর্ঘমেয়াদে টেকসই করতে হলে জাহাজ পরিচালনা, আধুনিক বন্দর ব্যবস্থাপনা, জাহাজ নির্মাণ ও মেরামত, পুরোনো জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াকরণ বা শিপ রিসাইক্লিং, সামুদ্রিক বিমা এবং তীরভিত্তিক বহুমুখী সেবা খাতের ব্যাপক সম্প্রসারণ ঘটানো অতি জরুরি। উল্লেখ্য, এ বছরের বিশ্ব সামুদ্রিক দিবসের মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, ‘নীতি থেকে বাস্তবায়ন: সামুদ্রিক উৎকর্ষের পথে এগিয়ে যাওয়া’। আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক নীতি ও প্রতিশ্রুতিগুলো কঠোরভাবে বাস্তবায়নের মাধ্যমে নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব সমুদ্র খাত গড়ে তোলাই এর মূল উদ্দেশ্য।
কর্ণফুলী নদীর মোহনায় অবস্থিত জুলদিয়ার বাংলাদেশ মেরিন একাডেমি গত ছয় দশকেরও বেশি সময় ধরে আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে অত্যন্ত সুনামের সঙ্গে সামুদ্রিক শিক্ষা প্রদান করে আসছে। একাডেমি থেকে এ পর্যন্ত প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত পাঁচ হাজারের অধিক মেরিনার দেশি-বিদেশি বিভিন্ন বাণিজ্যিক জাহাজে সুনামের সঙ্গে কর্মরত থেকে দেশের অর্থনীতিতে বিশাল অঙ্কের বৈদেশিক রেমিট্যান্স অবদান রেখে চলেছেন। বর্তমানে এই একাডেমির একশো পঁচিশ জনেরও বেশি প্রশিক্ষিত নারী মেরিনার অত্যন্ত সাহসিকতা ও দক্ষতার সঙ্গে পেশাগত দায়িত্ব পালন করছেন।
স্বাগত বক্তব্যে একাডেমির কমান্ড্যান্ট ক্যাপ্টেন কাজী এবিএম শামীম বলেন, সঠিক নীতিমালার যথাযথ বাস্তবায়ন এবং আধুনিক সম্ভাবনার পূর্ণ উৎকর্ষ সাধনের মাধ্যমেই কেবল বঙ্গোপসাগরের অর্থনৈতিক সুফল বাংলাদেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে সফলভাবে যুক্ত করা সম্ভব। উক্ত অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা-কর্ণফুলী) আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজাম এবং নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. জাকারিয়া।